somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শেখ হাসিনার পতনে জাতিসংঘের ভূমিকা ছিলো ?

০৭ ই মার্চ, ২০২৫ রাত ৯:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


জুলাই অভ্যুত্থানের পিছনে ক্রীড়ানক হিসাবে অনেক দেশি ও বিদেশি শক্তির হাত ছিলো বলে শোনা যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে বলে রাখা ভালো শেখ হাসিনার প্রতি জনসমর্থন ২০১৪ সালের পরেই কমতে থাকে। ২০২৪ সালের আমি-ডামি নির্বাচনে খোদ আওয়ামী লীগের অনেক পুরাতন সাপোর্টার ভোট দেয়া থেকে বিরত ছিলো। আওয়ামী লীগ টিকে ছিলো মূলত জোর জবরদস্তি, ভারত-চীন-রাশিয়া ও ভুয়া জঙ্গীবাদের ভয় পশ্চিমাদের দেখিয়ে। যুক্তরাষ্ট্র শেখ হাসিনার রাশিয়া ও চীন প্রীতি ভালো চোখে দেখে নাই। ভারতের কারণে যুক্তরাষ্ট্র তাদের অসন্তুষ্টি খুব একটা প্রকাশ্যে আসতে দেয় নাই। শেখ হাসিনা ও আম্লিক যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকদের ঘন ঘন ঢাকায় আসাকে তেমন পাত্তা দেয় নাই। তাই দেশের মানুষ ও বিশ্ব মোড়ল কেউ শেখ হাসিনার পিছনে ছিলো না। এভাবে জনসমর্থন বিহীন সরকার বেশিদিন এমনিতেও রান করতো না।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের প্রধান ভল্কনার তুর্ক সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে পিলে চমকানোর মতো তথ্য জানিয়েছেন। তার বক্তব্য থেকে জুলাই অভ্যুত্থানে জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে আমরা জানতে পারি। ছাত্র-জনতার উপর আওয়ামী লীগের পেটুয়া পুলিশ ও ছাত্রলীগ বাহিনী নির্যাতন করছে, হত্যা করছে তখন জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাথে যোগাযোগ করা হয়েছিলো। সেনাবাহিনীর উপর চাপ ছিলো যাতে শেখ হাসিনার পক্ষ নিয়ে ছাত্র-জনতার বুকে গুলি না চালানো হয়। সেনাবাহিনী কোনো পদক্ষেপ নিলে আম্লিকের পক্ষে তাদের শান্তিরক্ষী বাহিনীর মিশন বন্ধ করে দেয়া হবে। শান্তিরক্ষী মিশনে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ও জওয়ান দের বৈধ ভাবে দেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর চমৎকার সুযোগ রয়েছে। সেনাবাহিনী কোনোভাবেই এমন সুযোগ হাতছাড়া করবে না। তাই তারা শেখ হাসিনার প্রতি তাদের সমর্থন প্রত্যাহার করেছিলো। অভ্যুত্থান সফল হওয়ার পিছনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা ছিলো অসামান্য।

মানবাধিকার কমিশনের বক্তব্য এক-এগারো সময়কার একটি ঘটনার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। একটি ফেইক চিঠিকে কেন্দ্র করে কেয়ারটেকার সরকার বাতিল করে সেনাশাসন ক্ষমতায় আসার প্রধান কারণ হিসাবে সেই ফেইক চিঠিকে দেখা হয়। কিন্তু তুর্ক সাহেবের মুখের বাণী নিশ্চয়ই ফেইক হতে পারে না।

সেনাবাহিনী ২০১৪ ও ২০১৮ সালে নিস্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। শেখ হাসিনার ভুয়া জঙ্গীবাদ বয়ান শুনে পশ্চিমারা ভেবেছিলো দুর্নীতি করলেও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকুক। তবে শেখ হাসিনার প্রতি সমর্থন কমে আসে যখন রাশিয়ার সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নতি হয়। রাশিয়ার উপর ইউক্রেন ইস্যু নিয়ে প্রবল চাপ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়াকে বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলো। কিন্তু শেখ হাসিনা যে করেই হোক রাশিয়া-চীন ও কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভারতের সাথে ভালো রিলেশন রাখতে গিয়ে আম ছালা উভয়েই হারায়।

