somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সৈয়দ কুতুব
মানুষ মরে গেলে পঁচে যায় আর বেঁচে থাকলে বদলায়

তারেক রহমানের কোনো বিকল্প নাই ।

৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ঢাকার মিরপুরে পরিচয় গোপন করে লুকিয়ে থাকা আওয়ামী লীগের এক পোড়খাওয়া নেতা টাইম ম্যাগাজিনের তারেক রহমান কে নিয়ে লেখা বাংলা অনুবাদ পড়ছিলেন । প্রচ্ছদে তারেক রহমানের ছবি, নিচে লেখা "Can Tarique Rahman Heal Bangladesh?"। বৃদ্ধ নেতা একচিলতে তিতা হাসি হেসে তার পাশে বসা তরুণ পলাতক কর্মীকে বললেন, "দেখলি তো? যে লোকটাকে একসময় আমেরিকানরা দুর্নীতির প্রতীক বলেছিল, আজ সেই লোকটাই তাদের কাছে পলিসি বিশেষজ্ঞ। এটাকে বলে বাস্তববাদী রাজনীতি । এখানে নীতি বলে কিছু নেই, আছে শুধু কারে দিয়ে কার স্বার্থ উদ্ধার হবে।"

তিনি চায়ে চুমুক দিয়ে আবার বললেন, "শোন, আজ যে তারেককে নিয়ে ভালো ভালো কথা বলছে , কাল যদি শেখ হাসিনার ছেলে জয় কোনো জাদুর কাঠি নিয়ে হাজির হয় এবং দেখে যে তারেক তাদের কথা শুনছে না, তবে এই একই ম্যাগাজিন লিখবে: হাসিনাই ভালো ছিলেন। তখন জুলাই মাসের শেখ হাসিনার পতন বা রেজিম চেঞ্জকে তারা বলবে একটা ট্র্যাজিক মিস্টেক। বলবে, শেখ হাসিনার শাসনামলে গুম ও খুনের ঘটনা বেড়ে গিয়েছিলো কিন্তু দেশে একটা স্থিতিশীলতা ছিল। মেট্রো রেল হয়েছিল, জিডিপি বাড়ছিল। আর এখনকার দুর্নীতি আর বিশৃঙ্খলা দেখে তখন মনে হবে সেই স্বৈরাচারী শাসনই বোধহয় ভালো ছিল। আসলে এরা কেউই বদলায় না রে, শুধু আমাদের দেখার চশমাটা বদলে দেওয়া হয়।"

ঠিক একই সময়ে মতিঝিলে জামায়াতের অফিসে বসে এক প্রবীণ নেতা ওয়াশিংটন পোস্টের রিপোর্ট নিয়ে আলোচনা করছিলেন। মার্কিন কূটনীতিকরা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করতে চায়, কিন্তু শর্ত হলো শরীয়া আইন করা যাবে না। নেতা তারুণ্যে টগবগ করা এক কর্মীকে বুঝিয়ে বলছিলেন, "এটা আমাদের নৈতিক জয় না বাবা, এটা ওদের বাধ্যবাধকতা। তারা দেখছে তারেককে দিয়ে পুরোপুরি কাজ হচ্ছে না, আওয়ামী লীগ এখন অচল, তাই আমরাই এখন তাদের কাছে প্রাসঙ্গিক। রাজনীতিতে নীতি বলে কিছু নেই, আছে শুধু তুমি কতটা দরকারী। যদি কাল আমরা ক্ষমতায় যাই, দেখবি এই পশ্চিমা মিডিয়াই আমাদের মডারেট ডেমোক্রেটিক ইসলামিস্ট বলে সার্টিফিকেট দেবে। আমাদের অতীতের সব অন্ধকার তখন হয়ে যাবে ঐতিহাসিক ভুল যা থেকে আমরা শিক্ষা নিয়েছি। আসলে আন্তর্জাতিক রাজনীতি হলো একটা গোলকধাঁধা, যেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী শয়তানও ফেরেশতা হয়ে যায়।"

নয়াদিল্লির সাউথ ব্লকের এক বদ্ধ ঘরে বসে ভারতীয় কর্মকর্তারাও একই হিসাব কষছিলেন। তারা জানেন তারেক রহমান ঐতিহাসিকভাবে তাদের বিরোধী, কিন্তু এখনকার বাস্তবতায় তাকে ছাড়া উপায় নেই। এক সিনিয়র অফিসার তো বলেই দিলেন, "হাসিনা আমাদের বন্ধু ছিলেন কারণ তিনি আমাদের স্বার্থ দেখতেন। তারেকও যদি আমাদের স্বার্থ দেখে, তবে আমরা তাকেই সমর্থন দেব। আর যদি দশ বছর পর তারেক ব্যর্থ হয় আর সজীব ওয়াজেদ জয় আবার রাজনীতিতে ফিরে আসতে চায়, আমরা তাকেও কোলে তুলে নেব। ক্ষমতা টেকানোর জন্য নৈতিকতা বিসর্জন দেওয়াই হলো আসল খেলা।"

