somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ক্যাপাসিটি চার্জের পর এবার নজর খাম্বায়

২২ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগের শেষ নেই । বিশেষ করে যারা নির্দিষ্ট বেতনে সংসার চালান কিংবা যেসব পরিবারে কেবল একজন মাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আছেন, তাদের মাসে প্রিপেইড মিটারে টাকা ঢোকাতে গিয়ে পকেট খালি হয়ে যাচ্ছে। ২০১৪ সালে যখন দেশজুড়ে প্রিপেইড মিটার বসানো শুরু হলো, তখন সরকারের বকেয়া বিলের পরিমাণ কমেছিল ঠিকই, কিন্তু সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়তে শুরু করল বিদ্যুতের দাম। বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে প্রতি তিন মাস পর পর বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর একটি আইন পর্যন্ত করা হয়েছিল, যাতে কোনো রকম গণশুনানি ছাড়াই সরকার যখন-তখন নির্বাহী আদেশে দাম বাড়িয়ে দিতে পারে। মূলত আইএমএফের কঠিন শর্ত মানতেই এই পথ বেছে নেওয়া হয়েছিল, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল ২০২৭ সালের মধ্যে জ্বালানি খাত থেকে সরকারি ভর্তুকি পুরোপুরি তুলে নেওয়া।

২০২৪-এর জুলাইয়ে বিগত সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে তীব্র আন্দোলন শুরু হয় এবং আগস্টে সেই সরকারের পতন ঘটে। অন্তর্বর্তী সরকার তাদের মেয়াদে আর বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সাহস দেখায়নি। কিন্তু নতুন নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার মাত্র ছয় মাসের মাথায় আবারও বিদ্যুতের দাম বাড়াল। একদিকে আইএমএফের ক্রমাগত চাপ, অন্যদিকে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে এলএনজি ও ফার্নেস অয়েলের আন্তর্জাতিক বাজারে আগুন। আইএমএফ খোচরের মতো সরকারের পেছনে লেগে আছে, কারণ ঋণ পেতে হলে যেকোনো মূল্যে ধাপে ধাপে জ্বালানি ভর্তুকি কমিয়ে আনতেই হবে। এ বছরও সরকার জ্বালানি খাতে প্রায় ৬৭ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে।

এই পুরো সংকটটি তৈরি হয়েছে মূলত চরম দুর্নীতি ও অদক্ষতায় বেশি দামে বিদ্যুৎ কেনার কারণে, যার শতভাগ দায় বিগত সরকারের দুর্নীতিগ্রস্ত নীতির ওপরই বর্তায়। ক্যাপাসিটি চার্জ আর কুইক রেন্টালের নামে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ এস আলম কিংবা সামিট গ্রুপের মতো অলিগার্করা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার পাচার করেছে। ভারতীয় আদানি গ্রুপের সাথে অসম চুক্তিতে বাকি যেকোনো ভারতীয় কোম্পানির চেয়ে অনেক বেশি দামে বিদ্যুৎ কেনার বোঝা চাপানো হয়েছে দেশের ওপর। উৎপাদন খরচ বাড়লেও সাধারণ মানুষের আয় সে অনুপাতে বাড়েনি, বরং বিগত সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে ক্রমান্বয়ে সাধারণ মানুষ আরও দরিদ্র হয়েছে। ফলে বিদ্যুতের দাম সামান্য বাড়লেই সাধারণ জনগণের ওপর তার প্রচণ্ড চাপ গিয়ে পড়ে। পাশাপাশি জ্বালানি খাতের অভ্যন্তরীণ লুটপাট ও আমলাদের কারসাজি নিয়ন্ত্রণ করার কেউ ছিল না। সবাই মিলে ক্রোনি ক্যাপিটালিজমের সর্বোচ্চ সুবিধা উপভোগ করেছে।

সরকারের পতন ঘটলেও এই চতুর ও অসাধু আমলাতন্ত্রের পতন ঘটেনি। তারা সারাক্ষণ ফন্দিফিকির করছে কীভাবে জনগণের পকেট থেকে টাকা বের করা যায়। অন্যদিকে বর্তমান সরকারও রয়েছে তীব্র অর্থনৈতিক চাপে। ক্ষমতায় বসে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বেহিসাবি খরচ করে ফেলা হয়েছে, রাজস্ব আদায়ের অবস্থাও করুণ, বৈদেশিক বিনিয়োগের কোনো সুসংবাদ নেই, আর পলিসি রেপো রেট বেশি থাকার কারণে নতুন ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ থমকে আছে। এতো কিছুর পরও যখন বাজেট থেকে ভর্তুকির চাপ পুরোপুরি কমানো যাচ্ছে না, তখন সরকার এক নতুন বুদ্ধি বের করেছে , আর তা হলো বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা বেসরকারি খাতের ওপর ছেড়ে দেওয়া।

