somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শেখ মুজিব হল → ওসমান হাদি হল: নতুন বাংলাদেশের শুরু ?

১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হল ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে দেশের শিক্ষাঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে ডাকসু নেতারা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট নাম পরিবর্তনের পক্ষে, অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক এর তীব্র বিরোধিতা করছে। এই বিতর্কের মধ্য দিয়ে উঠে আসছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিচয়, ইতিহাস এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর প্রশ্ন।

গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে শেখ মুজিবুর রহমান হলের গেটে 'শহীদ ওসমান হাদী হল' লেখা একটি ব্যানার টানিয়ে হল সংসদের নেতারা নাম পরিবর্তনের ঘোষণা দেন। তাদের দাবি, হলের শিক্ষার্থীদের গণস্বাক্ষরে সংখ্যাগরিষ্ঠ শিক্ষার্থী এই পরিবর্তনের পক্ষে মত দিয়েছেন। এর আগে দুইবার উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়েছিল। ডাকসু নেতাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট সভায় দুটি হলের নাম পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়। প্রস্তাবিত নতুন নামগুলো হলো: শেখ মুজিবুর রহমান হল → শহীদ ওসমান হাদি হল ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল → বীর প্রতীক ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম হল । বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমেদ এই সুপারিশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য এখনো সিনেটের সভায় যেতে হবে।

হল সংসদের সহ-সভাপতি মো. মুসলিমুর রহমান জানান, শহীদ শরীফ ওসমান হাদি ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে শাহাদতবরণ করেছেন। তার মতে, যারা ওসমান হাদিকে হত্যা করেছে তারা "কালচারাল ফ্যাসিস্ট" এবং শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন সেই "কালচারাল ফ্যাসিস্টদের জনক"। এই যুক্তিতে তারা হলের নাম পরিবর্তন করতে চান।সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আল সাবাহ বলেন, তারা আগামী সিন্ডিকেট সভায় এই বিষয়টি এজেন্ডাভুক্ত করে হলের নাম পরিবর্তনের দাবি জানাবেন। তাদের মূল বক্তব্য হলো, জুলাই অভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশে স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রকৃত নায়কদের যথাযথ সম্মান দেওয়া উচিত।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক এই নাম পরিবর্তনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। শিক্ষক নেটওয়ার্কের বিজ্ঞপ্তিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। আশির দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন নতুন দুটি ছাত্রাবাস নির্মিত হয়, তখন জাতীয় দুই নেতা শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়াউর রহমানের নামে এগুলোর নামকরণ করা হয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই দুটি ছাত্রাবাস পাশাপাশি অবস্থিত। এরপর বহু সরকার এসেছে ও গেছে, কিন্তু কখনোই এই দুই ছাত্রাবাসের নাম পরিবর্তনের কথা ওঠেনি। শিক্ষকরা মনে করেন, দুই জাতীয় নেতার নামে পাশাপাশি দুটি হল থাকার যে "সহাবস্থানগত সৌন্দর্য", তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিপক্বতার একটি প্রতীক হতে পারতো।

শিক্ষক নেটওয়ার্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি হলো, শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসন এবং শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভূমিকা সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে বলে শেখ মুজিবুরের নাম মুছে ফেলা যায় না।তাদের বক্তব্য, জাতীয় নেতা হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানের নামে একটি ছাত্রাবাস থাকা "কেবল ন্যায্যই নয়, প্রয়োজনীয়ও বটে।" তিন-চার দশক ধরে যে ছাত্রাবাস একটি নির্দিষ্ট নামে পরিচিত, তা বদলে দেওয়ার উদ্যোগকে তারা "হীন রাজনৈতিক ক্ষুদ্রতা" বলে মনে করেন।