কল্পনা করা যাক ২০৩৫ সালের কথা। তারেক রহমান ক্ষমতায় এসে মুখ থুবড়ে পড়েছেন, অর্থনীতি ধসে গেছে আর বিএনপির কর্মীরা লুটপাটে ব্যস্ত। তখন হঠাৎ দৃশ্যপটে সজীব ওয়াজেদ জয়ের উদয় হবে। টাইম ম্যাগাজিন তখন প্রচ্ছদ করবে—"Can Joy Wazed Save Bangladesh?"। সেখানে খুব সুন্দর করে লেখা হবে যে, শেখ হাসিনার আমলে হয়তো কিছু মানুষ গুম হয়েছিল বা মারা গিয়েছিল, কিন্তু সেই শাসন আমল ছিল স্থিতিশীল। জয়কে দেখানো হবে একজন আধুনিক, টেক-স্যাভি এবং সংস্কারকামী নেতা হিসেবে যে তার মায়ের ভুলগুলো শুধরে নিতে এসেছে।

যে বিশৃঙ্খলা এখন তারেক রহমানের আমলে চলছে, তার চেয়ে হাসিনার সেই কঠোর স্বৈরশাসন অনেক ভালো ছিল বলে একটা ন্যারেটিভ তৈরি করা হবে। তখন জুলাই মাসের সেই রেজিম চেঞ্জ বা পতনকে দেখা হবে একটা অপরিপক্ব সিদ্ধান্ত হিসেবে। বলা হবে, উগ্রবাদী শক্তির উত্থান ঠেকাতে শেখ হাসিনাই ছিলেন সবচেয়ে কার্যকর। এবং শেষমেশ সেই অমোঘ বাক্যটি আবার ফিরে আসবে: There Is No Alternative।

এই যে চক্রাকার খেলা, এখানে সাধারণ মানুষের কোনো স্থান নেই। সহিংসতায় যারা মারা গেল , যারা গুম হলো, তারা দিনশেষে কেবল একটা পরিসংখ্যান হয়েই থেকে যাবে। আন্তর্জাতিক মিডিয়া আর বড় শক্তিগুলো নিজেদের সুবিধামতো নায়ক আর খলনায়ক বদলাবে। আজ যে দুর্নীতির রাজপুত্র, কাল সে ত্রাতা। আজ যে খুনি স্বৈরাচার, কাল সে স্থিতিশীলতার প্রতীক। এই খেলায় কারো রক্তে কারো কিছু যায় আসে না। দিনশেষে সবাই শুধু নিজের গদি আর স্বার্থটুকু দেখে। আজকের নায়ক কালকের খলনায়ক হবে, আর আজকের খলনায়ক হবে পরশুদিনের ধোয়া তুলসী পাতা। এই চক্র চলতেই থাকবে যতক্ষণ না মানুষ বুঝতে পারবে যে বিকল্প নেই বলে আসলে কিছু নেই, এটা কেবল গদি দখলের একটা সুনিপুণ কৌশল।

Photo credit : New Age




সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:০২
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সক্কাল বেলা একটা জোক্সস শোনাই

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:০৬


বাংলাদেশের ইতিহাসে শেখ হাসিনার আমলে যতটা নিকৃষ্ট ভাবে ভোট চুরি হয়েছে আর কারো আমলে হয় নি। এমন কি এরশাদের আমলেও না। ...বাকিটুকু পড়ুন

গো ফুলের নিয়ামত

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩


এখন নাকি বিবেক বুদ্ধির জন্ম হচ্ছে-
ঘুরপাক বুড়োরা মৃত্যুর কুলে দুল খাচ্ছে;
রঙিন খাট পালঙ্কে- মাটিতে পা হাঁটছে না
শূন্য আকাশে পাখি উড়ু উড়ু গো ফুলের গন্ধ
উঠান বুঠানে বিবেক বুদ্ধির বাগান... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট পোস্ট!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯


জুলাই সনদে স্বাক্ষরের দিন ড. ইউনুস বলেছেন, “এই সনদে স্বাক্ষর করলে আমরা বর্বরতা থেকে সভ্যতায় উন্নীত হবো।”
আর গতকাল উনি বলতেছেন বাঙালি হচ্ছে বিশ্বের মাঝে সবচেয়ে জালিয়াত জাতি! তো জুলাই সনদে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শের

লিখেছেন এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল, ২৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯

তিন শ' এক//
আমার সাহস দেখে, জানি. তুমি খুব রেগে যাবে।
ঘরহীন, সর্বহারা ভালোবাসা জানায় কিভাবে ?

তিন শ' দুই//
চোখের মালিক ঘোর নিঃশ্বতার আঁধারে ডুবেছে;
তবুও বেকুব চোখ সুন্দরের নেশায় ডুবেছে!
...বাকিটুকু পড়ুন

=দাও হেদায়েত ও আল্লাহ=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৪৫


পাপ মার্জনা করো মাবুদ,
দয়া করো আমায়,
না যেন আর মোহ আমায়
মধ্যিপথে থামায়!

শুদ্ধতা দাও মনের মাঝে
ডাকি মাবুদ তোমায়
দিবানিশি আছি পড়ে
ধরার সুখের কোমায়!

হিংসা মনের দূর করে দাও
কমাও মনের অহম ,
ঈর্ষা হতে বাঁচাও আমায়
করো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×