
খবর: http://parstoday.com/bn/news/india-i20431
ভারতের গুজরাটে এক মুসলমান দুইটি বাছুর নিয়ে যাচ্ছিলো, তাকে গোরক্ষক কমিটির লোকজন পিটিয়ে মেরে ফেলেছে, আর ভারতীয় পুলিশ উল্টা মামলা করেছে ঐ নিহত মুসলমানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ ঐ লোক বাছুর দু'টিকে হত্যার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিলো। ঐ লোক বাছুর দু'টিকে হত্যা করার জন্য নিয়ে যাচ্ছিলো তার কোন প্রমান দরকার নেই। গোরক্ষক কমিটির অভিযোগই যথেষ্ট।
ধর্মের নামে প্ররোচনা দিয়ে কীভাবে একদল মানুষকে উন্মত্ত করে তোলা যায় ‘দাদরি’-র ঘটনা তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিল। ‘দাদরি’তে স্রেফ গুজব রটনা হয়েছিল যে, বাড়িতে ফ্রিজে গরুর মাংস রাখা আছে! হিমাচল প্রদেশে ‘‘ট্রাকে গরু আর মানুষ একসঙ্গে কেন’’ এই অপরাধে কয়েকটা লোকের প্রাণ গেল।
গ্রেপ্তার বা শাস্তি দেওয়া হোক না হোক যারা খুন করেছে ভারতীয় আইনে তারা অপরাধী। ধর্মের জিগির তুলে এই ধরনের মানুষ হত্যা চালাচ্ছে, আইনের চোখে তারা অবশ্যই অপরাধী। যারা ধর্মের নামে এই উন্মত্ততা তৈরি করছে তাদের অপরাধ কিছু কম নয়। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, বি জে পি অর্থাৎ আর এস এস এবং তাদের শাখা-প্রশাখা সারা ভারতে রাজনৈতিক স্বার্থেই এই উন্মত্ততা তৈরি করছে।
সনাতন (হিন্দু) ধর্মের অন্যতম ধর্মীয়গুরু স্বামী বিবেকানন্দের এক ধটনার কথা মনে পড়ে গেল।
স্বামী বিবেকানন্দের কাছে একবার গোরক্ষিনী সভার এক কর্তা এলেন গরুর ছবি নিয়ে। তিনি গরুদের রক্ষা করতে চান। যে হারে গো নিধন হচ্ছে, তাতে গরুদের ক্রান্তিকাল।
স্বামীজী বললেন, খুব ভালো কথা। কিন্তু মধ্য ভারতে দুর্ভিক্ষে অনাহারে মাড়িতে যে ৯ লাখ লোক মারা গেল সেজন্যে আপনারা কি করেছেন?
কর্তার জবাবঃ আমরা শুধু গরুদের সুরক্ষা নিয়ে কাজ করি। প্রভু মানুষকে শাস্তি দিলে আমাদের তো কিছু করার নাই।
স্বামীজীঃ ধরুন এখানে প্রভু গরুদেরও শাস্তি দিচ্ছেন। মানুষের হাতে নিধন হচ্ছে প্রভুর কোন অভিশাপে।
কর্তাঃ শাস্ত্রে গরুকে মাতা বলা হয়েছে। মা-কে রক্ষা করা আমাদের ধর্ম।
স্বামীজী বললেন, সেই মায়ের সন্তানদের দেখতে পাচ্ছি।
( বি:দ্র: এই পোষ্টকে কেউ সাম্প্রদায়িক কিংবা সাম্প্রদায়িক উষ্কানিমূলক পোষ্ট হিসেবে দেখবেন না। কারন
আমি ভারতের বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে কথা গুলো বলছি। আর বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির দেশ। এখানে সর্বদা সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি বজায় থাকবে ইনশাল্লাহ)
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ৮:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




