somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জাতীয় নির্বাচনের আগেই ঢাকায় নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন

১৩ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বাংলাদেশের রাজনীতি যখন এক মহাসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, ঠিক তখনই ঢাকার রাজপথে পা রাখলেন এক পরিচিত মুখ—ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। ঘড়ির কাঁটা বলছে সোমবার (১২ জানুয়ারি, ২০২৬) সন্ধ্যা। শীতের কুয়াশা মোড়ানো শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যখন তিনি নামলেন, তখন তাঁর চোখেমুখে কেবল পেশাদারিত্ব নয়, ছিল ফিরে আসার এক প্রশান্তি। সঙ্গে স্ত্রী ডিয়ান ডাও। এই ঢাকা তাঁদের কাছে মোটেও অচেনা নয়।

ব্রেন্টের এই আগমন নিছক কোনো রুটিন বদলি নয়। বাংলাদেশের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ফেব্রুয়ারি মাসে—অর্থাৎ ঠিক এক মাস পর। চার বছর আগে ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি যখন এখানে 'কাউন্সেলর' ছিলেন, তখনকার প্রেক্ষাপট আর আজকের প্রেক্ষাপট আকাশ-পাতাল তফাত। এখন তিনি আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশের ১৯তম রাষ্ট্রদূত হিসেবে।

সোশাল মিডিয়ায় ক্রিস্টেনসেনকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি চর্চা হচ্ছে তাঁর সাম্প্রতিক সিনেট শুনানি নিয়ে। সেখানে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তিনি শুধু হাত মেলাতে আসেননি। চীন থেকে বাংলাদেশের সমরাস্ত্র কেনা, বিশেষ করে যুদ্ধবিমান ও রাডার সংগ্রহ নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের যে উদ্বেগ আছে, তা তিনি সরাসরি ঢাকার উচ্চপর্যায়ে তুলে ধরবেন। তাঁর ভাষায়— যুক্তরাষ্ট্র চায় বাংলাদেশ যেন চীনের ঋণের ফাঁদ বা একতরফা সামরিক নির্ভরতায় না পড়ে।

ঢাকায় পা রেখেই ক্রিস্টেনসেন তাঁর বিবৃতিতে বলেছেন, "এই দেশের সঙ্গে আমাদের অনেক সুন্দর স্মৃতি জড়িয়ে আছে।" কিন্তু স্মৃতি রোমন্থন করার সময় এখন খুব কম। আগামী ১৫ জানুয়ারি তিনি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে তাঁর পরিচয়পত্র পেশ করবেন। এরপরই শুরু হবে আসল দৌড়ঝাঁপ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থেকে শুরু করে আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করা হবে তাঁর অন্যতম প্রধান কাজ।

ক্রিস্টেনসেনের কণ্ঠে শোনা গেছে এক গণতান্ত্রিক আগামীর গান। তিনি বিশ্বাস করেন, ২০২৬-এর এই নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন হতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র চায় একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন, যেখানে জনগণের ম্যান্ডেট প্রতিফলিত হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কেবল একটি নির্বাচনের নয়, বরং একটি টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পাশে থাকতে চায়।

একজন তুখোড় কূটনীতিক এবং পরিসংখ্যানবিদ (টেক্সাস এ অ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি) হিসেবে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ভালো করেই জানেন, নির্বাচনের এই অংক মেলাতে হলে তাঁকে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। একদিকে যেমন ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ, অন্যদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে গভীর বন্ধুত্ব—এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের 'সেকেন্ড ইনিংস' কেমন হয়, তা দেখতে মুখিয়ে আছে পুরো দক্ষিণ এশিয়া।

সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৩৩
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীর ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৭


আজ দেশজুড়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। ২৪ -এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভ্ন্নি সময়ে বহু নিরীহ প্রাণ অকালে ঝরেছে। আবু সাঈদ, মুগ্ধ ছাড়াও নাম জানা-অজানা হাজারো ব্যাক্তি তাদের প্রাণ হারিয়েছেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

তেহরানের ছায়া কি এখন ঢাকা সেনানিবাসে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:০১


সোমবার সকালে জলসিঁড়িতে একটা অনুষ্ঠান হলো। ফিতা কাটা, ফুলের তোড়া, বক্তৃতা, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ, স্বাভাবিক একটা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যা যা থাকে সবই ছিল। সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান নিজে হাজির, পাশে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাতিঘর (Lighthouse)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৬



বাতিঘর (Lighthouse)

বাতিঘর নিয়ে সেই ছোট্টবেলা থেকেই আমার অনেক কৌতুহল ছিল। কেন ঐ বয়সেই বাতিঘর নিয়ে আমার এতটা আগ্রহ ছিল, তার কারণ আজও খুঁজে পাই না। অথচ আমি নিজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

"৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে। শেখ হাসিনার প্রয়োজন ছিল বিশ্রাম। আওয়ামী লীগের দরকার ছিল শুদ্ধিকরণ। অন্যান্য দলগুলোরও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে বিষয়ে মজিবর ও হাসিনা এক বিন্দুও ভুল করেনি!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


বাংলাদেশের ইতিহাসে মজিবরের শেষ শাসন কাল ও হাসিনার শেষ শাসন কাল দুটি ভিন্ন সময়ে হলেও গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত মিল বহন করে। নির্বাচনী বৈধতার নিরিখে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনের সংগে ২০১৪, ২০১৮... ...বাকিটুকু পড়ুন

×