
পর্ব --০১
(২)
মফিজ রাতে ঘরে ফিরলে খাবার খাওয়ার সময় মা খুব সাবধানে জিজ্ঞেস করলেন,সে কি কোন ফরম পুরণ করেছে বা কোন কিছুতে নাম লিখিয়েছে? মায়ের কথার মর্ম তাৎক্ষণিক না বুঝতে পেরে উল্টো মা'কে প্রশ্ন করলো,
- কেন মা কি হয়েছে!
- সত্যি করে বলতো বাবা- কোন কিছুতে কি তুই নাম লিখিয়েছিস?
- যতদূর মনে পড়ে বেশ কিছুদিন আগে কাজের ফাঁকে স্হানীয় ক্লাবে ইন্ডিয়া -পাকিস্তান ক্রিকেট খেলা দেখতে গিয়েছিলাম।
- খেলার মাঝখানে বিরতির সময় দশ টাকা দিয়ে লটারির ফরম পুরণ করি।
- কেন মা কি হ'য়েছে
- নাহ মনে হয় কেউ তোকে ভুল কোনকিছুতে প্ররোচিত করেছে।
- নাহ মা, আমার কাজের অনেকই করেছে, এটা ছিলো ভাগ্যের পরীক্ষা যদি একবার লেগে যায় তবে এদেশে থাকা লাগবে না। বিদেশে গিয়ে অনেক টাকা রোজগার করতে পারবো।
- বোকা ছেলে আমার এ দেশ আর তোর মা'কে ছেড়ে কোথায় যাবে ?
- ঠিক আছে মা আর ওই ক্লাবে যাবো না।
-দেখতে দেখতে তুই বড় হয়ে গেলে তোর জন্য একটা বউ নিয়ে আসলে বাঁচি সেজন্য আগে থেকেই আমরা শহরে চলে যাবো।
- শহরে কেনো মা? এখনে থাকলে কি দোষ!?
- শহরে গেলে কাজ কোথায় পাবো?
-সেটা পড়ে দেখা যাবে তুই কাল কাজের জায়গা থেকে বিদায় নিয়ে আসবে এটা আমার ফাইনাল কথা। আমরা এখান থেকে চলে যাবো।
- ঠিক আছে মা তাই করবো।
হাফিজের পরামর্শ অনুযায়ী মফিজের মা চিঠির কথা গোপন রাখেন। তিনি ভাবলেন হাফিজ যা ব'লেছে তা তো আসলেই সত্য। মফিজকে কেউ প্রলোভন দিয়ে চরমপন্থী গ্রুপের সদস্য বানিয়ে ফেললো। এখন তাদের হাতে বাড়ি ছাড়া আর কোন পথ খোলা নেই।
খুব সকালবেলা কাজের জায়গায় গিয়ে নোটিশ দেওয়ার পর তার ম্যানেজার বললো এটা হতে পারে না। গত ছয় বছর যাবৎ তুমি আমাদের এখানে কাজ করতেছো। মালিকের সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও পুরানো কর্মচারীকে এভাবে বিদায় দিতে পারবে না। বিকালে মালিক আসার পর তার কাছে কাজ ছাড়ার ব্যাপারে বুঝেশুনে কথা বলতে তার ম্যানেজার অনুরোধ করলো।
বিকালবেলা মালিক সবকিছু শুনে বললেন,তাহলে ভালোই হলো। উনি চট্টগ্রামের হালি শহরে আগামী তিনমাসের মধ্যে নতুন একটি গ্যারেজ ও পাম্প খুলতে যাচ্ছেন। এখন সাইডে মাঠি ভরাটের কাজ চলছে। আপাততঃ যেন সে সাইড দেখাশোনা করে সেই সাথে তার বেতন সাড়ে তিন হাজার থেকে বাড়িয়ে পাঁচ হাজার দেওয়ার কথা হলো।
বাড়ি ফিরে মা'কে কথাটা জানানোর সাথে সাথে উদ্বিগ্ন মায়ের মুখে হাসি ফুটে ওঠে। তিনি মফিজের মুখের দিকে একদৃষ্টিতে চেয়ে থেকে বললেন, আল্লাহ এভাবেই ফেরেশতা পাঠিয়ে বিপদগ্রস্তকে বিপদ থেকে উদ্ধার করেন।
