
বাংলাদেশের রাজনীতি যখন এক মহাসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, ঠিক তখনই ঢাকার রাজপথে পা রাখলেন এক পরিচিত মুখ—ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। ঘড়ির কাঁটা বলছে সোমবার (১২ জানুয়ারি, ২০২৬) সন্ধ্যা। শীতের কুয়াশা মোড়ানো শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যখন তিনি নামলেন, তখন তাঁর চোখেমুখে কেবল পেশাদারিত্ব নয়, ছিল ফিরে আসার এক প্রশান্তি। সঙ্গে স্ত্রী ডিয়ান ডাও। এই ঢাকা তাঁদের কাছে মোটেও অচেনা নয়।
ব্রেন্টের এই আগমন নিছক কোনো রুটিন বদলি নয়। বাংলাদেশের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ফেব্রুয়ারি মাসে—অর্থাৎ ঠিক এক মাস পর। চার বছর আগে ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি যখন এখানে 'কাউন্সেলর' ছিলেন, তখনকার প্রেক্ষাপট আর আজকের প্রেক্ষাপট আকাশ-পাতাল তফাত। এখন তিনি আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশের ১৯তম রাষ্ট্রদূত হিসেবে।
সোশাল মিডিয়ায় ক্রিস্টেনসেনকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি চর্চা হচ্ছে তাঁর সাম্প্রতিক সিনেট শুনানি নিয়ে। সেখানে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তিনি শুধু হাত মেলাতে আসেননি। চীন থেকে বাংলাদেশের সমরাস্ত্র কেনা, বিশেষ করে যুদ্ধবিমান ও রাডার সংগ্রহ নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের যে উদ্বেগ আছে, তা তিনি সরাসরি ঢাকার উচ্চপর্যায়ে তুলে ধরবেন। তাঁর ভাষায়— যুক্তরাষ্ট্র চায় বাংলাদেশ যেন চীনের ঋণের ফাঁদ বা একতরফা সামরিক নির্ভরতায় না পড়ে।
ঢাকায় পা রেখেই ক্রিস্টেনসেন তাঁর বিবৃতিতে বলেছেন, "এই দেশের সঙ্গে আমাদের অনেক সুন্দর স্মৃতি জড়িয়ে আছে।" কিন্তু স্মৃতি রোমন্থন করার সময় এখন খুব কম। আগামী ১৫ জানুয়ারি তিনি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে তাঁর পরিচয়পত্র পেশ করবেন। এরপরই শুরু হবে আসল দৌড়ঝাঁপ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থেকে শুরু করে আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করা হবে তাঁর অন্যতম প্রধান কাজ।
ক্রিস্টেনসেনের কণ্ঠে শোনা গেছে এক গণতান্ত্রিক আগামীর গান। তিনি বিশ্বাস করেন, ২০২৬-এর এই নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন হতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র চায় একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন, যেখানে জনগণের ম্যান্ডেট প্রতিফলিত হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কেবল একটি নির্বাচনের নয়, বরং একটি টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পাশে থাকতে চায়।
একজন তুখোড় কূটনীতিক এবং পরিসংখ্যানবিদ (টেক্সাস এ অ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি) হিসেবে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ভালো করেই জানেন, নির্বাচনের এই অংক মেলাতে হলে তাঁকে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। একদিকে যেমন ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ, অন্যদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে গভীর বন্ধুত্ব—এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের 'সেকেন্ড ইনিংস' কেমন হয়, তা দেখতে মুখিয়ে আছে পুরো দক্ষিণ এশিয়া।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


