somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রক্তিম ধূসরতা (চতুর্থ পর্ব)

১০ ই জুলাই, ২০০৭ দুপুর ২:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আগের পর্বের পর...

রমা স্বপ্নে দেখেছে এক দল মশা তার সাথে কথা বলছে। স্বপ্নটা এমন--অনেকগুলো মশা তাকে ঘিরে রেখেছে। তার চার পাশে ঘুরতে ঘুরতে বিভিন্ন কথা বলছে।
‘শালা কাইল তুই আমারে একটা থাপ্পর মারছিলি, আইজ তোরে খাইছি। শুধু তোরে না, তোর বাপ-মা-ভাই-বইন আর তোর ঐ যে ছেমরিডা, যেইডা তোর কাছে আইয়া সারা দিন পিডির-পিডির কইরা কথা কয়, ওইডারেও কামরামু। আমার বাহিনী পাডাইয়া দিছি, দেহি তুই কি করতে পারস। শালা বদের বদ, হারামজাদা। তোর তো সাহস কম না! তুই মশাদের প্রধানমন্ত্রীরেও চিনস না আবার থাপ্পর মারস। আমাগো ভাষা শিখতে চাস’।

একটা মশা তার কানের কাছে এসে এ ধরনের বিদ্ঘুটে ভাষায় কথা বলছে আর সে কিছু করতে পারছে না। তার কাছে মনে হচ্ছে তাকে মশা বাহিনী ঘিরে রেখেছে। তার কাপড় চোপড় খুলে চার রাস্তার মাথায় দাড় করিয়ে রেখেছে। হাতে বড় বড় লাঠি। একটু নড়ন-চড়ন করলেই মশাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বাহিনী তাকে পিটিয়ে হাড্ডি-গুড্ডি ভেঙ্গে ফেলবে। স্বপ্ন থেকেই ভাবছে, মশাদের প্রধানমন্ত্রীও আমাদের প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে কম না। তারও হয়তো ‘হাওয়া ভবন’ নামের কোন ভবন আছে। শুধু মশাই যদি তার অবস্থা এত খারাপ করে ফেলতে পারে তাহলে বাকীদের ভাষা বুঝলে না জানি কী অবস্থা হবে। মাঝ রাতে রমার ঘুম ভেঙ্গে যায়।
সে ছোট বেলা শুনেছিল হযরত সোলাইমান (আঃ) নামের এক নবী পশু-পাখীর ভাষা বুঝতো। সে ভেবে পায় না ওই নবীর কী অবস্থা হতো! আজ ঘুম আসবে না সে জানে। তাই সে তার মন থেকে মশার কথাগুলো মুছে ফেলতে একটা নতুন কিছু চিন্তা করছে।

অনেকদিন ধরেই রমার সাথে তার বাবা-মায়ের যোগাযোগ নেই। কারণটা অবশ্য নগন্য। তার মা বলেছিল প্রতি বৃহস্পতিবার নাসরিনদের বাসায় গিয়ে তাদের খোঁজ নিয়ে আসতে। নাসরিন তার বড় বোন। পুরো নাম নাসরিন জাহান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় বাবা হুমায়ুন কবির সাহেব মেয়েকে একপ্রকার জোর করেই বিয়ে দেন এক পুলিশ অফিসারের সাথে। আধুনিক যুগের বাবারা খুঁজে খুঁজে মেয়ের স্বামী হিসেবে ঘুষখোর জামাই বের করে আনে। নাসরিনের জামাইও ঘুষখোরদের সম্রাট! নাম তাজুল ইসলাম। নামের মাঝেও একটু ঘুষ-ঘুষ গন্ধ। মানুষের নামের মধ্যে ঘুষের গন্ধ একমাত্র সৎ লোকেরাই পায়। রমা সৎ কিনা সে জানেনা! তবুও সে পায়। রমা মানুষের নাম শুনেই বলে দিতে পারে এই লোকটা ঘুষখোর র নাকি সৎ। তাজুল ইসলাম নামটার সাথে যে শুধু ঘুষের গন্ধ লেপ্টে আছে তা নয়, একটু বয়সের গন্ধও আছে।

ঘুষখুর মানুষগুলো কেমন হবে সে ব্যাপারেও রমার একটা থিউরি আছে! তাদের মুখমন্ডলে তেলতেলে ভাব থাকে। চোখগুলোতে কেমন কেমন ভিখিরি ভিখিরি ভাব থাকে। নাক চেপ্টা বা লম্বা যে রমকমই হউক নাকের ছিদ্র একটু বড় হবে! আজকালকের ঘুষখোরদের পেট বড় হয় না। ছোট বেলা রমা প্রায়ই শুনতো ঘুষখুরদের নাকি পেট বড় হয়। কিন্তু আধুনীক যুগে মেদ কমানোর যে ব্যাবস্থা রয়েছে তাতে যে কেউ তার মেদ কমিয়ে ফেলতে পারবে শুধু দরকার টাকা। ঘুষখুরদের এই গুনাবলী নাসরিনের জামাইয়ের না থাকলেও সে ঘুষখুর। রমা ভেবে পায়না কারণটা কী? নামটা বয়স্ক হলেও নাসরিনের স্বামী তাজুল ইসলাম দারুন স্মার্ট।