পরদিন খুব ভোরে মা ছেলে রওয়ানা দিলো নতুন জায়গায়। সৎ ভাই হাফিজ তাদের সাথে সাথে আসলো স্টেশন পযর্ন্ত। তাদেরকে বাসে তুলে দিয়ে হাফিজ রওয়ানা দিলো ইউনিয়ন অফিসে জন্ম নিবন্ধন করার জন্য, সেখান থেকে সে যাবে পাসপোর্ট অফিসে। তার হাতে অনেক কাজ খুব দ্রুত ও সর্তকতার সহিত সেগুলো শেষ করতে হবে ।
(৩)
পেট্রোল স্টেশনের মালিকের একান্ত সহায়তায় হালিশহরের একটি ভাড়া বাসায় মা'কে নিয়ে উঠলো। নতুন কাজের জায়গায় শুধু সকাল-বিকাল সাইড তদারকি করা ছাড়া আপাততঃ কোন কাজ নেই। নিজেকে বেশ সুখী মানুষ ভাবতে লাগলো। কিছুদিন পর কাজের চাপ বেড়ে যাবে তাই মা দূর সম্পর্কের এক খালাতো বোনের সাথে বিয়ের ব্যাপারে পাকাপোক্ত করলেন । অত্যন্ত সাদামাটা ও ঘরোয়াভাবে একমাসের মধ্যে মফিজ বিয়ে করে খালাতো বোন মনি বেগমকে। মনিদের পাঁচ বোন তাদের দু'জনের বিয়ে হয়ে গেছে। কোন ভাই নেই ফলে আয় রোজগারের দায় বাবার উপর। মনিদের পারিবারি অবস্থা তেমন ভালো নয়। মনি বেগম পাঠশালা পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে। বিয়ের কিছুদিন পর স্হানীয় একটি কোম্পানিতে ক্লিনার হিসাবে কাজ পেয়ে যায়। মনি দিনের বেলা কাজ করে আর মফিজ রাতের শিফটে কাজ করে। দু'জনের আয় রোজগারের মাধ্যমে মোটামুটি আনন্দময় তাদের দিন কেটে যাচ্ছে।
বছর ঘুরতেই মনি বেগম প্রেগন্যান্ট হয়ে গেলো। ডাক্তার কনফার্ম করে দিয়েছেন তাদের ঘর জুড়ে যমজ শিশু আসতেছে। যেহেতু জোড়া শিশু তাই তাদের আগাম ডেলিভারির জন্য প্রস্তুতি থাকার নির্দেশ দিলেন। যেখানে স্বাভাবিক নারীর ছয়ত্রিশ বা আটত্রিশ সপ্তাহে লাগে সেখানে তাদের সময় দেওয়া হলো তেত্রিশ সপ্তাহ। যেকোনো পরিবারে নতুন অতিথির আগমনে মা- বাবার মনে আনন্দের বন্যা বয়ে নিয়ে আসে। সেখানে মফিজের মনে আজানা আশংকা ছেয়ে গেলো। স্বামী স্ত্রী মিলে যা আয় রোজগার করে তা দিয়ে কোনরকম সংসার চলছে। এদিকে মায়ের শরীরে অসুখ বাঁধা বেসেছে।অসুস্থতা দিন দিন বেড়ে চলছে তার জন্য চিকিৎসা খরচ তো আছে। মফিজ স্ত্রীর পেটে হাত বুলায় আর ভাবে কেমন করে তোদের পৃথিবীর মুখ দেখাবো। জন্মের পর তাদের কিভাবে লালান পালন করবে যখন তার স্ত্রীর কাজ থাকবে না। মেটারনিটিতে ছুটি নিলে তো কোন টাকা পয়সা পাবে না তখন তার একার বেতন দিয়ে সংসার চলবে কিভাবে! কিভাবে বাচ্চার জন্য নতুন জামা, শীতের কাপড় নিয়ে আসবে। দেশে তো কোন জমিজমা নেই যে বিক্রি করবে। ভাইয়েরা টাকা পয়সাই বা কোথায় পাবে! ভাইদের কাছে একবার গিয়ে চেষ্টা করে কি দেখবে!
