somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্মৃতির জানালায়

২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৩:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অবাক হয়ে আমি দরজা দুটোর দিকে তাকিয়েই থাকতাম। দু'টো দরজাই বন্ধ। কিন্তু দরজায় কোন ছিটকিনি দেখা যাচ্ছেনা। বাবা বলেছেন এই দরজা নিজে নিজেই খোলে আর বন্ধ হয়, অনেকটা আলিবাবা ও চল্লিশ চোর গল্পের ধনভাণ্ডারের দরজার মত। একথা শোনার পর থেকেই এই দরজার প্রতি আমার দুর্নিবার আকর্ষণ - মাঝে মাঝেই এসে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকি। কিন্তু দরজা খোলে না,কারণ এটা লিফটের দরজা,বাবা বলেছেন এটা কারেন্ট দিয়ে চলবে, দরজা খুল্লেই ভিতরে ছোট একটা ঘর মানুষদের নিয়ে একতালা থেকে ছয়তালা পর্যন্ত ওঠানামা করবে। এই ব্যাপারটা কিছুতেই বুঝতে পারছিলামনা। মানুষেই না সিঁড়ী দিয়ে উপর নীচের ঘরে যাতায়াত করে-মানুষ দাঁড়িয়ে থাকবে আর ঘর ওঠানামা করবে এমন আশ্চর্য ব্যাপার কি সম্ভব ! সম্ভব কিনা তা আর যাচাই করে দেখার সুযোগ হয় নি কারণ আমরা থাকাকালীন লিফটে কারেন্ট লাগেনি। অবশ্য এর আআগে জীবনে একবারই লিফট দেখেছি ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে, সেটা একটা খাঁচার মত, কলাপসিবল গেট লাগানো। খাঁচায় বন্দী হয়ে ওঠানামা ব্যাপারটা মোটেও ভাল লাগে নি। তাই এই লিফটটা দেখার জন্য এত আকুলতা। লিফটট এক মস্ত বাড়ীতে লাগান হয়েছিল কিন্তু তখনো চালানো হয় নি। মফস্বল শহর থেকে দুই চার দিনের জন্য ঢাকায় আসলে আমরা এই বাড়ীটাতে থাকতাম। সামনে পিছনে দু'টো বাড়ী, সামনের বাড়ীটার বাসিন্দারা স্থায়ী ভাবে থাকতেন আর পিছনের বাড়ীটার বাসিন্দারা অল্প সময়ের জন্য থাকতেন। একে বলা হত সার্কিট হাউস। প্রথমবার এই বাড়ী দেখেও আমি খুব অবাক হয়েছিলাম - এত উঁচু বাড়ী হয়! মফস্বলে তো হাতে গোনা কয়েকটা দোতালা বাড়ী দেখেছি, আর ঢাকার সব সরকারি কলোনির বাড়ী তিনতালা। উঁচু বাড়ী বলতে ছিল হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, শাহবাগ হোটেল আর সেকেন্ড ক্যাপিটালে (আজকের শেরে বাংলা নগরে) বানানো হচ্ছিল একটি মস্ত উঁচু বাড়ী, কিন্তু সেসবে যাবার সৌভাগ্য তো আমার হবে না। তাই যখন এই ছয়তালা বাড়ীটা দেখলাম আর শুনলাম এই বাড়িতে পাচ তালায় থাকতে পারব, তখন আমার খুশি দেখে কে! তখন পর্যন্ত লিফটের কথা জানতাম না।

আমাদের পুরো পরিবারের জন্য দেড়খানা ঘর। তাতে কি, বিশাল জানালা দিয়ে নীচে বহুদূর অবধি দেখা যায়, ময়মনসিংহ রোড (এখন কাজী নজরুল ইসলাম রোড) ধরে মাঝে মাঝে গাড়ী, বেবি টেক্সির ছুটে চলা দেখা যায়, দেখা যায় একটা সুন্দর দোতলা বাড়ী, তারপরই হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল । আমি জানালার পাশে বসে শুধু রাস্তা দেখতাম, দিনে রাতে তার রূপ আলাদা। একদিন অনেক রাতে ঘুম ভেংগে গিয়েছিল, ঘরে সবাই বিছানাতে, মেঝেতে ঘুমাচ্ছে। আমি জানালার পাশে গিয়ে দেখলাম স্ট্রীট লাইট এর আলোতে কি অপরূপ দেখাচ্ছে নীচের সবকিছুকে। দেখে মুগ্ধ হলাম আর তারপর দশকের পর দশক এই মুগ্ধতাকে বুকের মধ্যে রেখে দিলাম।

সেটা ১৯৬৯ সাল, সেবছর মানুষ প্রথমবার চাঁদে গেছে। তবুও, একটা ছয়তালা বাড়ীতে কদিন থাকার আনন্দে আমার মন ভরে গিয়েছিল।

তারপর কতকাল কেটে গেল। কোরবানির ঈদের রাতে যাচ্ছিলাম কাজী নজরুল ইসলাম রোড ধরে। ঈদের রাত বলেই হয়ত রাস্তা একেবারে খালি ছিল। হঠাত বাঁয়ে তাকিয়ে দেখি সেই ছয়তালা বাড়ী দু'টো - পাশের দোতালা বাড়ীটা এখন মস্ত বহুতল বাড়ী । তার নাম এখন UNIQUE HEIGHTS। চেষ্টা করলাম গাছের ফাঁক দিয়ে আমার জানালাটা দেখার, যদি কেউ আমার মত জানালায় বসে থাকে। অবশ্য জানি এখন আর কেউ জানালায় বসে রাস্তা দেখে না। তাই কি কেউ দেখে-.এখনতো স্মার্ট ফোন, ট্যাব কত কিছু আছে। যখন খুশী হাতের মুঠোর মধ্যে বিশ্বজগত দেখা যায়।



ছবি: গুগল ম্যাপ। জানালা থেকে আগে রাস্তা দেখা যেত। এখন রাস্তা থেকে জানালা দেখার চেষ্টা করেও দেখতে পাইনি গাছের জন্য।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ৮:৩৩
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×