বিতরণ ব্যবস্থা বেসরকারীকরণ করা হলে বিদ্যুতের দাম যে আরও বাড়বে, তা নিয়ে কারও মনে সংশয় থাকার কথা নয়। কারণ কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তো আর সমাজসেবা করতে আসবে না, তাদের মূল লক্ষ্যই থাকবে ব্যবসা থেকে অন্তত ১৫ থেকে ২০ শতাংশ নিট মুনাফা বের করে আনা। তখন নতুন খাম্বা বা খুঁটি পোঁতা, তার পরিবর্তন করা কিংবা স্মার্ট মিটার বসানোর মতো অবকাঠামোগত উন্নয়নের নামে কোটি কোটি টাকার বাড়তি খরচ দেখানো হবে। এরপর নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করে সেই বিনিয়োগের পুরো টাকাটাই সরাসরি জনগণের বিদ্যুৎ বিলে যোগ করে উসুল করা হবে। এর পাশাপাশি যোগ হবে নানা রকমের সার্ভিস চার্জ, মিটার ভাড়া এবং সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে বিদ্যুতের অতিরিক্ত দাম।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, এই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো আসলে কারা? কারা এসে খাম্বা, খুঁটি আর ট্রান্সফরমারের নতুন ব্যবসা ফাঁদবে? আমরা দেখেছি, আওয়ামী লীগ আমলে জ্বালানি সংক্রান্ত সব লাভজনক প্রজেক্ট পেত কেবল তাদের অনুগত ও ঘনিষ্ঠ বিশেষ কিছু করপোরেট গ্রুপ। এখন কি ইতিহাস আবার নতুন মোড়কে নিজেকে পুনরাবৃত্তি করবে? নতুন কোনো সুযোগসন্ধানী সিন্ডিকেট কি আবার এই দেশের বিদ্যুতের কোটি কোটি খাম্বা আর ট্রান্সফরমার নিয়ন্ত্রণের একক লাইসেন্স পেয়ে যাবে?

সরকারও সুন্দরভাবে হাত ধুয়ে বলবে, আমরা তো দাম বাড়ায়নি, এটা প্রাইভেট কোম্পানি আর রেগুলেটরি কমিশনের ব্যাপার। অর্থাৎ, রাজনৈতিকভাবে দায় এড়ানোর এক মোক্ষম অস্ত্র তৈরি হলো। একসময় ক্যাপাসিটি চার্জের নামে উৎপাদন খাতে বিদ্যুৎ না বানিয়েই অলস বসিয়ে রেখে কোটি ডলার চুষে নেওয়া হয়েছিল। আর এখন বিতরণের নামে খাম্বা, তার আর মিটারের অজুহাতে জনগণের পকেট কাটা হবে কি ? উৎপাদন খাতের লুটপাট শেষ, এবার বিতরণ খাত গ্রাস করার আয়োজন চলছে নাতো? এসব ভাবতে ভাবতেই মাথার ভেতর কেবল একটা কথাই ঘুরপাক খাচ্ছে, স্যার, সবে তো এলেন; এখনই বিদ্যুতের খাম্বার দিকে নজর দিচ্ছেন কেন?

Plan to privatise power distribution to improve accountability, service: Minister -বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

photo card courtesy : spotlightnews24

সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১:৩৩
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১৭ জুনে বিয়ে, অথচ ২২ জুনের সিভিতে ‘অবিবাহিত’? এমপি সাহেবের এই গণিত কে মেলাবে?

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২১ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৮



ধরা খাইলেই “দ্বিতীয় বিবি”! কিন্তু ১৭ জুনের বিয়ার পর ২২ জুনের সিভিতে মাইয়া 'আনম্যারিড' থাকে কেমনে?
সাতক্ষীরার এমপি সাবের এই ভণ্ডামির জট ছাড়াইতে পারবেন তো, নাকি এআই (AI) এর ওপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আজ খুশি ভাগ করতে এসেছি=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২১ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:০৫



আসসালামু আলাইকুম। শুভ সন্ধ্যা। কেমন আছেন সবাই?

আলহা গত বৃহস্পতিবার আমি প্রমোশন পেয়েছি। অতিরিক্ত পরিচালক (৪র্থ গ্রেড)। খুশির সংবাদ জানাতে দেরি করে ফেলেছি সরি।

আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন, যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি 2G এর আমলে ফিরে যেতে চাই।

লিখেছেন ইমরোজ৭৫, ২১ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:২০


আমি 2G এর আমলে ফিরে যেতে চাই। ইন্টারনেট এর স্পিড খুবই কম। ফেসবুকে কেউ ভাইরাল হতে আসবে না। অল্প লেখায় নিজের মনোভাব ফেসবুকে পোস্ট করবে। কেউ আর পাকনা পাকনা কথা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিজয়ী

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২১ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩২

বিজয়ী
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

বিজয়ী কখনো কখনো হেরে যায়
হঠাৎ কেউ টপকে যায় তাকে
সেরা সবসময় সেরা থাকে না
পরাজিত হয়ে সে কাঁদে, ভেঙে পড়ে।
জয়লাভ প্রায় প্রত্যেকে আনন্দিত করে
আর হার প্রায় প্রত্যেকে দুখি করে।
আমরা কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জামায়াতের দ্বিচারিতায় পরিপূর্ণ রাজনীতি

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ২২ শে জুলাই, ২০২৬ ভোর ৫:২৮


১৯৪১ সালে ব্রিটিশ ভারতের লাহোরে ইসলামী চিন্তাবিদ সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদূদী ‘জামায়াতে ইসলামী’ গঠন করেন। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর এটি ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×