নীল জোছনায় পাম জুমেরায়
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
লুৎফুর রহমান
সেদিন ছিলো ২৯ আগস্ট ২০১২। নীল জোছনার রাত। বিশ্বের সব মানুষ চিলো কৌতুহলি। নীর চাঁদোয়ার হাতছানি অবগাহন করতে আবেগের নদীতে। আরব আমিরাতের দুবাইতে আসা জোছনা পাগল পর্যটকরাও ভীড় জমায় পাম জুমেরায়। খুব কাছাকাছি উদোম গায়ে চাঁদের কেলা দেয়া যায় এই পাম জুমেরায়। আমরাও গেলাম। নীল চাঁদোয়ায় ঘেরা সবুজ মরা পাতার ফাঁকে চাঁদের লুকোচুরি দেখতে। রবিউল ভাই, জাফর ভাই, জাবেদ ভাই ও মশকুরকে নিয়ে আমাদের যাত্রা। দুবাইয়ের দেরা শহর থেকে রাত ১টার দিকে ছুটে চলি পাম জুমেরায়। ভালবাসায় রাতকে দিন করতে এই জোছনা মাতলামি আমাদের। নীরব রাস্তায় গাড়ি চালিয়ে প্রায় ২.৩০ মিনিট এর দিকে পৌঁছলাম পাম জুমেরায়। এলাকাটি ভিআইপি। এখানে সাধারণ মানুষ খুব কমই আসে। এখানে চলে বিশ্বের বড় বড় বিজনেস ডিল। বিমেষ করে সৌদি আরবের মেখরা দুবাইয়ের শেখদের সাথে বা অন্য কোনো ব্যবসার কাজে আসলে তারা উঠেন পাম জুমেরার পাশের হোটেল বা রিসোর্টগুলোতে।
নীল চাঁদোয়ায়, খেজুর পাতায়
দিনের আলো শেষ হয়ে রাত নেমে আসে। সূর্য চুপটি করে চলে যায় পৃথিবীর অন্য কোনকে আলকিত করতে। রাত নেমে আসে। উঁকি দেয় চাঁদ। সূর্য তার আলো দিয়ে দেয় চাঁদকে। নাও আলোকিত কর তোমার ভুবন।ভালোবেসে চাঁদ আলোয় ভাসিয়ে দিতে আসে। নিজের আলো নেই তবুও ভালোবাসার জোছনা নিয়ে আসে। কিন্তু রাত; হায়! পালিয়ে গেল কি? নাকি হারিয়ে গেল।এ রাত যেন দিনের আলো মাখা হাসি নিয়ে কিলবিল করছিলো। পাম গাছ মানে খেজুর গাছের পাতার ফাঁকে নীল জোছনার আলোয় আলোকিত আশপাশেষর রঙিন দালানগুলো। চারপাশের রিসোর্টগুলোর অনেক খ্যাতিও। গিনেজ বুকে নাম কিলখিয়েছে তাদের আটপন স্বকয়িতায়। রিসোর্টের পুরো আলো নিভিয়ে রাখা হয়েছে। শুদু রাখা হয়েছে বাইরের ও গেইটের হালকা আলোর বাতি। যেন চাঁদকে উপভোগ করার এ সুন্দর আয়োজন। আর এ আয়োজন মনে করিয়ে দেয। সুনামগঞ্জ পৌরপিতা মরহুম কবি মমিনুল মউজদীনের কথা। জোছনাপাগল এ কবি পুরো শহরের আলো নিভিয়ে শহরবাসীকে দেখাতের জোছনার আলো। আমরা মাথার উপর নীল আলো নিয়ে ফুরফুরে মেজাজে তুলতে থাকলাম ছবি। আশপাশে মুদু আমরাই নয় বরং ইউরোপসহ নানা দেশের পর্যটকদের উন্মাদনা আমাদের উত্তেজনাকে আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে।
ক্লাশব্যাক অব পাম জুমেরাহ
পাম জুমেরাহ সংযুক্ত আরব আমিরাত মধ্যে দুবাই সরকার এর মালিকানাধীন এবং HHCP স্থাপত্যবিদ দ্বারা পরিকল্পিত একটি কৃত্রিম পর্যটন ভূমি। নাখিল কোম্পানী কর্তৃক জমি উদ্ধার করে তৈরি একটি কৃত্রিম দ্বীপমালা। এর দৈর্ঘ্য ৫২০ কিলোমিটার (৩২০ মাইল)। এটি দুবাই এর shoreline বৃদ্ধি, ফার্সি উপসাগরীয় মধ্যে পাম দ্বীপপুঞ্জ তিনটি যথাক্রমে (পাম Jumeirah, পাম জেবেল আলি ও পাম Deira) নামক তিনটি পরিকল্পনা দ্বীপপুঞ্জের একটি পাম Jumeirah । Nakheel দ্বারা মূলত উন্নয়ন অধীনে তিনটি পাম দ্বীপপুঞ্জ মূল হল.এটি। আরব আমিরাতের রাজকয়ি উপকূলীয় এলাকার উপর অবস্থিত এটি। ২০০১ সালের জুন মাসে পাম Jumeirah দ্বীপ শুরু হয। ২০০৬ সালে প্রথম আবাসিক ইউনিট হস্তান্তর ঘোষণা করেন স্তানীয় সরকার। দ্বীপ বালির 94,000,000 ঘন মিটার (3.3 × 109 Cu ফুট) এবং শিলা 7 মিলিয়ন টন ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে . পাম Jumeirah । ড্রেজার ব্যবহার 10.5 মিটার গভীর সমুদ্রতলদেশের সম্মুখের বালি ভরাট ঢালাও দ্বারা নির্মিত হয়েছিল সমুদ্রতল উপরে। 3 মিটার বালি ভরাট ক্রমবর্ধমান দ্বীপ পৃষ্ঠের উপর স্প্রে করা হয় যা "rainbowing" নামে পরিচিত একটি ড্রেজিং কৌশল, দ্বারা অর্জন করা হয়. চুনসম্বলিত বালি উদ্ধারের জন্য ব্যবহৃত হয়। দ্বীপে একটি প্রাকৃতিক প্রাচীর নির্মাণ উত্সাহিত এবং সমুদ্র জীবনের জন্য আবাসস্থল প্রদান উদ্দেশ্যে প্রাকৃতিক শিলা ব্যবহার করে একটি বাঁকা ঊর্মিবেগনিবারণার্থ বাঁধ, অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে. জমি ফর্ম ডাচ কোম্পানী ভ্যান Oord দ্বারা পুনরায় দাবি ছিল. মোট খরচ মার্কিন $ 12.3 বিলিয়ন পৌঁছেছেন এবং দ্বীপে বজায় রাখার একটি ব্যয়বহুল ব্যয় হয়. বেশিরভাগই দক্ষিণ এশিয়া থেকে প্রায় 40,000 শ্রমিক,, দ্বীপ নির্মাণের সাথে জড়িত হয়েছে। এর নির্মাণ শ্রমিক বেশির ভাগ ছিলো বাংলাদেশী।
