somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাধারণ মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে

২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


যুক্তরাজ্যপ্রবাসী শওকত আলীকে ধন্যবাদ। তিনি একটি ট্যাবু ভেঙে দিয়েছেন। সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় জন্মদিন উপলক্ষে একটি বাউল গানের অনুষ্ঠানের আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। এই খবর প্রচার হওয়ার পরপরই শুরু হলো ষড়যন্ত্র। আমাদের এনসিপি নামক দলটির স্থানীয় এক নেতার মাথায়ও তৌহিদি জনতার ভূত ভর করেছে ।

আতাহার আলী রাহাত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দিরাই উপজেলা শাখার আহ্বায়ক। নারী শিল্পীরা গান পরিবেশন করলে অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা হতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকে ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষার নামে অনুষ্ঠানটি বন্ধের দাবি জানিয়েছিলেন তাঁরা। এনসিপি মুখে বলে এক কথা, আর তাদের স্থানীয় নেতাদের কারও কারও কাজ সম্পূর্ণ উল্টো।

শুরুতে প্রবাসী শওকত আলী কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত থাকলেও হয়তো তাঁকে গাজীপুরের সাম্প্রতিক ঘটনাটি অনুপ্রেরণা দিয়েছে। সেখানে এক শিশুর বাবা, যিনি একজন বডিবিল্ডার, সন্তানের ওপর যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত এক হুজুরকে প্রকাশ্যে চড় মেরে মাটিতে ফেলে দিয়েছেন যার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। মুহূর্তের মধ্যে সেই বাবা অনেকের কাছে হিরো হয়ে গেছেন।

অবশ্য আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনো সমাধান নয়। কিন্তু মাদ্রাসাগুলোতে শিশুদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ জমেছে, সেটিও অস্বীকার করার উপায় নেই। গাজীপুরের ওই মাদ্রাসার মালিক জামায়াতে ইসলামীর লোক বলে খবর চাউর হয়েছে । অভিযোগটি সত্য কি না, তা অবশ্য যাচাই করা দরকার।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আড়ালে অপরাধের অভিযোগ উঠলে সেটির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। অপরাধীর পরিচয় হুজুর, শিক্ষক কিংবা রাজনৈতিক নেতা যা-ই হোক না কেন, তার বিচার হওয়া প্রয়োজন। প্রবাসী শওকত আলী হয়তো সেই চড় মারার ভিডিও দেখেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন, তিনি বাউল গানের আয়োজন করবেনই । শওকত আলীর মতো মানুষের পাশে সমাজের বিবেকবান মানুষদের দাঁড়ানো উচিত।

সুনামগঞ্জে জন্মেছেন বিখ্যাত বাউল শিল্পী শাহ আবদুল করিম। অথচ সেই সুনামগঞ্জে আজ কী হচ্ছে ? কোনো দিন ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে হামলা, কোনো দিন মেয়েদের ফুটবল খেলায় বাধা, আবার আজ নারী বাউল শিল্পীদের গান গাওয়ায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা। যে মাটিতে শাহ আবদুল করিমের জন্ম, সেই মাটিতে বাউল গান নিয়ে এত আপত্তি কেন ? বিষয়টি ভাবলেও অবাক লাগে।

আজকাল জন্মদিনের অনুষ্ঠানে হিন্দি আর ইংরেজি গান বাজানো খুব স্বাভাবিক ঘটনা। সেখানে শওকত আলী জন্মদিনে বাংলা বাউল গানের আয়োজন করে রীতিমতো বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলেছেন। লোকটাকে স্যালুট করি। আমার ধারণা, তিনি প্রবাসী হওয়ার পাশাপাশি কিছুটা প্রভাবশালী। তা না হলে পুলিশের বাধার পরও সবার সহযোগিতায় অনুষ্ঠান আয়োজনের সাহস দেখানো সহজ কথা নয়। সাধারণ কোনো মানুষ হলে হয়তো এতক্ষণে অনুষ্ঠান বাতিল করে বাড়িতে বসে থাকতেন।

আসলে আমাদের প্রান্তিক বাউল শিল্পী এবং লোকজ সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত মানুষদের ধীরে ধীরে কোণঠাসা করে ফেলা হচ্ছে। এই নারী বাউল শিল্পীরা যদি গান গাইতে না পারেন, তাহলে তাঁদের সংসার চলবে কীভাবে ? তাঁরা তো গান গেয়েই পেট চালান। একের পর এক অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়া হলে একসময় বাধ্য হয়ে তাঁরা পেশা পরিবর্তন করবেন। তখন আর বাউল গান গাওয়ার মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। এভাবেই একটা সংস্কৃতিকে ধীরে ধীরে শেষ করে দেওয়া সম্ভব।

