
বাংলাদেশের বর্তমান সরকার যারা মুলত ১/১১ এ ফখরুদ্দিন -মঈনুদিন ও পরবর্তী তে ৫ জানুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে জাতির ঘাড়ে সষেরভূতের মত চেপে আছে আর উন্নয়নের চায়না মডেল যাকে বলে - নিজস্ব অর্থায়নে বড় বড় প্রকল্প ও অবকাটামো বাস্তবায়নের ঢেকুর তুলে নিজেদের ক্ষমতা দীজ্ঞায়িত করতে মরিয়া হয়ে গেছে আসলে তা সত্যি নাকি আয়নাবাজী ।
জনগণের কল্যাণ হিসেবে উন্নয়নকে সংজ্ঞায়িত করার জন্য আমাদের অধিকাংশেরই এই সংজ্ঞাটির অর্থ কি তা বিচার করি না।
উন্নয়ন দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তনের একটি ধারণা বহন করে। মুক্তিযুদ্ধা বা দুস্ত কোন ব্যক্তি কে একটি আবাসন বা ভাতা প্রদান একটি মানবিক কল্যাণকর প্রন্তা যা ঔ ব্যক্তির উন্নতির জন্য একটি চমৎকার খরচ কার্যকরী উপায় হতে পারে,
কিন্তু যদি আবাসন বা ভাতা প্রদান বন্ধ হলে যখন উন্নতি চলে যায়, আমরা সাধারণত যে হিসাবে বর্ণনা করবে না যে প্রকৃত উন্নয়ন সাধিত হয়েছে।
এ থেকে বোঝা যায় যে উন্নয়ন নাগরিকদের কল্যাণের উন্নতির চেয়েও বেশি, এমনকি বিস্তৃতভাবে সংজ্ঞায়িত। এটি অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থার সামর্থ্য সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট ধারণা দেয় যা একটি সুদৃঢ়, দীঘ্যমেয়াদের পরিকল্পনার ভিত্তিতে প্রতিষ্টিত।
নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন লিখিত Development as Freedom "স্বাধীনতাবিষয়ক উন্নয়ন" হিসাবে, উন্নয়নকে অবহেলিতদের স্বাধীনতা এবং ক্ষমতার উন্নতির সাথে সম্পর্কিত বলে মনে করেন, যার ফলে জীবনমানের সামগ্রিক মান উন্নত হয় - যা প্রকৃতপক্ষে জনগণের ক্ষমতার বিষয়।
অমর্ত্য সেন ধারণাটি অনুসরণ করেন যে উন্নয়ন মানুষকে তাদের দ্বারা গভীর দুঃখকষ্ট থেকে মুক্ত করার সুযোগ দেয়।
সেনের মতে, উন্নয়ন হচ্ছে জনগণের জন্য স্বাধীনতা তৈরি এবং বৃহত্তর স্বাধীনতার বাধা দূর করা। বৃহত্তর স্বাধীনতা মানুষকে নিজের ভাগ্য নির্বাচন করতে সক্ষম করে।
স্বাধীনতার বাধার কারণে উন্নয়ন, দারিদ্র্য, অর্থনৈতিক সুযোগের অভাব, দুর্নীতি, দুর্বল শাসন, শিক্ষার অভাব এবং স্বাস্থ্যের অভাব অন্তর্ভুক্ত।
যদিও কমিউনিজমের দেশ চায়নাতে উপরোক্ত সবকটির সুচকের উপস্থিতি আছে কিন্তু বাংলাদেশে কাযত সবগুলোর অভাব পরিলক্ষিত হয়।
বিশ্বব্যাংকের হিসাব মতে, বিশ্বের কয়েকটি দেশের চেয়ে সড়ক নির্মাণে বাংলাদেশে খরচ বেশি পড়ে। প্রতি কিলোমিটার সড়কে এ দেশে প্রায় ৫৫ কোটি টাকা খরচ হয়। যা ভারত ও চীনের চেয়ে অনেক বেশি। এই বাড়তি খরচের জন্য উচ্চ মাত্রায় দুর্নীতি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়া ও দরপত্রে প্রতিযোগিতা না থাকাকে দায়ী করেছে বিশ্বব্যাংক।
বাংলাদেশে সর্বশেষ পদ্মা সেতু প্রকল্পের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ২৮৬ কোটি ১৯ লাখ টাকা।