মফিজ তার মালিককে অগ্রীম বেতন চাওয়ার কথা বললে তিনি তিন মাসের জন্য অগ্রীম বেতন দিতে রাজি হলেন। সেই টাকা দিয়ে তো আর ডেলিভারির বিল হবে না। আর কোথায়ও কোন টাকা পাবার কোন আশা নেই। চিন্তাগ্রস্ত স্বামী - স্ত্রী প্রতি রাতে একে আন্যের মুখে চেয়ে থাকে। মনি বেগম বলে সে বাচ্চা জন্মের একমাসের মাথায় কাজে যোগ দিবে। কিন্ত অপারেশনের জন্য তো তাকে অন্ততপক্ষে দু মাস বিশ্রাম নিতে হবে। এই পিরিয়ড কিভাবে সংসারের খরচ যোগার হবে। মফিজ তো একা ম্যনেজ করতে পারবে না। দুটি নরনারীর যেন কুল-কিনারাহীণ সাগরের তলদেশে অবস্থান। যে মফিজ শত আঘাতেও একবার কাঁদেনি এখন সন্তানের জন্য প্রতি রাতে কাঁদে। কান্না যেন তার এখন নিত্যসঙ্গী। এখন কি শরীরের বিশেষ কোন অঙ্গ বিক্রি করে মফিজ স্ত্রীর ডেলিভারির ব্যবস্হা করবে নাকি কোন একটা উপায় হয়ে যাবে। দু'টি জীবনকে সে পৃথিবীর আলো দেখাবে সে যেমন করেই হোক।
পর্ব -৪
------------
রাত দু'টো বাজতে এখনো চল্লিশ মিনিট বাকী। এমন সময় পেট্রোল স্টেশনে একটি দামী গাড়ি এসে ঢুকলো।একহাজার টাকার পেট্রোল কিনে বিল দিতে এলেন বেশ ধীরস্থির ও নিস্পাপ চেহারার বৃদ্ধ। মফিজ বাবাকে হারিয়েছে সে নেক দিন কিন্তু এই লোকটার মুখটা দেখে আজ বাবার কথা মনে পড়ে গেলো । বৃদ্ধ লোকটি কেন রাত করে বাড়ি ফিরেছে?
বিল পরিশোধ শেষে লোকটি মিষ্টি হাসি দিয়ে মফিজকে ধন্যবাদ দিতে ভুললেন না। লোকটাকে দেখে কেমন যেন আপন আপন মনে হলো। লোকটির দামী রেঞ্জ রোভার ব্র্যান্ডের গাড়িটা নিয়ে চলে যাওয়া দেখতে থাকলো। মফিজের হঠাৎ চোখে পড়লো বেশ দূরে মহাসড়কের পাশে একটি গাড়ি থেমে আছে। প্রথমে ভাবলো কোন দূর্ঘটনা নাকি ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে মনে হয়। এই সড়কে অহরহ এমন ঘটনা লক্ষ্য করা যায়। বেশ কতক্ষণ পরে বুঝতে পারলো, এই রাতের অন্ধকারে বিপদ সংকেত লাইটের আলোয় দেখা যাচ্ছে কে যেন হাত নেড়ে নেড়ে সাহায্যে চাচ্ছে । এত রাতে ভয়ে হোক আর বাড়ি ফেরার তাড়া হোক কেউ দাড়াচ্ছে না। কেউ দেখতে চাইলো না কেন লোকটা হাত নেড়ে সাহায্য চাইছে। সবাই যার যার মতো চলে গেলো।
মফিজ অনেকক্ষণ ধরে এই দৃশ্য দেখছে কিন্তু সে চাইলেও যেতে পারছে না। মনটা গাড়ির আজানা মালিকের জন্য ছটফট করে উঠলো। নিশ্চিত কেউ একজন বিপদে পড়েছে কেউ উদ্ধারের জন্য এগিয়ে গেলো না। সেই একমাত্র রাতের স্টাফ যে রাত দু'টা হলে পাম্প বন্ধ করে ঘরে যাবে। টানা পয়ত্রিশ মিনিট থেকে গাড়ির সংকেত লাইট জ্বলছে। যদিও ঘরে প্রেগন্যান্ট স্ত্রী তবুও রাত দু'ইটার সময় পাম্প বন্ধ করে যত দ্রুত সম্ভব সে গাড়ির কাছে যাবে এই মনস্থির করলো। যখন মনে মনে এসব ভাবতেছে হঠাৎ সেই বৃদ্ধ লোকটি তার সামনে এসে দাঁড়ালেন। মলিন ও শুষ্ক মুখে তার দিকে তাকিয়ে ঠোঁট চেপে হাসি দিয়ে জানালেন গাড়িতে ভুল করে পেট্রোলের বদলে ডিজেল ঢুকানোতে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গেছে। এখন এত রাতে কি করবেন জানেন না। অনেক চেষ্টা ক'রেও কোন যানবাহন না থামাতে পেরে গাড়িটা রেখে হেঁটে হেঁটে এখানে এসেছেন। এবার যদি সে কোন সাহায্য করতে পারে নতুবা সকাল হওয়ার আগ পযর্ন্ত তাকে গাড়িতে বসে থাকতে হবে। মফিজ কাজ শেষ করে গাড়িটা যাতে সচল হয় সে ব্যবস্হা করার আশ্বাস দিলো। বৃদ্ধলোক গাড়ির দিকে চলে গেলেন। মফিজ কাজ শেষ করে খুব দ্রুতপায়ে গাড়ির দিকে গেলো। যাবার সময় পাঁচ লিটারের এক ড্রাম