somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অবাক জোছনা...

২৮ শে এপ্রিল, ২০১৫ দুপুর ২:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তাকে কে বোঝাবে ভালবাসার জোছনা শেষ হয়না। আজকে শেষ হলে কাল আবার আসবে।
কোনো এক অব্যক্ত ভাললাগার কারনেই হয়তো সৌরভকে সহ্য করে চলেছে মহুয়া। হয়তো সহ্য করে চলেছিল, অন্যথা নিজের ইচ্ছেকেই গুরুত্ব দিচ্ছিল সে। তচে সৌরভ মহুয়াকে ভালবাসে, এটা মহুয়ার অজানা না। তবে জেনে শুনে অজ্ঞ থাকাটা মহুয়ার কষ্টার্জিত স্বভাব।

"গন্তব্য স্হির থাকলে আর সময়ের খুব বেশি তাড়া না থাকলে পৌঁছানো সুনিশ্চিত হয়ে থাকে।"

কিন্তু সব পথের শেষ থাকেনা। কারণ পৃথিবী গোলাকার, সরলপথে হেঁটে গোলাকার পৃথিবীর শেষ খুঁজে পাওয়া দুঃসাধ্য। সৌরভের ক্ষেত্রে এই দুঃসাধ্য গন্তব্যের নাম মহুয়া। লক্ষে পৌছঁতে হলে অনেক কাঠখড় পোহাতে হবে তাকে। এর মধ্যে সবচেয়ে কঠিন হচ্ছে মহুয়ার সম্মতি। কারণ, এ এমন এক গন্তব্য যা নিজ থেকে ধরা না দিলে, তার কাছে পৌছাঁনো অসম্ভব। তবে পথ চলাতে সৌরভের ছিল এক অপরিমেয় শক্তি। আর এই শক্তির নাম ভালবাসা। সৌরভ হয়তো জানেইনা ভালবাসা কি। সে শুধু জানে ভালবাসা-ই সব। ভালবাসা দিয়ে সবকিছু জয় করে নিতেই সৌরভের নিরন্তর প্রচেষ্টা।
অসংখ্যবার তার এই চেষ্টা পরিণত হয়েছে অরন্য রোদনে। কিন্তু তবুও সে স্বপ্ন দেখে, আশায় বুক বাঁধে। ভালবাসাকে পুঁজি করে অপেক্ষার প্রহর কাটায়। হয়তো সৌরভের এই অপেক্ষা মহুয়াকে কিছুটা বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন করেছিল। তবে আপাতদৃষ্টিতে কিছুই পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিল না। আসলে অন্ধকার রাতের মতোই অসচ্ছতায় ঘেরা ছিল মহুয়ার মনোজগৎ। সেখানে প্রবেশ করা সৌরভের জন্য অত্যন্ত দুরূহ। তবে এমনও হতে পারে সেই জগতে সৌরভ ইতিমধ্যেই স্থান করে নিয়েছে।
সত্যি বলতে কি, অনিশ্চয়তার মধ্যেও ইতিবাচক প্রত্যাশা করা সৌরভের দুর্বোধ্য বৈশিষ্ট্য। আজ সৌরভ মহুয়ার সাথে ফোনে কথা বলছে। তবে প্রথম... দ্বিতীয়... তৃতীয়.... নাহ, কততম বার সেটা জরুরি নয়। জরুরি বিষয়টা হচ্ছে মহুয়া কিছুটা বিরক্তি বোধ করছিল। সৌরভের ভালবাসা মহুয়া বুঝেও বোঝেনা। অথবা বুঝলেেও তা প্রকাশ হতে দেয়না। বিরক্ত হলেও তাই ফোনটা রাখতে পারেনা মহুয়া। সৌরভের হঠাৎ অহেতুক প্রশ্নে ও বিরক্তির মিশ্রনে মহুয়া সামান্য রেগেই ছিল। সৌরভ বলে, তুমি কি শুয়ে আছো, নাকি বসে আছো?
দাঁড়িয়ে আছি - মহুয়া জবাব দেয়।

সৌরভঃ এতো রাতে!! দাঁড়িয়ে আছো ?? কি করছো দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ??
মহুয়াঃ তোমার সাথে কথা বলছি, অপদার্থ।
সৌরভঃ ঘুমাওনি?
মহুয়াঃ আমি আরও পরে ঘুমাই। (মিথ্যে বলে মহুয়া)
সৌরভঃ তার মানে আমি তোমাকে বিরক্তি করিনি? আমিতো ভয়ে ছিলাম, ভেবেছি তুমি ঘুমাচ্ছো। আমার ফোনে বিরক্ত হয়ে আমাকে বকেটকে দিবে!!
মহুয়াঃ বকেছি তো... অপদার্থ বললাম না!!
সৌরভঃ ওটা ভূল বলেছ, আমি অপদার্থ নই।
মহুয়াঃ তাহলে?
সৌরভঃ তোমাদের বারান্দা থেকে কি আকাশ দেখা যায়?
মহুয়াঃ কি প্রশ্নের কি জবাব!!
সৌরভঃ বলোনা, প্লিজ।
মহুয়াঃ যায়। কেন?
সৌরভঃ যাবে একটু?
মহুয়াঃ কেন?
সৌরভঃ যাওনা, এমনি।
মহুয়াঃ আচ্ছা।
মহুয়া রুম লাগোয়া বারান্দার দিকে হাঁটতে থাকে। সামান্য কয়েক পা, তবুও সৌরভের প্রতি বিরক্তি যেন বেড়েই চলেছে।
ওপাশ থেকে সৌরভ বলে, এসেছো?
মহুয়া একটা ঢোঁক গিলে কাঁপা গলায় বলে, হ্যাঁ এসেছি।

