
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বর্তমানে তেহরানের লাভিজান এলাকায় একটি ভূগর্ভস্থ বাংকারে আত্মগোপন করে আছেন। ২০২৫ সালের জুন থেকে তিনি এই বাংকারে অবস্থান করছেন, যেখানে তার পরিবারের সকল সদস্য ও পুত্র মোজতবা খামেনিও রয়েছেন। ৩৬ বছরের শাসনামলে প্রথমবারের মতো তিনি গুরুত্বপূর্ণ মুহাররম অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন। নিরাপত্তার কারণে সব ইলেকট্রনিক যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়ে শুধুমাত্র একজন বিশ্বস্ত সহকারীর মাধ্যমে নির্দেশনা দিচ্ছেন।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে ইরান জুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। অর্থনৈতিক সংকট, মুদ্রাস্ফীতি ও সরকারি দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনগণ রাস্তায় নেমেছে। বিক্ষোভকারীরা "খামেনির মৃত্যু হোক" ও "ইসলামী প্রজাতন্ত্রের মৃত্যু হোক" স্লোগান দিচ্ছে। চলমান বিক্ষোভ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে দেশত্যাগের একটি বিকল্প পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস পশ্চিমা গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে ।
প্রতিবেদন অনুসারে, নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভ দমনে ব্যর্থ হলে অথবা খামেনির প্রতি আনুগত্য হারালে তিনি রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে আশ্রয় নেওয়ার কথা ভাবছেন। এই বিকল্প পরিকল্পনায় তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী, পরিবারের সদস্য এবং সর্বোচ্চ ২০ জনের একটি ক্ষুদ্র দল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তালিকায় রয়েছেন তাঁর পুত্র এবং সম্ভাব্য উত্তরসূরি মোজতবা খামেনিও।গোয়েন্দা সূত্র জানায়, তেহরান ছেড়ে যাওয়ার জন্য খামেনি এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল একটি নির্দিষ্ট প্রস্থান পথ ইতিমধ্যে ঠিক করে রেখেছেন।
একই সঙ্গে বিদেশে রাখা সম্পদ, সম্পত্তি এবং নগদ অর্থ পরিচালনার বিষয়েও প্রস্তুতি চলছে, যাতে প্রয়োজনে দ্রুত ও নিরাপদভাবে দেশত্যাগ সম্ভব হয় । প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছরের জুনে ইসরায়েলের সাথে টানা ১২ দিনের সংঘর্ষের পর খামেনির শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটেছে। পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থার মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে তাঁকে অতিরিক্ত সন্দেহপ্রবণ বা 'প্যারানয়েড' নেতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা এই ধরনের বিকল্প পরিকল্পনা তৈরিতে তাঁকে প্রভাবিত করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, আদর্শিকভাবে কঠোর হলেও বাস্তব পরিস্থিতি মূল্যায়নে খামেনি কৌশলগতভাবে বাস্তববাদী। দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জনের জন্য তিনি আপস এবং সমঝোতার পথ অবলম্বনে আগ্রহী—গোয়েন্দা বিশ্লেষণে এমন ভাবমূর্তিই ফুটে উঠেছে। ইরানে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ব্যাপক গণবিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে এই প্রতিবেদন দেশটির ক্ষমতার কাঠামো এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত করেছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
দ্য টাইমসের প্রতিবেদন: https://www.jugantor.com/international/1049416
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