শিক্ষক নেটওয়ার্ক একটি গঠনমূলক প্রস্তাব দিয়েছে। তারা বলছেন, শহীদ ওসমান হাদির মতো বীর শহীদদের নামে নতুন কোনো ভবনের নামকরণ করা উচিত, পুরোনো হলের নাম পরিবর্তন নয়। এভাবে ইতিহাসের ধারাবাহিকতাও রক্ষা হবে, আবার নতুন নায়কদেরও যথাযথ সম্মান দেওয়া সম্ভব হবে। এই প্রস্তাবে একদিকে ইতিহাস সংরক্ষণ, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা—দুটোরই সমন্বয় ঘটানো সম্ভব।

শিক্ষক নেটওয়ার্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বিষয় উত্থাপন করেছে। তাদের মতে, রাষ্ট্র ও জনগণের টাকা খরচ করে শুধুমাত্র রাজনৈতিক বিবেচনায় নামকরণের সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া উচিত। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে নাম পরিবর্তনের সংস্কৃতিতেও রেশ টানা প্রয়োজন।এই যুক্তিটি উভয় পক্ষের জন্যই প্রযোজ্য। যেমন অতীতে আওয়ামী লীগ সরকার রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেক স্থাপনার নাম দিয়েছিল, তেমনি এখন নতুন শাসকরাও রাজনৈতিক বিবেচনায় নাম পরিবর্তন করছে। এই চক্রটি ভাঙা দরকার।

জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশে নতুন বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে। অনেকে মনে করেন, এই নতুন বাংলাদেশে পুরোনো শাসকদের প্রতীক ও চিহ্ন মুছে ফেলা প্রয়োজন। তাদের দৃষ্টিতে, শেখ মুজিবুর রহমানের নামে হল রাখা মানে পুরোনো ব্যবস্থাকেই মেনে নেওয়া। কিন্তু শিক্ষকরা বলছেন, নয়া বন্দোবস্তের আকাঙ্ক্ষা মানে এই নয় যে ইতিহাস মুছে ফেলতে হবে। বরং ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে, ভালোমন্দ বিচার করে, সামনে এগিয়ে যাওয়া উচিত।

মুল সংবাদ : Click This Link

মুল সংবাদ : Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:০৮
২৬টি মন্তব্য ২৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জীবনের স্টেশনে

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:৫৭

রেল স্টেশনে অপেক্ষা। ট্রেন আসছে। এখনো ঐ দূরে। কিন্তু তার আগমন দেখলেই আমার ভেতরে এত কন কন করে উঠে কেন জানি না। কেন এই কষ্ট বারবার হয়?... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ সাংবাদিক সিরাজুর রহমানের বিরুদ্ধে মরণোত্তর মামলা করা হোক।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৫

আ ন ম সিরাজুর রহমান (১৯৩৪ – ১ জুন ২০১৫) ছিলেন একজন বিশিষ্ট বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ সাংবাদিক, যিনি দীর্ঘ চৌত্রিশ বছর বিবিসি বাংলা বিভাগে অত্যন্ত সফলতার সাথে কাজ করেছিলেন.... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১-এ ৩ লক্ষ না ৩ মিলিয়ন নিহত হয়েছিলেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৫

১৯৭১-এ ৩ লক্ষ না ৩ মিলিয়ন নিহত হয়েছিলেন, তা নিয়ে অনেক অপরাজনীতি হয়েছে। সরকার এই অপরাজনীতি খুব সহজে বন্ধ করতে পারেন। যদি ১৯৭১-এ নিহতদের একটি ডাটাবেইজ তৈরী করা যায় তাহলেই,... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাথর ছুঁড়ে হত্যা করার কথা!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৯


সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের পর তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাঁর এমপি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ অপ্রত্যাশিত উপহার

লিখেছেন সামিয়া, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৪০




সৌদি আরবের রিয়াদের একটা পাঁচ তারকা হোটেলে আমার চাকরি। চাকরিটা খুব কঠিন কিছু না। প্রতিদিন একটা ভ্যাকুয়াম ক্লিনার হাতে নিয়ে হোটেলের কার্পেট পরিষ্কার করি। লবি, করিডোর, হলরুম, অতিথিদের বসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×