সৌরভঃ আকাশের দিকে তাকাও।
মহুয়াঃ কি সুন্দর জোছনা!! কতদিন জোছনা দেখিনা।
একথা বলেই হঠাৎ চুপ হয়ে যায় মহুয়া। ফোনটা ধরাই থাকে। একটা দীর্ঘশ্বাসকে গলায় আটকে রাখতে চায়। রাতের গভীরতা বাড়তেই থাকে। দীর্ঘশ্বাসটাকে আজ আর আটকে রাখতে পারেনা, বেরিয়ে যায়। দীর্ঘশ্বাসটা ওপাশ থেকে শুনতে পায় সৌরভ। কিছুক্ষণ নীরব থেকে প্রশ্ন করে,

সৌরভঃ মন খারাপ তোমার?
মহুয়াঃ নাহ! মন ভালো।
সৌরভঃ তাহলে দীর্ঘশ্বাস কেন?
মহুয়াঃ ওটা ভালো লাগার দীর্ঘশ্বাস।
সৌরভঃ কেমন ভালো লাগা?
মহুয়াঃ তোমাকে ধন্যবাদ এমন সুন্দর জোছনার খোঁজ দেওয়ার জন্য।
সৌরভঃ ধন্যবাদেই শেষ?
মহুয়াঃ আর?
সৌরভঃ আরও কিছু বলো?

মহুয়া কিছুক্ষন ভেবে বলে,
মহুয়াঃ আচ্ছা একটা গল্প শুনবে?
সৌরভঃ গল্প!! নিশ্চয়ই শুনবো। (আগ্রহের সুরে সৌরভ জবাব দেয়)
মহুয়া বলতে শুরু করে...
:: এক স্বপ্নপ্রেমী পরী একটা হাতের খোঁজ করে দীর্ঘদিন ধরে। সে হাতটার অস্তিত্বও টের পায়। অথচ স্পষ্ট দেখতে পায়না। কারণ চারপাশে তখন বিদঘুটে অন্ধকার। সেই পরী স্বপ্ন দেখে অবাক হতে চায়। একদিন অপেক্ষার সেই রাতের আগমন ঘটল। জোছনায় সেই পরী তার স্বপ্নের হাত'টির দেখা পেল। হাত'টি তার খুব কাছে।
সৌরভ বললো, হাত'টি ধরলেই পারে।
মহুয়া শুনতে পায়নি সৌরভের কথা। সে বলতে থাকে...
একদিন সে হাত'টি খুঁজে পায়।
:: তাহলে? সৌরভের কৌতূহল ভরা প্রশ্ন।
মহুয়াঃ সেটাই তো গল্প।
সৌরভঃ বলো
মহুয়াঃ জোছনা দেখতে দেখতে তার বুকটা কেঁপে ওঠে। জোছনা থাকতে থাকতে সে হাত'টি ধরতে পারবেতো!!
সৌরভঃ তারপর?
মহুয়াঃ আজ রাতের জোছনায় সে হাত'টি ধরবে। সে অবাক হয়, স্বপ্ন দেখে। আজ রাতে সে অবাক জোছনা দেখবে।
সৌরভঃ তারপর?
মহুয়াঃ তুমি হাতটা সরিয়ে নেবে নাতো?
সৌরভ অবাক না হয়ে পারেনা। তবুও বলে...
সৌরভঃ মানে?
মহুয়াঃ বলো না?
সৌরভঃ সরিয়ে নেবো বলেতো হাত বাড়াইনি। হাত বাড়িয়েছি হাত ধরবো বলে। আর সেই হাত ধরে একসাথে পথ চলবো বলে।
মহুয়াঃ কখনো পাল্টে যাবেনাতো???
সৌরভ বলে, সকাল হয়ে গেছে। আবার কি জোছনার অপেক্ষা করতে হবে?
মহুয়াঃ নাহ...
সৌরভঃ সত্যি বলছো? ( তার কন্ঠে তীব্র উৎসাহ)
" ভালবাসার জোছনা শেষ হয়না। আজকে শেষ হলে কাল আবার আসবে।" মহুয়া প্রফুল্ল স্বরে বলে।

তারপর দুজনেই স্বর্গীয় সুখের আবেশে মৃদু হাসির সন্ধান পেল। ভালবাসার যুগলযাত্রা হয়তো গন্তব্য খুঁজে পেল। সারারাত ঘুম হয়নি। তাই সৌরভ ও মহুয়া পরস্পর থেকে বিদায় নিয়ে নিয়েছে, তবে সাময়িক। জোছনা তো ফুরিয়ে যায়না।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ২০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩১



এবছর দেশে আমড়ার ফলন ভালো হয়েছে।
আমড়ায় আছে প্রচুর ফাইবার যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এক কেজি আমড়া মাত্র ৫০ টাকা। এক কেজি আপেল ৩৫০ টাকা। মালটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×