অক্টোবর ২০০৭ সালে এটি সম্পূর্ণ করা হয়। পাম Jumeirah ইতিমধ্যেই বিশ্বের বৃহত্তম কৃত্রিম দ্বীপ হয়ে উঠেছে। এছাড়াও এই সময়ে, বৈশিষ্ট্য 75% 500 পরিবার ইতিমধ্যে দ্বীপে বসবাস সঙ্গে হস্তান্তর করতে প্রস্তুত ছিল. [6] দ্বারা 2009 সালের শেষ, 28 হোটেলের ক্রিসেন্ট খোলা হয়। পাম জুমেরায় আছে বিশ্বের নামি দামি রিসোর্টগুলো-
The Fairmont Palm Hotel & Resort, Kempinski Hotel & Residences, Rixos The Palm Dubai, Atlantis, The Palm, Royal Club, Dubai, Oceana, The Palm Jumeirah, Jumeirah Zabeel Saray
Oceana Residence, Palm Jumeirah, Tiara Residence, One & Only The Palm, Palm Jumeirah Residences, Beach Apartments, Palm Jumeirah, The Residences, Palm Jumeirah, Waldorf Astoria, Palm Jumeriah.
কাগুজে দালান, স্বপ্নের বাতিঘর
পাম জুমেরার দ্বীপকে ঘিরে গড়ে ওঠেছে কাগুজে দালান। চারপাশের হোটেল আর রিসোর্টগুলো দেখলে মনে হয় যেন কাগজ দ্বারা নির্মাণ করা হয়েছে। আবার রিসোর্টের থবরে রয়েছে নানা আয়োজন। 46 হেক্টর (110 একর) পাঁচ তারকা রিসোর্ট শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য আকর্ষণ রয়েছে। প্রধান আকর্ষণ একটি 17 হেক্টর (42 একর) বারো জল স্লাইড সঙ্গে ওয়াটার পার্ক এবং ক্যাসকেড সঙ্গে 2.3 কিলোমিটার নদী যাত্রায়, জোয়ারের ঢেউ হয় এবং জোছনার আবেদন. আকাশ মধ্যে প্রায় 30 মিটার পৌঁছনো এবং একটি হাঙ্গর পূরণ উপহ্রদ মাধ্যমে স্পষ্ট টিউব মধ্যে রাইডার্স গুলতি দুই যার মধ্যে জল স্লাইড সমন্বিত দুই Mesopotamian স্টাইল Ziggurat মন্দির আছে. লস্ট চেম্বারস একটি 11 মিলিয়ন লিটার সামুদ্রিক বাসস্থান যা রাষ্ট্রদূত উপহ্রদ, সহ 65,000 ওভার মাছ এবং সমুদ্র প্রাণীর সঙ্গে একটি অ্যাকোয়ারিয়াম প্রদর্শনী হয়. উপহ্রদ অ্যাটলান্টিস এর ধ্বংসাবশেষ একটি উপস্থাপনা মধ্যে দেখায়, যা একটি দশ মিটার দীর্ঘ, সত্তর সেন্টিমিটার পুরু দেখার প্যানেলের মাধ্যমে ইস্ট টাওয়ার বেস দেখা যাবে। Aquaventure ওয়াটার পার্ক জুড়ে ডলফিন বে, একটি 4.5 হেক্টর শুশুক শিক্ষা ও সংরক্ষণ কেন্দ্র।দুবাই দিগন্ত সম্মুখীন সৈকত একটি প্রসারিত আছে. সৈকত উপর 700 সূর্য শয্যা আছে।
পোশাক এবং মণিরত্ন সহ খুচরা স্থান 1,900 M2 (20,000 বর্গ ফুট), এখন পর্যন্ত. Tiffany পন্থায় মধ্যে একটি দোকান আছে। সবমিলিয়ে পাম জুমেরা যেন মিনি এক পর্যটন দুনিয়া। একদিকে বিশাল আয়োজন অন্যদিকে কৃত্রিম দ্বীপ ও খোলা আসমান আপনাকে জানান দেয় মনসাগরে অবগাহনের।
লেখক: সম্পাদক, মাসিক মুকুল, দুবাই।
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................

কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন
পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....
একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন
জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন
আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন
[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]
“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"
২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন
ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।