

আওয়ামী লীগ মানেই শেখ হাসিনা, শেখ হাসিনা মানেই আওয়ামী লীগ- এমনই কাল্ট তৈরি করেছে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা শেখ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে। আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতা-কর্মী মনে করতো শেখ হাসিনা সবকিছু ম্যানেজ করতে পারেন। সো নো চিন্তা ডু করাপশন ! অন্যদিকে বিএনপির হাই কমান্ডের উপর খোদ তৃণমূল কর্মীদের ভরসা ছিলো না। বিএনপির জৈষ্ঠ্য নেতারা একেক জন একেক কথা বলতেন। তাতে কর্মীরা বিভ্রান্ত হতো। জামাত একটি রাজনৈতিক দল হিসাবে সুপরিচিত হলেও তাদের সাংগঠিক কার্যক্রম ইসলামিক দলের ভাবাদর্শে পরিচালিত হইতো। তাই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জামাতের রাজনীতি প্রশ্নের মুখে পড়ে বারবার। বিদেশ কূটনীতিতেও শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের সাথে বিএনপি-জামাত জোটের পার্থক্য আকাশ পাতাল। এই পার্থক্যের কারণে বিএনপি-জামাত জোটের পক্ষে আওয়ামী লীগ কে ক্ষমতাচ্যুত করতে সময় লেগেছে সুদীর্ঘ দশ বছর।
আওয়ামী লীগ তথা শেখ হাসিনার বিদেশ কূটনীতিতে এত চতুর হওয়ার পিছনে প্রধান শক্তি হিসাবে কাজ করেছে ভারত ! ভারত ভবিষ্যতে সুপার পাওয়ার হওয়ার মতো যোগ্যতা রাখে। বর্তমান পৃথিবীর বাস্তবতায় ভারতকে অন্যসব পরাশক্তি তাদের সঙ্গে রাখতে চায় এর পিছনে প্রধান কারণ ভারতের বিশাল জনসংখ্যা। যে কোন বিদেশি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কাছে ভারতীয় বাজার সবসময় আকর্ষণীয়। ঐতিহাসিক কারণেও ভারত এবং আওয়ামী লীগের সম্পর্ক বরাবর উষ্ণ। ভারতের অনেক থিংক ট্যাংক শেখ হাসিনার বিদেশ নীতি কি হওয়া উচিত তা নিয়ে আলোচনা করতেন। শেখ হাসিনার সকল অপকর্ম ও প্রোপাগাণ্ডার প্রধান সহযোগী ভারত! ভারত ঠিক কি কারণে দেশের চেয়ে ব্যক্তির সাথে সুসম্পর্ক রাখতে বেশি কমফোর্ট ফিল করতো আল্লাহ ভালো জানেন। হতে পারে বাংলাদেশে যাতে এমন কোন শক্তির উদ্ভব না ঘটে যা ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি এমন চিন্তা থেকেই সো কল্ড সেক্যুলার দল আওয়ামী লীগ তথা শেখ হাসিনাকে বরাবর সাপোর্ট করে গিয়েছে ভারত। সে সুযোগ কাজে লাগিয়ে শেখ হাসিনার দল সারাদেশে লুটপাট ও মাফিয়ার সাম্রাজ্য গড়ে তুলে। ভারত নিজের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে ২০১৪ সাল থেকে শেখ হাসিনার সকল এক তরফা ভোটকে বৈধতা দিয়েছিল। একই সাথে আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিতে ভারত নির্ভরশীলতা ছিলো। চীনের প্রভাব কমাতে আমেরিকা ভারতের সাথে কাজ করতো। ভারতও তাই বারবার শেখ হাসিনার এক তরফা ভোটে জয়ী হওয়াকে বৈধ করার জন্য জাতীয় পার্টিকে একপ্রকার বাধ্য করে গৃহপালিত বিরোধী দল বানিয়ে ২০১৪,২০১৮ সালের নির্বাচন হালাল করে পুরো বিশ্ব এবং আমেরিকার কাছে। কিন্তু ২০২৪ সালে ভারত ও আওয়ামী লীগের সেই সেইম চাল কাজে আসেনি । শেখ হাসিনাকে গদি ছাড়তেই হয়েছে।
শেখ হাসিনা ভেটো ক্ষমতাধর দেশ রাশিয়াকে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বানানোর জন্য দায়িত্ব দেন । মূলত ২০১৪ সালের পর থেকে রাশিয়ার সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলে শেখ হাসিনা। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে বাংলাদেশ-রাশিয়া রিলেশন সঠিক ভাবে এগুতে পারছিল না। বাংলাদেশে পাওয়া টাকা পরিশোধ করতে পারছিল না ডলারে কারণ রাশিয়াকে swift থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। তাছাড়া রাশিয়ার জাহাজ বিদুৎ কেন্দ্র তৈরির সরঞ্জাম নিয়ে ছদ্মবেশে বাংলাদেশে আসতে চাইলেও আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার কারণে সেটাও সম্ভব হয়ে উঠেনি। তাছাড়া ২০২৪ সালের নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিয়ে আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের চাপ থাকা সত্ত্বেও রাশিয়া শেখ হাসিনার পক্ষ নিয়ে ক্রমাগত আমেরিকার বিরুদ্ধে কথা বলে যায়। পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরির কাজ রাশিয়াকে দেয়ার পিছনে শেখ হাসিনার কুটিল কূটনীতি কাজ করেছে।
( চলবে)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