তারও আগে ২০০৭ সালে পদ্মা সেতু প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ১০ হাজার ১৬১ কোটি ৭২ লাখ টাকা। ২০১১ সালে প্রথম সংশোধনীতে ব্যয় বাড়ানো হয় ২০ হাজার ৫০৭ কোটি ২০ লাখ টাকা। আরো কত দফা ব্যয় বাড়বে তা নিয়ে সচেতন মানুষের উদ্বেগের শেষ নেই।
বাংলাদেশ গত তিন মাসে জানুয়ারি - এপ্রিল ২০১৮ প্রায় ১৮৭ জন নারী নানাভাবে Raped হয় যা বস্তুত সামাজিক অস্থিরতার চিএ তুলে ধরে।
সমাজে যদি আইনের শাসন ও আইনের কঠোর প্রয়াগ থাকতো তবে এই রকম অপরাধের মাএা নিম্নতম হতো বলেই আশাকরা যেত।
দেশে এখন মানুষের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই, প্রতিনিয়ত মানুষ গুম হচ্ছে। মাদকের ভয়াল থাবা গ্রাস করছে তরুন সমাজকে।
আইনের শাসন বলতে বাংলাদেশে শাসক দলের ইচ্ছা বা অনিচ্ছার উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল।
যেখানে সংয় প্রধান বিচারপতি কে দিগম্বর করে দেয়া হয় সিখানে সাধারণ মানুষের সু বিচার পাওয়া শুধু একরাশ হতাশা ছাড়া কিছু নয় বৈকি?
যেমন সাবেক তিনবারের প্রধান মন্ত্রী বেগম খালেদাজিয়া মাএ দুই কোটী টাকার ভুয়া মামলায় জামিন না দিয়ে কারাবাস দীঘায়িত করায় আইনের শাসনকে যে বৃদ্ধাগগুলি দেখানো হল তাকে আইনজ্ঞরা সুশাসনের গাঁয়ে এক বিরাটকায় পেড়েক হিসাবে দেখছেন।
শিক্ষাক্ষেএে চরম উদাসীনতা যা আগামীতে এক অন্তঃসারশূন্য সমাজ বিনির্মান করবে তাতে কোন সন্দেহ নাই,আমাদের আজকের অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে শিক্ষাকে এবং পরীক্ষার ফল প্রকাশকে রাজনীতির সাথে মিশিয়ে তালগোল পাকিয়ে দেয়া হয়েছে। বেশি পাস করানোর উপযোগিতা এক চরম উদাসীন রাজনৈতির প্রয়াস । বেশি পাসের হার সরকার জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে ঠিকই কিন্তু ছাত্রছাত্রী আদৌ কী পড়াশোনা করল এবং কী পরীক্ষা দিল সেটা বড় কথা নয়, পাস করিয়ে দেওয়া হলো কি না, সেটাই প্রধান। হয়তো শিগগিরই সব পাশের দেশ বাংলাদেশ হিসাবে গ্রিনিচ বুক এ ঠাই করে নিলেও অবাক হওয়ার কিছুনা ।
কমিউনিস্ট রাষ্ট্র চায়নাতে সিনপে কে আজীবন রাষ্ট্রপ্রধান হিসাবে ঘোষনা করা হয়েছে ধারন করা হচ্ছে বাংলাদেশও ঠিক এমনি করে উন্নয়নের ভুয়া রেওয়াজ তুলে আর মুক্তিযুদ্ধের তথাকথিত প্রকৃত দল হিসাবে শেখ হাসিনাক আজীবন প্রধানমন্ত্রী করার এক কৌশলী প্রয়াস চলছে যার প্রাথমিক সুচনা হয়েছিল বি, ডি,আর হত্যার মাধ্যমে আর এখন আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কে সরকারের সেকেন্ড দল হিসাবে সব অপরধের সহায়তাকারী হিসাবে প্রতিস্টিত করা হচ্ছে।
উন্নয়নের এই আয়নাবজী তে কান না দিয়ে সুজলা সুফলা এই দেশের সহজ সরলা মানুষগুলো সব কুঠকৌশল সমৃলে বিনাশ করে দেবে এই প্রত্যাশা।
লেখক: এম.লতিফুর রহমান,
(এম,এস,এস,(অর্থনীতি)
এমবিএ (বিজনেস এডমিনিস্ট্রেসন)
এম ফিল (থিসিস পা্র্ট)
গবেষনাকর্মী (উন্নয়ন অর্থনীতি)
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই এপ্রিল, ২০১৮ রাত ১:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


