somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আজ শনিবার

২২ শে অক্টোবর, ২০১৬ রাত ৮:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মানুষ হাসে হাহা হিহি করে। আর শয়তান হাসে উঁহুই হুইহুই রেএএ এভাবে। তো বুড়ো বটগাছের ডালে ডালে আজ উঁহুই হুইহুই রেএএ হাসির হুল্লোড় বয়ে যাচ্ছে। আজ শনিবার । প্রতি শনিবার রাতে এই গাছে শয়তানদের সভা বসে। বড় শয়তানের অধীনে আছে মেজো, সেজো আর ছোট শয়তান আর তাদের প্রত্যেকের অধীনে আছে আরো একপাল ছানা শয়তান । ছানাদের কাজ হচ্ছে মানুষের মনে হিংসা বিদ্বেষ অহংকার ছড়িয়ে দেয়া যাতে একজন মানুষ অন্য একজন মানুষের কষ্টের কারণ হয়। মানুষের যন্ত্রণা, কান্না আর কষ্ট দেখতে পেলে শয়তানদের মহা উল্লাস হয়। তারা সারাদিন ঘুরে ঘুরে মানুষের দুর্দশার খবর জোগাড় করে, নিজের নিজের ফাইলে খবরগুলো সাজায় আর সারা সপ্তাহের রিপোর্ট তাদের বসের কাছে দেয় আর বস সেগুলো বড় শয়তানের কাছে পেশ করে প্রতি শনিবারে। আজ সেই শনিবার। আজ শয়তানগুলোর এত উল্লাসের কারন আজ সবাই ভারী ভারী ফাইল নিয়ে এসেছে। সারা মাসধরে দুর্দশার যতগুলো রিপোর্ট করতে পারে আজ মাত্র একদিনেই ততগুলো রিপোর্ট তৈরি হয়েছে। তাই কিছুক্ষণ পর পর শোনা যাচ্ছে - উঁহুই হুইহুই রেএএ....

বড় শয়তান হাততালি দিয়ে সভার কাজ শুরু করল। প্রথমে মেজো শয়তানের রিপোর্ট দেবার পালা। মেজো শয়তানের কাজ ছাত্রদের নিয়ে। ছাত্রদের লেখাপড়া থেকে দূরে রাখা, পড়াশোনা ছাড়া অন্য কাজে জড়ান, এমন অবস্থা তৈরি করা যে একজন ভাল ছাত্র পরীক্ষাই দিতে পারে না এসব করা মেজোর দায়িত্ব । "বল মেজো, আজ কয়টা ছাত্রর দুর্দশা হল? "

"উঁহুই হুইহুই রেএএ... অগুনতি ছাত্রের, বস। মজা যা হল আজ বুয়েটে। আজ ছিল ভরতি পরীক্ষা। বুয়েট থেকে কাল সারাদিন টিভিতে, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে, এমনকি ছাত্রদের এস এম এস করে বলেছে যানজট থাকতে পারে, ছাত্ররা যেন অনেক আগেই পরীক্ষা দিতে আসে। মজাটা কি হল - সব ছাত্রই আগে রওয়ানা দিয়েছে কিন্তু অনেকেই দেরি করে পৌঁছানোয় আর পরীক্ষাই দিতে পারে নি। পরীক্ষা দিতে পারলে এরা নিশ্চিত চান্স পেত, একজন তো কোচিং সেন্টারের পরীক্ষায় সবসময় প্রথম পাঁচজন এর মধ্যে থাকত। উঁহুই হুইহুই রেএএ বুয়েটের বন্ধ গেটের শিক ধরে কি শূন্য চোখে তারা সিভিল বিল্ডিং এর দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল! "

"দেরী হল কেন, যানজট? "

"আরে না! যানবাহনের অভাবে। আজ সকালে শহরে পাব্লিক পরিবহন ছিল না বললেই চলে। তাই অনেক পরীক্ষার্থী দীর্ঘ পথ হেটে পাড়ি দেয়। তাতে কেউ সময়মত এসে পৌঁছালেও ক্লান্তিতে ঠিকমত লিখতেও পারেনি। দেখোনা, শনিবার ছুটির দিন বলে যাত্রাবাড়ী থেকে বুয়েটে পৌঁছাতে অন্যসময় লাগে আধা ঘণ্টা, আর আজ এক পরীক্ষার্থী তিনঘণ্টা আগে রওয়ানা দিয়েও সময়মত পৌঁছাতে পারেনি যানের অভাবে। আরো মজা, এই ছেলেটা খুব ভাল ছাত্র হলেও খুব গরীব। মায়ের দুল বেচে কোচিং এ ভরতি হয়েছিল। খুব স্বপ্ন ছিল বুয়েটে পড়বে। এখন পুরো পরিবার হতাশায় ডুবে গেছে। উঁহুই হুইহুই রেএএ...."