পেট্রোল নিলো। প্রায় এক ঘন্টার মতো সময় কষ্ট করে গাড়ির ডিজেল পরিবর্তন করে পেট্রোল ভরিয়ে দিয়ে। গাড়ির ইঞ্জিন আবারো চালু হলো। বৃদ্ধ লোকটি অনেক ধন্যবাদ জানিয়ে মফিজকে এক হাজার টাকার পাঁচটি নোট ধরিয়ে দিলেন। টাকার দিকে মফিজ শৈণ্য দৃষ্টিতে তাকায়। এই টাকাটা তার এই মুহূর্তে খুব দরকার, একটা নয় দু'টি নয় চারটি জীবনের বৃহত্তর প্রয়োজনে টাকাটা তার চাই। বৃদ্ধ লোকটি অনেকক্ষণ থেকে হাতে টাকাটা ধরে ছিলো এবার মানিব্যাগ থেকে আরো দুটি একহাজার টাকার নোট যোগ করলেন। আস্তে করে বললেন মনে হয় রাতের কাজের জন্য তোমাকে কম পারিশ্রমিক দিয়েছিলাম তাই টাকাটা নেও নি। আশাকরি এবার ঠিক আছে । মফিজ টাকাটা নিতে অস্বীকার করে। সে বলে এতো রাতে আপনাকে সাহায্য করা আমার দায়িত্ব। এরজন্য আমি কোন টাকা নিবো না। বৃদ্ধ আশ্চর্য হয়ে বলেন কি বলো? এটা তোমার প্রাপ্য ' টাকাটা নাও, 'প্লিজ' নতুবা আমি শান্তি পাবো না। মফিজ বলে ওঠে,স্যার টাকা দিয়ে তো হাসি পাওয়া যায় না। "মানুষের মুখে হাসি ফুটানোর মাধ্যমেই গড়ে তুলতে পারি একটি সুখের পৃথিবী" আমার কাছে আপনার হাসি পাওয়াটাই বড়।
বৃদ্ধ মফিজের বাহুতে হাত বুলাতে বুলাতে বললেন জীবনটা যেন এক পাঠশালা। চলে যাবার সময় মফিজের হাতে একটা ভিজিটিং কার্ড দিয়ে বললেন সময় করে একদিন আমার অফিসে আসো। মফিজের অনেক দেরী হয়ে গেছে স্ত্রী না খেয়ে অপেক্ষা করছে তাই কার্ডটি পকেটে রেখে দৌড়াতে দৌড়াতে চললো তার ঘরের দিকে।
শেষ পর্ব
--------------
গাড়ি করে যাবার সময় বৃদ্ধের মনে শুধু একটি কথাই তীরের মতো বুকের শেলে বিঁধে গেলো।
কি দারুণ কথা - " "মানুষের মুখে হাসি ফুটানোর মাধ্যমেই গড়ে তুলতে পারি একটি সুখের পৃথিবী"
বৃদ্ধ লোকটি দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন, বিদেশ থেকে পি,এইচ,ডি করেছেন। দেশে ফিরত এসে দশ বছরে বিশাল কোম্পানি সাফল্যের রুপকার। বিভিন্ন দেশে সভা সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন। একসময় কবিতায় লেখতেন। তার নিজের হাতে গড়া প্রতিষ্ঠিত 'আর,এল, লিমিটেডের অধীনে প্রায় আটাশ হাজার লোক কাজ করছে। বৃদ্ধের এই ঘটনাবহুল জীবনের এতগুলি বছরের মধ্যে এত সুন্দর কথা শুনছেন বলে মনে হলো না। বাড়িতে এসে বৃদ্ধ তার লেখা 'জীবনের ব্যাকরণ' কবিতার বইটি মেলে ধরলেন। অনেক দিন হয় কবিতা লেখা হয় না। তার কবিতার প্রতিটি লাইন দেখলেন। কোথায় এত সুন্দর কোন লাইন আছে বলে মনে হলো না। একটি কবিতার চরণে তার চোখ আটকে গিয়ে অশ্রু ফোঁটা বইয়ের পাতায় ঝরে পরতে লাগলো -
আজ কিংবা কাল,
কুড়ি কিংবা একশত কুড়ি বছর পর,
তুমি,আমি আমরা সর্বজন,
চলে যাবো মোহমায়া ছেড়ে
এ নশ্বর মানবজীবন।
বৃদ্ধ নিজে নিজেকে প্রশ্ন করতে থাকলেন,জীবনে কয়জন মানুষের মুখে হাসি ফোটালাম? সে রাতে বৃদ্ধের আর ঘুম হলো না। সকাল সাড়ে সাতটায় মিটিমিটি রোদ ওঠার সাথে অফিসে চলে গেলেন। সাধারণত অফিসাররা সবাই দশটার দিকে অফিসে আসে। পরিচ্ছন্ন কর্মীরা সকালে চলে আসে।বৃদ্ধ এককাপ কফি বানানোর জন্য অফিসের কিচেনে গিলেন। সেখানে পুরুষ মহিলা কাজ করে। এই মহিলাকে আগেও দেখেছেন। আজ তার দিকে একবার চোখ পড়ার পর নিজেকে অপরাধী ভাবলেন। তার অফিসের কর্মচারী অথচ তিনি জানেন না। যে সময় মাতৃকালীন ছুটিতে থাকার কথা এই মেয়েটা শরীরের এই অবস্থা নিয়ে কাজ করছে। নিশ্চয় পেটের দায়ে না'হলে এই প্রেগন্যান্ট অবস্থায় কি কেউ কাজ করে!
