somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সরকার শেখ হাসিনা এবং তার দোসরদের বিচার করতে কতটা আগ্রহী ?

২৩ শে ডিসেম্বর, ২০২৪ সকাল ৭:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সামুর একজন সিনিয়র ব্লগার শিশির খান@আমার গতকালের ব্লগে লিখা একটি কমেন্টের উপর আমার দৃষ্টি পড়ে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছ্রন এবং একই সাথে চিন্তিত জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেয়া ছাত্রদের নিরাপত্তা নিয়ে। উনার চিন্তিত হওয়ার কারণ একবারে অমূলক নয়। বিভিন্ন স্থানে ছাত্রদের উপর চোরাগুপ্তা হামলা হচ্ছে। ইনকিলাব মঞ্চের ছাত্ররা নিজেদের নিরাপত্তার জন্য আন্দোলন করছে। আওয়ামী লীগের ক্রিমিনাল নেতা-কর্মীরা এখনো তেমন গ্রেফতার হয় নি এবং তারা ক্রমাগত ছাত্রদের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এত সব চিন্তা মাথায় নিয়ে নিউজ খুঁজতে শুরু করলাম সরকার জুলাই অভ্যুত্থানের অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কতটুকু অগ্রগতি হয়েছে তা দেখার জন্য। নিউজ পড়ে আমি কিছুটা হতাশা অনুভব করছি। সরকার সাধারণ মানুষ কে বড়ো আশা দেখায়েছিল জুলাই অভ্যুত্থানের অভিযুক্তদের বিচার নাকি জাতিসংঘের অধীনে হবে। কিন্তু জাতিসংঘ বারবার তথ্য পাওয়ার জন্য সরকার কে টাইমলাইন বেধে দিলেও সরকার তেমন সহযোগিতা করছে না। অল্প কিছু তথ্য হাতে এসেছে জাতিসংঘের তদন্ত দলের যা সম্পূর্ণ রিপোর্ট তৈরি করতে সহায়ক নয়।

এক্ষেত্রে সরকারের ব্যর্থতা ও সদিচ্ছার অভাব রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। জাতিসংঘের তদন্ত দল বাংলাদেশের বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর লোকদের সাথে দেখা করতে চাইলেও সাড়া মেলেনি। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নিরাপত্তা বাহিনীর তথ্য জাতিসংঘের কাছে গেলে দেশ বিদেশে সুনাম ক্ষুন্ন হবে। আর তার জন্য দেশের মানুষের উপর গুলি চালানো নিরাপত্তা বাহিনীর বিচার সরকার চায় কিনা তা নিয়ে এখন সন্দেহ দেখা যাচ্ছে। জুলাই অভ্যুত্থানে যারা দেশের মানুষকে হত্যা করেছে, থানা লুট করেছে, বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্থ করেছে তাদের বিচার যদি ছাত্র-জনতার সরকার না করতে পারে আর কবে বাংলাদেশের মানুষ ন্যায় বিচার পাইবে ?

দৈনিক সংবাদ পত্র সমকাল থেকে জানা গিয়েছে মোট ১৬ ধরণের তথ্য জানতে চেয়েছে জাতিসংঘের তদন্ত দল সরকারের কাছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো, ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত কতজন নিহত ও আহত হয়েছেন– এর তথ্য নাম, তারিখসহ শহর, লিঙ্গ, বয়স ও ধর্ম অনুযায়ী দিতে হবে। মৃত্যুর কারণও জানতে চায় তারা। নিরাপত্তা বাহিনীর কতজন সদস্য এ সময়ের মধ্যে নিহত ও আহত হয়েছেন, তাও জানতে চেয়েছে তথ্যানুসন্ধান দল।

জুলাই-আগস্টে সামরিক, আধাসামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য চেয়েছে প্রতিনিধি দল। কোন শহরে কোন বাহিনী, বাহিনীর ইউনিট, কারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সে বিষয়ে নথিসহ তথ্য চায়। এর পাশাপাশি কোন কোন ধরনের অস্ত্র ও গুলি ব্যবহার করা হয়েছে, ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে হেলিকপ্টার, গাড়িসহ প্রধান সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে, কোথায় এগুলো মোতায়েন করা হয়, তাও চেয়েছে।

ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে অভিযান পরিকল্পনা, বল প্রয়োগের মাত্রা এবং রুলস অব এনগেইজমেন্টের লিখিত, এসএমএস অথবা মৌখিক নির্দেশের তথ্য চেয়েছে। কী পরিস্থিতিতে অস্ত্র ব্যবহারের আদেশ দেওয়া হয়েছে, তারও তথ্য চেয়েছে। ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের কোথায় রাখা হয়েছিল, কারা আটক করেছিল, আটক জায়গার দায়িত্বে কারা ছিলেন, তাও চেয়েছে জাতিসংঘ।

গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল এবং তার সত্যতা ও আইনি ভিত্তি জানতে চেয়েছে তথ্যানুসন্ধান দল। গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে এবং গ্রেপ্তারের পর কী ধরনের নির্দেশনা ছিল, আহতদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের জন্য কী নির্দেশনা ছিল, চিকিৎসকদের মৃত্যু সনদ দেওয়াসহ ময়নাতদন্তের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব থেকে কী নির্দেশনা ছিল, জানতে চায় জাতিসংঘ।

জুলাই-আগস্টের অপরাধকে কেন্দ্র করে বর্তমানে কী ধরনের ফৌজদারি অপরাধের তদন্ত চলছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তাও জানতে চাওয়া হয়। কারা নাগরিকদের অস্ত্র সরবরাহ করেছিল, সহিংসতার নির্দেশ দিয়েছে কারা, তারও তথ্য চেয়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিবেদনও চায় তথ্যানুসন্ধান দল। এ ছাড়া কারফিউ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন, সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ, নারী-শিশুসহ যৌন নিপীড়ন, আন্দোলনকারী, রাজনৈতিক কর্মী, মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিকদের ওপর নজরদারি, হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানোর তথ্যের বিস্তারিত চেয়েছে জাতিসংঘ।




সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০২৪ সকাল ৭:৫৩
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জামাত কি আদতেই বাংলাদেশে রাজনীতি করার অধিকার রাখে?

লিখেছেন এমএলজি, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

স্পষ্টতঃই, আসন্ন নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি এবং জামাত। দুই পক্ষের কর্মীরা মাঠ পর্যায়ে যেমন সক্রিয়, একইভাবে ফেইসবুকেও সরব।

বিএনপি'র কিছু কর্মী বলছে, জামাত যেহেতু ১৯৭১-এ স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তাই,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ম্যাজিস্ট্রেট

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:০০



আমাদের এলাকায় নতুন একটা ওষুধের দোকান হয়েছে।
অনেক বড় দোকান। মডেল ফার্মেসী। ওষুধ ছাড়াও কনজ্যুমার আইটেম সব পাওয়া যায়। আমি খুশি এক দোকানেই সব পাওয়া যায়। আমাদের এলাকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহ্‌কে কীভাবে দেখা যায়?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩

যে কোন কিছু দেখতে হলে, তিনটি জিনিসের সমন্বয় লাগে। সেই জিনিসগুলো হচ্ছে - মন, চোখ এবং পরিবেশ। এই তিন জিনিসের কোন একটি অকেজো হয়ে গেলে, আমরা দেখতে পারি না। চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকে জুলাইযোদ্ধাদের উপর পুলিশের ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।

লিখেছেন তানভির জুমার, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:১৪

জুলাই যারা ঘটিয়েছে, তাদের উপর পুলিশের কী পরিমাণে ক্ষোভ, এটা ইলেকশনে যাস্ট বিএনপি জেতার পরই টের পাবেন।
আমি বলছি না, বিএনপির ক্ষোভ আছে।
বিএনপি দল হিসেবে অকৃতজ্ঞ হতে পারে, কিন্তু জুলাইয়ের উপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাশা : বাংলাদেশের নতুন জাতীয় খেলা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৩৯


"ও শ্যামরে, তোমার সনে একেলা পাইয়াছি রে শ্যাম, এই নিঠুর বনে। আজ পাশা খেলব রে শ্যাম।" প্রয়াত হুমায়ূন ফরীদির কণ্ঠে ছবিতে যখন এই গান শুনেছিলাম ,তখন কেউ ভাবেনি যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×