কিছুদিন আগে তাজুল ইসলামকে রমা দেখেছিল হেঁটে--হেঁটে বাসায় ফিরছে। সে ভেবে পায় না এমন প্রতাপশালী একজন ঘুষখোর পুলিশ অফিসার কেন হেঁটে বাসায় ফিরবে। রমা এই তাজুল ইসলামকে নিয়ে ভাবছে। কারণ তার মাথায় এখন মশাদের গালাগাল প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। উদ্ভট স্বপ্নটা মন থেকে মুছে ফেলতে হলে তার চিন্তা অন্যদিকে নিয়ে যেতে হবে। মাঝ রাতেই সে আগামীকাল কি কি করবে তার একটা লিস্ট তৈরি করে ফেলে। প্রথমে যাবে তাজুল ইসলামের বাসায়। ঘুষখুর স্বামী নিয়ে তার বোন নাসরিন কেমন আছে দেখে আসতে হবে। তারপর যাবে মুগদাপাড়া।

সে শুনেছে ঢাকার মধ্যে মুগদাপাড়ায়ই সবচেয়ে বেশি মশা। মশাদের ভাষা শেখার এটাই উৎকৃষ্ট স্থান। ভাষা শিখতে হলে ‘আঞ্চলিক’ এবং ‘শুদ্ধ’ দুই রকমই শেখা উচিৎ। মশাদেরও নিশ্চয় ‘আঞ্চলিক’ এবং ‘শুদ্ধ’ দুই রকমেরই ভাষা আছে। যেমন, সিলেটের মশা কাউকে ভাল আছে কিনা জিজ্ঞেস করতে গেলে বলবে, কি-তা-বা বালা আছোনি? আবার কিশোরগঞ্জ বা তার আশেপাশের এলাকার লোকেরা বলবে, ভাই ভাল আছোইননি? এ রকম। দেশে ছাতার মতো যে সংখ্যায় ভাষা ইনষ্টিটিউট গড়ে উঠছে তাতে মশাদের ভাষা শিখার একটা ইনষ্টিটিউট গড়ে উঠলে খারাপ হতো না। অন্তত রমা সেখানে গিয়ে মশাদের ভাষা শেখার চেষ্টা তো করতে পারতো। রমা চিন্তার মধ্যে তৃতীয় চিন্তা করতে পারে। এই যেমন এই মুহূর্তে সে সিডিউল তৈরি করার জায়গায় মশাদের ভাষা ইনষ্টিউট নিয়ে ভাবছে।

রাতে যাবে অবন্তীর বাসায়। অবন্তী রমার স্কুল জীবনের বন্ধু। তাকে একটা জোরে চড় মারতে হবে। রমা শুনেছে অবন্তী যে ছেলেটার সাথে প্রেম করছে সে বদের বদ, হারামজাদা। রমা ভেবে পায়না অবন্তীর মতো বুদ্ধিমতি মেয়ে কিভাবে এমন ফাজিল টাইপের ছেলের সাথে প্রেম করে। অবশ্য রমা জানে জগতের ভালো মেয়ে গুলো সবসময়ই এ ধরনের ফাজিল টাইপের ছেলেদেরই প্রেমে পড়ে।
সব কাজ শেষে তার নিজের বাড়ি কলাবাগানের ‘ছায়ানীড়ে’ গিয়ে বাবা-মায়ের সাথে দেখা করে আসবে। তার ছোট ভাইটা এবার এসএসসি পরীা দিচ্ছে তার খোঁজ খবরও নিতে হবে। সে জানে এই গর্দভটা এ জনমে পাশ করতে পারবে না। তবুও তাকে কিছুটা সাহস দিয়ে আসতে হবে। পাশ করার টিপস্ দিতে না পারুক অন্ততঃ ফেল করার টিপস্ তো দিতে পারবে!
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিপ্লবের শরিকরা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৪১

যারা বিপ্লব আনে, তারা বিপ্লব টেকায় না। যারা বিপ্লব টেকায়, তারা শরিকদের টেকায় না। ১৯৭৯ সালে ইরানে খোমিনি ক্ষমতায় এসেছিল বামদের কাঁধে চড়ে। কমিউনিস্ট, সেকুলার, নারীবাদী—সবাই শাহের বিরুদ্ধে এক কাতারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ ভ্রম

লিখেছেন সামিয়া, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৩



চোখ বন্ধ করলেই আমি ধোঁয়া দেখি। ঘন, ধূসর ধোঁয়া। যেন কেউ ভেজা কাঠ জ্বালিয়েছে। তার সঙ্গে মিশে থাকে পোড়া কাপড়ের গন্ধ। কখনও মনে হয় প্লাস্টিক, কখনও মনে হয় পুরোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড় আমি ভালোবাসি

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৪৩

পাহাড় আমি ভালোবাসি
...........................................



চললাম তবে তোমার সাথে,
হাতটি রেখে হাত বাড়াতে।
পিছুটানের বাঁধন ছিঁড়ে,
হারাবো ওই মেঘের ভিড়ে।

পাহাড় চূড়ায় রোদের হাসি,
শুনছো ! তোমায় ভালোবাসি।
চলবে নদী আপন বেগে,
নতুন কোনো আশার মেঘে।

ইচ্ছেগুলো পাক না ডানা,
আজকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠ সম্পদ কি?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২১



এই মুহুর্তে আমি গাজীপুর যাচ্ছি।
সময় সকাল দশটা। রবিবার। রাস্তায় জ্যাম যেতে অনেক সময় লাগবে। লাগুক। সমস্যা নেই, হাতে অনেক সময় আছে। আজ আমার কোনো কাজ নেই। বউ বাচ্চা বাসায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

"তোমরা আমাদের মানুষদের কেন খুন করলে?"

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:০১

জাপানের মানুষেরা আজও বুঝতে পারে নাই, কেন তাঁদের ছেলেমেয়েদের এভাবে হত্যা করা হলো। সেই দেশের মুরুব্বীরা এখনো এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে ফেরেন। আক্ষেপ করেন। আমার বোনের জামাই জাপানে পোস্ট ডক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×