somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বনলতা এক্সপ্রেস আজ থামানো হয়েছে, কাল থামানো হবে নাটক, বই, গান, কবিতা- তারপর থামানো হবে চিন্তা।

৩১ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বনলতা এক্সপ্রেস আজ থামানো হয়েছে, কাল থামানো হবে নাটক, বই, গান, কবিতা- তারপর থামানো হবে চিন্তা।

সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, এই ঘটনায় শুধু একটি সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধ হয়নি; উন্মোচিত হয়েছে আমাদের সাংস্কৃতিক বাস্তবতার নগ্ন চিত্র।

একসময় এই দেশের লেখক, শিল্পী, বুদ্ধিজীবীরা ছিলেন অন্ধকারে জ্বলা মশাল। জনতার হাততালি নয়, সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোই ছিল তাদের পরিচয়। গালি, মামলা, কারাবাস, নিষেধাজ্ঞা- কিছুই তাদের থামাতে পারেনি।

কিন্তু এখন?
এখন অধিকাংশ শিল্পী-বুদ্ধিজীবী নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে থাকেন। ঝুঁকি নিতে চান না। জনপ্রিয়তার বাজারে তারা অনেকেই জনমতের অনুসারী, পথপ্রদর্শক নন। ফলে একের পর এক সাংস্কৃতিক আক্রমণ ঘটলেও প্রতিবাদের কণ্ঠস্বর শোনা যায় না।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর প্রদর্শনী বন্ধ হওয়ার ঘটনাটি তাই কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি একটি বিপজ্জনক বার্তা।

যদি একটি রাষ্ট্র-অনুমোদিত চলচ্চিত্র কিছু লোকের চাপের মুখে প্রদর্শিত না হতে পারে, তাহলে আগামীকাল কোনো নাটক মঞ্চস্থ হতে পারবে না, কোনো বইমেলা বন্ধ হয়ে যাবে, কোনো চিত্রপ্রদর্শনী বাতিল হবে, কোনো গান নিষিদ্ধ হবে।

প্রশ্ন হচ্ছে- সিদ্ধান্ত নেবে কে?
আইন, সংবিধান ও রাষ্ট্র?
নাকি রাস্তার চাপ সৃষ্টি করা কিছু গোষ্ঠী?
আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, যে দেশের প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্যে সিনেমা দেখেন, সেই দেশের একটি জেলায় মানুষ সিনেমা দেখতে পারবে না- এ কেমন দ্বিচারিতা?

রাজনীতিবিদরা চুপ। কারণ ভোটের হিসাব আছে।
প্রশাসন নীরব। কারণ ঝামেলা এড়ানোর প্রবণতা আছে।
শিল্পীরা নিশ্চুপ। কারণ ঝুঁকি নেওয়ার সাহস কমে গেছে।
কিন্তু ইতিহাস বলে, নীরবতা কখনো কাউকে রক্ষা করেনি।

আজ বনলতা এক্সপ্রেস।
গতকাল ছিল বাউল, গান, নাটক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
আগামীকাল হয়তো আপনার বই, আপনার চলচ্চিত্র, আপনার মতপ্রকাশের অধিকার।
সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা হারিয়ে গেলে ক্ষতি কোনো এক চলচ্চিত্রের নয়, ক্ষতি পুরো জাতির।
কারণ সভ্য সমাজে শিল্পের জবাব শিল্প দিয়ে দেওয়া হয়, যুক্তি দিয়ে দেওয়া হয়, সমালোচনা দিয়ে দেওয়া হয়।

হুমকি দিয়ে নয়।
ভয় দেখিয়ে নয়।
প্রদর্শনী বন্ধ করে নয়।
আজ প্রশ্ন একটাই—
অন্ধকারে একা দাঁড়িয়ে থাকার মতো সেই শিল্পী, সেই বুদ্ধিজীবী, সেই সাংস্কৃতিক কর্মীরা কোথায়?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৪১
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

এটা কিছু হলো? সাইকেলকে আরও দামি করার প্রয়োজন কী?

লিখেছেন মুনতাসির, ১৩ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৫

জাতীয় বাজেটের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো অনেক সময় বড় শিরোনামে আসে না। করপোরেট কর, ব্যাংকিং, রাজস্ব ঘাটতি, বড় প্রকল্পের খবরের ভিড়ে কিছু সিদ্ধান্ত নীরবে ঢুকে পড়ে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১

কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাগরিকের অপমান ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহির সংকট: ক্রিকেটার নাঈম হাসানের ঘটনা

লিখেছেন নতুন নকিব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪০

নাগরিকের অপমান ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহির সংকট: ক্রিকেটার নাঈম হাসানের ঘটনা

ক্রিকেটার নাঈম হাসানের ছবিটি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

ক্রিকেটার নাঈম হাসানের সঙ্গে পুলিশের আচরণ নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তা কোনো বিচ্ছিন্ন... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্তর্দিগন্ত

লিখেছেন মুনতাসির রাসেল, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:০৯



যে নদী সাগরকে ছোঁয়নি, সে-ই গায় সবচেয়ে নির্মল সঙ্গীত।
যে বৃক্ষের শাখা ফলের ভারে নত হয়নি, সে-ই আকাশকে বেশি বোঝে, বাতাসকে বেশি শোনে।

পৃথিবীর প্রাচীনতম ভ্রমগুলোর একটি এই,
মানুষ ভেবেছে প্রাপ্তিই পরিত্রাণ।

তাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×