একই ঘটনা ঘটছে মেয়েদের ফুটবল খেলার ক্ষেত্রেও। যে মেয়েরা ফুটবল খেলতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছিল, তাদের অনেকের কাছেই খেলাধুলা শুধু বিনোদন নয়, আয়েরও একটি উৎস। তাদের খেলা বন্ধ করে দিলে তারা কোথায় যাবে? একদিকে মেয়েদের খেলতে দেওয়া হবে না, অন্যদিকে গান গাইতেও দেওয়া হবে না। তাহলে তারা করবে কী? ঘরের মধ্যে বসে থাকবে? এভাবে মানুষের চলাফেরা, পেশা আর বিনোদনের ওপর একের পর এক বাধা সৃষ্টি করে একটা বদ্ধ সমাজ তৈরির চেষ্টা চলছে।

মানুষ আস্তে আস্তে প্রতিবাদী হয়ে উঠছে। এত দিন ধর্মের কথা বলে ভয় দেখালেই অনেকে চুপ করে যেতেন। এখন সেই পরিস্থিতি কিছুটা হলেও বদলাতে শুরু করেছে। মানুষ যখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার মতো অবস্থায় পৌঁছে যায়, তখন এভাবেই ঘুরে দাঁড়ায়। শওকত আলীর ঘটনাটি হয়তো তারই একটি ছোট উদাহরণ।

গাজীপুরের ঘটনাটি ইতিমধ্যে দেশব্যাপী ভাইরাল হয়েছে। আমাদের সিনিয়র ব্লগার জুল ভার্ন সাহেব বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন। তাই এখানে সেই ঘটনা নিয়ে আর বিস্তারিত লেখার প্রয়োজন মনে করছি না।

সুনামগঞ্জে আপত্তি উপেক্ষা করেই বসলো বাউল গানের আসর, গাইলেন নারী শিল্পীরাও-টিবিএস রিপোর্ট

যৌন নিপীড়নের কারনে শিক্ষককে থাপ্পড় দেওয়া সেই রুমির বার্তা :‘আমাকে হুমকি দিয়ে দমিয়ে রাখার স্বপ্ন দেখো না- বিডি টুডে

ফটোকার্ড : টিবিএস রিপোর্ট



সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৩২
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ব্লগের পরিবেশ এখন যথেষ্ট ভালো

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৫




ব্লগে মাঝে মাঝে কোন লোক থাকে না। মাঝে মাঝে কম লোক থাকে। সাইলেন্স ইজ গোল্ডেন-নিস্তব্ধতা হিরম্ময়।এ অবস্থা বিরাজমান হওয়াতে ব্লগের পরিবেশ এখন যথেষ্ট ভালো। কোখাও কেউ নেই। ব্লগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

একলা বিকেল

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৫

-একা থাকো?
-না।
-কে থাকে সাথে?
-কেউ না।
-তাহলে কিভাবে বলছো একা থাকো না?
-থাকি না তো।
-কিভাবে?
-তুমি থাকো যে পাশে।
-বাহ! ………কতক্ষণ থাকি?
-সারাক্ষণ। টেবিলে বসে খাচ্ছি, তুমি সামনে। রান্না করছি, তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

না ফেরার দেশে চলে গেলেন রথো রাফি

লিখেছেন ফেনা, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৩



আজ অনেক দিন পর ব্লগে আসলাম। আসলে চাকুরী জীবনের প্রেসার সামলাতে সামলাতেই সময় চলে আয়, নেটে আর তেমন আসা হয় না। আজ আসলাম রাফি ভাই এর মৃত্যু সংবাদটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার পোষ্টে ব্লগার অপু তানভীরের এআই আপত্তি এবং এর এআই জবাব

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩০





কোন কিছুর অস্তীত্ব বিহীন মহাশূন্যে অস্তিত্বের প্রক্রিয়া কি ছিল?

অপুতারভীরের এআই আপত্তি-
আপনার লেখা সম্পর্কে এআই মূল্যায়ন নিচে দিলামঃ
১. শূন্যতা ও উদ্ভবের ভুল ব্যাখ্যা (Misinterpretation of Void and... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের লেবাস নয়, শিশুর নিরাপত্তাই হোক আমাদের প্রথম দায়িত্ব!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৫১

ধর্মের লেবাস নয়, শিশুর নিরাপত্তাই হোক আমাদের প্রথম দায়িত্ব!

একজন বাবা তাঁর ছয় বছরের কন্যাকে মাদ্রাসায় পাঠিয়েছিলেন দ্বীনি শিক্ষা, নৈতিকতা ও নিরাপদ ভবিষ্যতের আশায়। তিনি কি কখনো কল্পনা করেছিলেন, ধর্মীয় শিক্ষকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×