somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জিবোর্ড

২১ শে অক্টোবর, ২০১৮ রাত ১০:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এ বছরের শুরুর দিকে একদিন আমি মোবাইলে মেসেন্জারে কিছু লিখছিলাম, তাই দেখে আমার ভাই বলল, "একটা অ্যাপ আছে, তুই কথা বললে সেই কথা লেখা হয়ে যাবে, ইনস্টল করে দেই?"  সেই অ্যাপটার নাম জিবোর্ড। প্লে স্টোর থেকে ভাই দিল জিবোর্ড ইনস্টল করে, শুরু হলো আমার কথা বলে বলে লেখা। তখন যেমন আশ্চর্য হয়েছিলাম এখনো আমি আশ্চর্য হতেই থাকি জিবোর্ড এর বুদ্ধি(!) দেখে। মাঝে মাঝে আমি কথা না বলে যখন এর কীবোর্ড দিয়ে লিখি, তখন একটা শব্দ বললে পরের শব্দ টা জিবোর্ড নিজেই সাজেস্ট করে! মাঝে মাঝে কানে শুনতে পায় না, আমার কথা বুঝতে পারে না, তখন উল্টাপাল্টা শব্দ লেখে। মাঝে মাঝে আমার বাংলা কথা  ইংরেজি অক্ষরে লিখতে থাকে। এইটুকু ঝামেলা বাদে জিবোর্ড আমার পরম সাহায্যকারী।

 আমার ধারণা ছিল বেশিরভাগ ব্লগারই এটা ব‍্যবহার করে লিখেন কারণ এভাবে লেখা সহজ। কিন্তু আজ সকালে হঠাৎ ব্লগার ডঃ এম এ আলীর শেষ পোস্টটা পড়ে আমার মনে হল ওনার আঙুলে ব্যথার কারণে লিখতে পারছেন না, তাহলে কি উনি এভাবে লিখেন না! তাকে  জিবোর্ড এর সাজেশন দেয়ার পর ব্লগার খায়রুল আহসানের মন্তব্য দেখে মনে হল উনিও জি বোর্ড দিয়ে লিখেন না। এখন দেখছি ব্লগার বিজন রয় ও এর সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন। অতএব জি বোর্ড সম্পর্কে  লিখছি, আমার স্বল্প জ্ঞানে যতটুকু লেখা যায়, ততটুকুই।

 জিবোর্ড সম্পর্কে উইকিপিডিয়া বলছে: Gboard is a virtual keyboard app developed by Google for Android and iOS devices. It was first released on iOS in May 2016..... তবে এর সম্পর্কে তেমন কোনো তথ্য পেলাম না।

জিবোর্ড এ কথা বলে লেখাকে ভয়েস ডিকটেশন বলে । এটা লিখতে ইন্টারনেট কানেকশন দরকার হয়। ইন্টারনেট না থাকলে কি বোর্ড চেপে লেখা যায়।



এটা জিবোর্ডের বাংলা কীবোর্ডের স্ক্রীনশট । এই কীবোর্ডের প্রথম সারির একেবারে ডানদিকে যে স্পিকার দেখা যাচ্ছে, সেটা টাচ করলে কালো রঙ সবুজ হয়ে এক্টিভেটেড হয়। প্রথমে লেখা আসে স্পিক নাও, তারপর আসে লিসনিং, আমি কথা বললে তখন সেই কথাগুলো লেখা হতে থাকে, বিরতি চিহ্নবিহীন। আমি কিছুক্ষণ কথা বলে নিয়ে দাঁড়ি কমা বসাই। কীবোর্ডের পরবর্তী 5 শাড়ি (লিখতে চেয়েছিলাম  সারি)  অক্ষর। ষষ্ঠ শাড়িতে বাঁ দিকে প্রথমে আছে 123, তারপর কমা তারপর একটা গোলাকৃতি চিহ্ন। এই গোলাকৃতি চিহ্ন টাচ করলে কীবোর্ড পরিবর্তিত হয়ে ইংরেজি, এরপর ইংরেজি- বাংলা হয়। এই ইংরেজি- বাংলা কীবোর্ড টা একেবারে অভ্রের মত।

 আমি স্টিফেন হকিং সংক্রান্ত একটা পোস্ট দিয়েছিলাম, যেখানে বারবার ইংরেজি ও বাংলা লেখা লাগছিল একের পর এক। তখন আমি এই গোলকচিহ্ন ব্যবহার করে কীবোর্ড বদল করছিলাম, যখন যেমন দরকার হচ্ছিল। ইংরেজিতে গিয়ে ইংরেজিতে বললে সেটা লেখা হচ্ছিল, আবার বাংলা কীবোর্ডে গিয়ে বাংলায় বললে বাংলায় লেখা হচ্ছিল- এইরকম। একদম বাঁয়ে 123 এ টাচ করলে সংখ্যা, বিরতিচিহ্ন ইত্যাদির কীবোর্ড আসে, দরকার মতো সেটা ব্যবহার করি।