আওয়ামী লীগ বর্তমানে অভিযোগ করছে আমেরিকার টাকায় দেশে অভ্যুত্থান হয়েছে। এখন আবার জাতিসংঘের জুলাই অভ্যুত্থানের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হবে। আওয়ামী লীগের নিকট বিদেশি হস্তক্ষেপ খুব খারাপ লাগছে। নিজেরা যখন বিদেশি শক্তি কে তাদের পক্ষে কাজ করায়েছিলো তখন খুব আরাম লেগেছিলো। ওবায়দুল কাদের বারবার বলেছেন দিল্লী ও পশ্চিমা বিশ্বের সাথে তলে তলে সমঝোতা হয়েছে। আওয়ামী লীগ এসব কাহিনী এত তাড়াতাড়ি ভুলে গেল ?

জুলাই অভ্যুত্থানের জন্য মঞ্চ অনেক বছর থেকেই তৈরি করা হয়েছিলো। বিরোধী দলগুলো পাতানো নির্বাচনে না গিয়ে শেখ হাসিনার পতন কে আরো ত্বরান্বিত করেছিলো। জাস্ট একটা ফু দিয়েছে আর অভ্যুত্থান হয়ে গেলো এমনটা নয়। সাধারণ জনগণ রাস্তায় না নামলে শুধু বিদেশি চক্রান্তে আওয়ামী লীগের পতন সফলভাবে হতো না।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মার্চ, ২০২৫ রাত ৯:০৫
১৫টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

‘সবচেয়ে কঠিন’

লিখেছেন আবু সিদ, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:১৫


আমি সাদ। আমার বয়স ১৭ বছর। আমি ক্লাস টেনের ছাত্র। আমার ক্লাসের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর বয়স ১৫ বা তার আশপাশে। আমারও ১৫ বছর বয়সে ক্লাস টেনে থাকার কথা ছিল। কিন্তু আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মঞ্চে রাজনৈতিক বিভাজন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:২৪



উদীচী পুড়ার সময় কি হারমোনিয়াম, তবলা, একতারা, দোতারা, সেতার কিংবা বাঁশি পুড়েনি?, মনে রাখবেন তখন আগুন শুধু কিছু বাদ্যযন্ত্র পোড়ায়নি, -পুড়েছিল এই বাংলার সংস্কৃতির, এই বাংলার শত কোটি মানুষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

'মেটিকুলাসলি ডিজাইন' করে সিলেটকে অশান্ত করে তোলার অর্থ কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:১৫

সিলেটে এন,সি,পি সাংগঠনিক ভাবে দূর্বল।
দলের ভিতরে কোন্দল মারাত্মক তা ফেসবুকে দলীয় নেতা কর্মীদের পোস্ট দেখে বুঝা যায়।
অথচ, সামনে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন।
এই পরিস্থিতিতে, দলের মানুষদের 'গরম' করে তোলার একটাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বাক্ষী থেকো বাংলাদেশ, স্বাক্ষী থেকো ১৮ কোটি মানুষ।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:২৮

স্বাক্ষী থেকো বাংলাদেশ, স্বাক্ষী থেকো ১৮ কোটি মানুষ।
================================
ইতিহাস কখনো মুছে যায় না। যে জাতি তার মানুষের কান্না, আর্তনাদ ও ন্যায়বিচারের দাবি ভুলে যায়, সে জাতির ভবিষ্যৎও প্রশ্নের মুখে পড়ে।
আজ এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্তর্দহনের ওপারে প্রশান্তি

লিখেছেন মুহাম্মদ তমাল, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৫৩



প্রিয় আকাশ,
মাঝে মাঝে তোমার দিকে তাকিয়ে মনে হয়, তুমিই সৃষ্টিকর্তার সবচেয়ে নিঃশব্দ প্রাঙ্গণ। তাই আমার সমস্ত অভিযোগ, অনুযোগ, ক্ষোভ, দীর্ঘশ্বাস আর অব্যক্ত আর্তনাদ তোমার দিকেই ছুড়ে দিই। তুমি নির্লিপ্ত,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×