
ক্ষেতের মধ্যে কনটেন্ট বানাতে বানাতে নাবালিকা নিয়ে ধরা খেয়ে এখন শ্রীঘরে আছেন ক্রিয়েটর রিপন মিয়া। ২০১৬ সালের দিকে রিপন মিয়ার যাত্রা শুরু। আম গাছে আম নেই, ঢিল কেন মারো। তোমার সাথে প্রেম নাই, চোখ কেন মারো। এই ধরনের ছোট ছোট ছন্দ মিলিয়ে ভাইরাল হয়ে যান । শেষ পর্যন্ত নিজের বানানো বন্ধু তুমি একা হলে আমায় দিয়ো ডাক, তোমার সাথে গল্প করব আমি সারা রাত ছন্দকে বাস্তবে রুপ দিতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়লেন রিপন মিয়া। সেলিব্রিটি হওয়ার এটাই বুঝি মজা। কচি থেকে বুড়া সবাই এখন রিপন মিয়াকে চায়।
কনটেন্ট ক্রিয়েশন করে নিজের ভাগ্য ফিরিয়েছেন রিপন মিয়া। নেত্রকোনার একসময়কার গরিব রাজমিস্ত্রি এখন হাজার হাজার মানুষের পরিচিত মুখ। টাকা পয়সাও হয়েছে ভালোই। কিন্তু একটা ছোট সমস্যা আছে। তিনি বিবাহিত মানুষ। বউ বাচ্চা সবই আছে। তারপরও সেলিব্রিটি হওয়ার গরম সামলানো কঠিন হয়ে গেছে। মানুষও তাকে দাম দেয়। মেয়েরা সেলফি তোলে। ফেসবুকে ছবি দেয়। ফলে তার মনে হয়েছে, একটু আধটু নষ্টামি তো করা যেতেই পারে । তবে শেষ রক্ষা হলো না ।
আরেকটি ঘটনা দেখুন। ফেসবুকে চ্যাট, তারপর কাল্পনিক প্রেম এবং পরিণামে এগারো বছরের এক শিশুর সঙ্গে বিশ বছরের যুবকের বিবাহ । তেরো বছর বয়সে সেই শিশু যখন সন্তানের মা হলো, তখন তার কোল থেকে সন্তানকে কেড়ে নেওয়া হলো। সন্তান ফিরে পেতে সেই কিশোরী মা যখন লিগ্যাল এইডে দৌড়াদৌড়ি শুরু করল, তখন দুই পক্ষই যুক্তি নিয়ে হাজির। মেয়ে বলে তাকে ফুঁসলানো হয়েছে, আর ছেলে বলে মেয়েই নাকি তাকে পালিয়ে যেতে বলেছিল।
আমাদের বর্তমান যুগের ট্রেন্ডটাও দারুণ! স্কুলে যাওয়ার বয়সে টিকটক, পড়াশোনার বয়সে রিলস, আর বয়স হওয়ার আগেই বিয়ে করে সংসার করা। দুটো ভিডিও বানালেই প্রেম, পাঁচটা বানালেই গভীর ভালোবাসা, আর দশটা বানালেই সোশ্যাল মিডিয়ার 'পাওয়ার কাপল'! তারপর একদিন বিচ্ছেদ হলে ফেসবুক লাইভে এসে কান্নাকাটি, একে অপরের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার আর লাখ লাখ ভিউয়ের নোংরা ব্যবসা।
দুটো ঘটনা আলাদা মনে হলেও একটা জায়গায় মিল রয়েছে। রিপন মিয়া ভাইরাল হয়ে নিজেই নিজের বিপদ ডেকে এনেছেন, আর ওই কিশোরী মেয়েটা ভাইরাল দুনিয়ার প্রেমের ফাঁদে পড়ে এখন সন্তান কোলে নিয়ে পথে পথে ঘুরছে। দুজনেরই জীবন উলটে গেছে, শুধু কারণটা আলাদা। আর এই দুইটা মানুষের এমন অবস্থার পেছনে আমাদের দায়টাও কম না। যে মানুষ যত বেশি নাটক করতে পারে, আমরা তাকে তত বেশি মাথায় তুলি। যে যত বেশি সীমা ভাঙতে পারে, তার ফলোয়ার তত বাড়ে। তারপর সেই মানুষটা যখন সত্যিই সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখন আমরা আঙুল তুলে বলি এই লোকটা এমন করল কীভাবে। অথচ নিজেদের একবারও জিজ্ঞেস করি না, আমরা কেন এদের এত বড় করে তুলছি ।

ফোটোকার্ড ক্রেডিট : নিউজ এইজ এবং জগত নিউজ ।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