একেবারেই যে আঙ্গুল ব্যবহার করতে হয় না, তা না। স্পিকার এক্টিভেট করতে হলে বারবার আঙ্গুল দিয়ে টাচ করা লাগে।  মাঝে মাঝে এত ভুলভাল লেখে যে, সেগুলো মুছে, কীবোর্ড চেপে ঠিক শব্দ বসিয়ে ঠিক করতে হয়। তাছাড়া বিরতি চিহ্ন তো বসাতে চিহ্ন চাপতেই হয়। কিছু উচ্চারণের তফাৎ  ধরতে পারে না জিবোর্ড, যেমন পড়ি~পরি, সারি~ শাড়ি। এছাড়া জানিনা কি কারনে মুখে বাংলা সংখ্যা বললে লেখে ইংরেজি সংখ্যা, তখন সেটাকে আবার কীবোর্ড দিয়ে বাংলা করতে হয়। এ ছাড়া কিছু উচ্চারণ একেবারেই বোঝেনা, যেমন শব্দের মধ্যে চন্দ্রবিন্দুর উচ্চারণ। একদিন লিখতে চাচ্ছিলাম পায়ে ঝিঁঝিঁ ধরেছে বারে বারে লেখা আসছে ঝিঝি! আমি বিরক্ত হয়ে চিৎকার করে জিবোর্ড কে বারবার বলতে লাগলাম, আরে চন্দ্রবিন্দু! চন্দ্রবিন্দু! ঝি! ঝি! ঝি! ঝি! সে এই কথাটাই লিখতে লাগল। দেখি আমার কাজের বুয়া বিস্ফারিত দৃষ্টিতে আমাকে দেখছে, সম্ভবত ভেবেছিল আমার মাথা খারাপ হয়ে গেছে! এর পর থেকে কথা বলে লেখার সময় আমি ঘরের দরজা বন্ধ করে, তারপর একা একা কথা বলে লিখি!

এতক্ষণ উপরে যা লিখলাম তার মধ্যে অনেক কিছুই  এডিট করে লিখতে হয়েছে। অনেক সময় একটা শব্দ বহুবার উচ্চারণ করার পরে ঠিক মতো লিখতে পারে। সেক্ষেত্রে আমি কীবোর্ড চেপেই লিখে নেই। খুব ভুল শোনে, ভুল শোনার নমুনা এরকম- ফ্রি নেট, চক্র কি, শাড়ি, পরি, তালগোল, হায় হায় ,গাব গাছ, স্যাটেলাইট..... শেষের দিকের শব্দগুলো ঠিক আছে কিন্তু প্রথম 4 টা শব্দ বলেছিলাম ফিরনি, চকমকি, সারি, পড়ি... এই চারটা শব্দ এখন কীবোর্ড চেপে লিখলাম।

মোবাইলে জি বোর্ড কি করে ইন্সটল করেছিল সেটাই জানিনা! তাই ল্যাপটপে কি করে ইন্সটল করতে হবে তাও জানিনা। তবে শুনেছি ইনস্টল করা যায়। ব্লগে অনেকেই নিশ্চয়ই জানেন, ( বাংলা মন্তব্যের মাঝে ইংরেজি সংখ্যা দেখে আমি বুঝেছি সেটা জি বোর্ড দিয়ে লেখা) আশা করি তারা  সাহায্য করবেন।

আরেকটা মজার অ্যাপের কথা বলি, এটা Google Translate. একদিন এটা আমার ছেলে আমার ফোনে ইন্সটল করে বলল, "এটা ক্যামেরা দিয়ে ট্রান্সলেট করে", বলে ড্রেসিং টেবিলে রাখা ডাভ স্প্রেতে ফোন ধরতেই দেখা গেল স্প্রেতে লেখা ডাভের জায়গায় লেখা দেখাচ্ছে "ঘুঘু"।  ক্যামেরা ছাড়াও হাতে লিখে, মুখে বলে বা কী বোর্ড চেপে ট্রান্সলেট করা যায়। এই অ্যাপটাও আমার ভালো লেগেছে, তাই শেয়ার করলাম। গুগল ট্রান্সলেটরের স্ক্রীনশট নিচে দিলাম। স্ক্রীনশটে যেমন দেখাচ্ছে কলম, সেই কলম টাচ করে আমি হাতে সামহোয়্যারইন লিখেছিলাম। আবার মুখে বললেও অনুবাদ করে দেয়, ক্যামেরা ধরলে ক্যামেরায় অনুবাদ হয়ে যায়।



সাধ্যমত চেষ্টা করলাম। জানিনা এতে বিজন রায়ের কৌতুহল মেটাতে পারলাম কিনা। এইমাত্র মনে পড়ল, বিজন রয় আমাকে কয়েকদিন আগে পোস্ট দেবার জন্য তাগাদা দিয়েছিলেন। সত্যি কি কৌতুহল, নাকি পোস্ট লেখাবার ফন্দি! কে জানে!!