বৃদ্ধ মেয়েটিকে ডেকে বললেন, তুমি এক ঘন্টা পরে আমার রুমে এসো।
মেয়েটি অফিসের বড়কর্তার এমন আদেশ পেয়ে ঘাবড়ে গেলো।আশেপাশের সবাই হতচকিত হয়ে বললো, আজ মনে হয় আমাদের সবার কাজ যাবে। কার কি ভুল হলো তা নিয়ে সবাই মাতামাতি শুরু করলো।
একঘন্টা পর মেয়েটি রুমে ঢুকল, বৃদ্ধ একটি খাম ধরিয়ে দিয়ে বললেন সোজা বাসায় চলে যাও। এবং পরিবারের সবাইকে নিয়ে খামটি খুলে দেখবে। খামটি হাতে নিয়ে মনে মনে আহাজারি করে মেয়েটি বাড়ি চলে গেলো। স্বামী ও শাশুড়ীকে ঘটনার বিবরণ দিয়ে তার স্বামীকে খামটি খুলতে বললো, তার স্বামী আশ্চর্য হয়ে স্ত্রীর মুখের দিকে তাকালো, সেখানে বড় করে লেখা
"মানুষের মুখে হাসি ফুটানোর মাধ্যমেই গড়ে তুলতে পারি একটি সুখের পৃথিবী"
সে এবার নিজের পকেট থেকে কার্ডটি বের করে দেখলো, গতকাল রাতের সেই বৃদ্ধই আর,এল গ্রুপ লিমিটেডের মালিক জনাব রহমান লতিফ। যিনি তার স্ত্রীকে দু লক্ষ টাকার চেক ও পুরো ছয় মাসের জন্য মেটারনিটি লিভ মঞ্জুর করেছেন। সেই সাথে মাতৃকালীন ছুটি অবস্থায় তার কোম্পানির সকল নারীদের ছয় মাসের জন্য বেতনের পুরো অংশ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এবার মফিজের মা বহু দিনের পুরানো একটি খাম তার হাতে দিলেন। এই চিঠিটা পড়ে শুনাতো বাবা '' মফিজ বলে মা এটা তো অনেক আগের চিঠি, তুমি আমাকে দাও নি কেন? কি লেখা সেই চিঠিতে, তোমাকে বলেছিলাম না লটারির কথা! এখানে লেখা আমি আমেরিকা যাওয়ার জন্য ডিবি-১ লটারি পেয়েছি। মা বললেন তাহলে হাফিজ!! মা' তোমাকে না জানিয়ে আমি দেশের বাড়ি গিয়েছিলাম কিন্তু হাফিজসহ পুরো পরিবারে কেউ বাড়িতে নেই। সবাই বিদেশ চলে গেছে।
সবকিছু শুনে মফিজের মা বলে ওঠলেন, ' এ যেন বুকের ভেতর পাথর কষ্টের চাপ শেষে পাওয়া সুখের পৃথিবী'।
(সমাপ্ত)
উৎসর্গ - এই সামান্য লেখাটি যাকে উৎসর্গ করছি তিনি একজন জ্ঞানী ব্যক্তি,একজন উঁচু মাপের ও উঁচু মনের ভাবুক দার্শনিক সবার প্রিয় ভুয়া মফিজ ভাইকে।।।।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৫:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




