

আজ ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবসের ভাষণে অন্তরবর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কবে হতে পারে তার একটি ধারণা দিয়েছেন। ড. ইউনূস বলেছেন, ২০২৫ সালের শেষে অথবা ২০২৬ সালের শুরুতে নির্বাচন হতে পারে। অর্থাৎ আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে বাংলাদেশের মানুষ আরেকটি নির্বাচন প্রত্যক্ষ করতে যাচ্ছে। এতে দেশের ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারীরা তাদের ব্যবসা বাণিজ্য ও দেশে বিনিয়োগ করতে নিরাপদ অনুভব করবে। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা কোনভাবেই ব্যবসা বাণিজ্যের পক্ষে সহায়ক নয়।
বর্তমান সরকারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা নির্বাচন নিয়ে আগাম ধারণা দিলেও প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে বারবার জানানো হয় প্রধান উপদেষ্টার ঘোষিত তারিখ হবে নির্বাচনের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। উপদেষ্টা দের বক্তব্য একান্তই তাদের নিজস্ব। অনেক উপদেষ্টারা নিজেদের মধ্যে নির্বাচন কবে হবে সে ব্যাপার ধারণা দিতে গিয়ে দ্বন্ধে জড়িয়ে পড়েন। বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে বারবার চাপ দেয়া হচ্ছিল কবে নির্বাচন হবে সরকারের পক্ষ থেকে তার ধারণা দেয়ার জন্য। এই নিয়ে বিরোধী দল বিশেষত বিএনপির সাথে তরুণ উপদেষ্টারা বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ার ঘটনা নিউজে এসেছে। অবশেষে ড. ইউনূস নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় ঘোষণা দেয়ার মাধ্যমে সকল তর্ক বিতর্কের অবসান হলো।
যারা রাজনীতি বুঝেন তারা অনেক আগে থেকেই অনুমান করতে পেরেছিলেন যে দেশে সম্ভাব্য নির্বাচন কবে হইতে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান ওয়াকার-উজ-জামানের বক্তব্য থেকেই তা আঁচ করতে পেরেছিলেন। ড. ইউনূস বিদেশ সফরে থাকাকালীন সেনা প্রধান তার এক বক্তব্যে স্পষ্ট ভাবে জানিয়েছিলেন সর্বোচ্চ ১৮ মাস পর্যন্ত সেনাবাহিনী ড. ইউনূসের সরকারকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। এই বক্তব্যের পরপরই সাংবাদিকদের সাথে সাক্ষাৎকারের ড. ইউনূস কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল সেনা প্রধান যা বলেছেন তা আসলে কতটুকু সত্য? ড.ইউনূস বলেছিলেন, ওয়াকার-উজ-জামানের বক্তব্য একান্ত নিজস্ব। তিনি এই ব্যাপারে কিছু জানেন না। সংস্কারের আগে কোন নির্বাচন হবে না।
ড. ইউনূসের সরকারের উচ্চাভিলাষী সংস্কার প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ৩/৪ বছর সময় প্রয়োজন। কিন্তু বিরোধী দলগুলো এত সময় দিতে রাজি হবে না। কারণ এতে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন সহজ হবে এবং অন্তরবর্তীকালীন সরকারের সংস্কারের নামে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার অভিপ্রায় হতে পারে নির্বাচন ছাড়া। সবশেষ মূল কথা হইলো বর্তমান সরকারের মধ্যে থেকে ছাত্রদের নিয়ে কিংস পার্টি গঠনের আলোচনা চলছে । তাই অন্তরবর্তীকালীন সরকারের অভিপ্রায় ছিলো নির্বাচন যত দেরিতে হয় কিংস পার্টি তত বেশি সংগঠিত হতে পারবে। কিন্তু অন্তরবর্তীকালীন সরকারের নাটাই অন্য কারো হাতে। হতে পারে সেটা সেনাবাহিনী অথবা অন্য কোন বিদেশি শক্তি !

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