পুনশ্চ: এই পোস্ট লেখার পর দেখতে পাচ্ছি, ডঃ এম এ আলীর পোস্টে আরো অনেকেই জিবোর্ড সম্পর্কে জানার আগ্রহ দেখিয়েছেন, তাই এই লিংক যোগ করছি। জিবোর্ড
আমার ফোন অ্যান্ড্রয়েড,এই লিংকে আই ফোনের কথা বলা হয়েছে যদিও।



ভাসমান মাইন কয়েকটি লিংক দিয়েছেন, তাই তাঁর মন্তব্য পুরোটাই এখানে তুলে দিলাম।

আইওএস এর জিবোর্ডে এখনো বাংলা লেখা যায় না, তবে আশা করছি খুব শিঘ্রই আসবে। আইফোন থাকলে এটা এখন ইন্সটল করে খুব একটা লাভ হবে না।

অ্যান্ড্রয়েড জিবোর্ড প্লে স্টোর থেকে ডাউনলোড করতে হবে:
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.google.android.inputmethod.latin&hl=en_US

কিভাবে ব্যবহার করবেন
https://www.pcmag.com/feature/362179/how-to-use-google-s-gboard-keyboard-on-ios-and-android/2

আরো অনেক কিছুই করা যায়
https://www.cnet.com/how-to/heres-how-to-use-gboards-features/






সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে অক্টোবর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:০৯
২৮টি মন্তব্য ২৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

লাস ভেগাসকে পেছনে ফেলে ঢাকা মহানগরী এখন ক্যাসিনো ক্যাপিট্যাল। চাঁদাবাজি, মাদক আর গডফাদারদের তীর্থভূমি।

লিখেছেন কাওসার চৌধুরী, ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:০২


'ক্যাসিনো' এবং 'কুজিন' শব্দ দু'টি নিয়ে অনেকেই দ্বন্ধে পড়েন। কেউ কেউ ক্যাসিনোকে কুজিন ভেবে ভেতরে ঢুঁকে দৌড়ে পালান; আবার কেউ কেউ কুজিনকে ক্যাসিনো ভেবে সমস্যায় পড়েন। এই তো কিছুদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

নবান্ন

লিখেছেন ইসিয়াক, ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:৫৯


ডানা মেলে উড়ে চলে
নীল প্রজাপ্রতি ,
সাথে সাথে উড়ে চলে
তার সাথিটি ।

আসমানের সাদা মেঘ
হয়েছে উধাও ,
হেমন্তের আগমনী
জয়ধ্বনি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ক্যাসিনো একটি বিশাল চাকুরী সৃষ্টিকারী ইন্ডাষ্ট্রী, বিশাল ট্যাক্সের উৎস

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৩০



ধনীদেশগুলোর জন্য ক্যাসিনো হচ্ছে বিনোদন কেন্দ্র, ইহাতে দেশের সাধারণ মানুষই বেশী যায়; ইহা চাকুরী সৃষ্টিকারী ইন্ডাষ্ট্রী, ট্যাক্সের উৎস; এবং সেইসব দেশের সংস্কৃতি ও অর্থনীতি ইহাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জয়-বাংলা শেঠ

লিখেছেন রবাহূত, ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:৩০



আমি বোকা লোক বেশী বুঝি না, কেউ একটু সাহায্য করতে পারবেন?

এইযে যুবলীগের খান কয়েক টাকি-পুঁটি ধরা পড়লো, সেটি নাকি পিএম এর নির্দেশেই হয়েছে। ধন্যবাদ পিএম কে। উনি কয়েকদিন আগেই ইংগিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝড় বৃষ্টি

লিখেছেন পদাতিক চৌধুরি, ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:২২




ঝিম ঝিম বৃষ্টি পড়ছে আকাশ থেকে,
আকাশটা ঢাকা আছে কালো মেঘে।
রোদ লুকিয়ে গেছে যেন কালোমেঘের তলায়,
ঝিম ঝিম বৃষ্টি পড়ছে গাছের পাতায়।
বৃষ্টি থেকে আসলো মারাত্মক ঝড়,
ঝড় এসে উল্টে দিল গাছপালা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×