"গুড জব, মেজো! আর কোন ছাত্রের বারোটা বাজাস নি "

" বাজিয়েছি। বিশেষ করে যাদের এস এস সির টেস্ট পরীক্ষা চলছিল। যানবাহনের অভাবে অনেকেই পরীক্ষা দিতে যেতে।পারে নি। যেসব স্কুল-কলেজ আজ খোলা ছিল তাদের বেশির ভাগই গানের আওয়াজে ঠিকমত পড়াতে পারে নি। "

"তোমার কি রিপোর্ট সেজো? তোমার কাজ তো রোগীদের ভোগান্তি বাড়ান আর কারো পটল তোলার ব্যবস্থা করা যেন পুরো পরিবার পথে বসে। তা কদ্দুর কি করলে? "

"ভেরি সাকসেসফুল । আমার ছানারা বিভিন্ন হাসপাতালে পোস্টেড ছিল। রিপোর্ট বলছে, অন্ততপক্ষে ছয়জন মারা গেছে যানবাহনের অভাবে ঠিক সময়ে হাসপাতালে না পৌঁছানোয়। অনেক ডাক্তার, নারস হাসপাতালে আসতে পারে নি তাই অনেক রুগী যন্ত্রণায় ছটফট করেছে। উঁহুই হুইহুই রেএএ....."

"ছোট, তোমার ছানাদের রিপোর্ট কি? "

"আজ অনেক চাকুরীজীবীর বেতন কাটা যাবে অফিস কামাই করার জন্য। এরাও যানবাহনের অভাবে কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারে নি। তাই সারাদিন এদের মনখারাপ ছিল - উঁহুই হুইহুই রেএএ...এছাড়া সারাদিন ধরে একই গান একটানা শুনে অনেকের মাথা ব্যথা হয়েছে। ভোর সাড়ে পাঁচটায় যখন কেউ কেউ নামাজ পড়ছিল তখনি গান শুরু হওয়ায় তারা ঠিকমত নামাজও পড়তে পারেনি! উঁহুই হুইহুই রেএএ..."

"ওরে, আজ তোরা আমাকে কত ভাল খবর দিলি রে। তোদেরকেও আমি একটা ভাল খবর দেই। আজ কিন্তু আমাদের অনেক ভাই এর জন্ম হয়েছে। "

"কই, কোথায় আমাদের সেই ভাই? "

"আরে এরা হল অপচয়কারী ভাই। দেখিস নি আজ কত অপচয় হয়েছে! কোরআন শরীফে তো আছে অপচয়কারী শয়তানের ভাই। এই ভাইএরা অনেক জায়গায় ছড়িয়ে আছে। যা যা, ভাইদের খুঁজে নে।"

বটগাছের ডালে ডালে ঝুলে শয়তানেরা তাদের সাফল্য উদযাপন করছে। আর নীচে তখন অনেক দুখী তরুণ স্বপ্নভংগের বেদনায় দীর্ণ হচ্ছে। আজকের মত এত আলোজ্বলা রাত তারা জীবনেও দেখেনি -তবু তাদের মনে হচ্ছে যেন তাদের জীবনের আধারতম রাত আজ শনিবার রাত।

(ছোটবেলায় পড়া গল্প অবলম্বনে)
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে অক্টোবর, ২০১৬ রাত ১০:৪৭
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বঙ্গভঙ্গ থেকে চব্বিশ, পূর্ব বাংলার ইতিহাস ও বাংলাদেশের আত্মপরিচয়

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩৩

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বর্তমান সময়ে একটি বিরাট পরিবর্তনের ধাক্কা লেগেছে যা এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তর এবং আত্মোপলব্ধির ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানে দীর্ঘ পনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানল পত্রিকা পড়ে: তাহলে দূতাবাসের কাজটা কী?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:১১

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানল পত্রিকা পড়ে: তাহলে দূতাবাসের কাজটা কী?

১৪ অক্টোবর মক্কায় দুজন বাংলাদেশি নাগরিকের শিরশ্ছেদ করা হয়েছে। তাঁদের নাম নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আখতার।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৭ বিনীত, অবনত বৃক্ষ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৯

পথে যেতে চোখে পড়লো নুয়ে পড়া বৃক্ষের শাখাগুলো। মনে হলো স্রষ্টার কাছে সে যেন নিবেদিত প্রার্থনায় অবনত। সব অহংকার, সব আত্মগরিমা, কৃতিত্বের ভার সে ধীরে ধীরে ঝরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×