আইলো আইলো আইলোরে..
রঙে ভরা বৈশাখ আবার আইলোরে..
আর কয়েক ঘন্টা পর শুরু হবে বাংলা নববর্ষ।
বাঙালী মেতে উঠবে পয়লা বৈশাখের উৎসবে।
জিন্স-টপ্স পরে ম্যাকডোনাল্ডসে বার্গার খেয়ে অভ্যস্ত মেয়েটা শাড়ি পরে পান্তা-ইলিশ খাবে। চুল স্পাইক করে সেলফি তোলা ডুড ছেলেটা গালে একতারার আল্পনা এঁকে সেটার সেলফি তুলবে।
সারা বছর কেউ মনে রাখুক না রাখুক- এই দিনটাতে বাংলা সালের হিসাব সবাই মনে রাখবে। ইনবক্স ভরে যাবে শৈল্পিক সব শুভেচ্ছা বার্তায়।
ঘরে ঘরে হরেক পদের দেশী মুখরোচক খাবারের আয়োজন থাকবে। হাজার টাকা দামের ইলিশ কিনে একদিনের জন্য হলেও বাঙ্গালীয়ানার দায় মেটাবে অনেকেই।
রিকশায় চড়ে তরুন-তরুনীরা আইসক্রিম খেতে খেতে টিএসসিতে যাবে। কনসার্ট দেখবে "মেলায় যাইরে.." আর সন্ধ্যে নামলে কেউ কেউ মাতবে ডিজে পার্টিতে। সেখানে থাকবে নেশায় ভরা উন্মাদনা।
কিন্তু.. প্রতিদিন যারা একমুঠো বাসী পান্তা খেয়ে দিন শুরু করে; তারা পয়লা বৈশাখেও খাটি বাঙালী হতে পারবেনা। তারা বৈশাখ উপলক্ষ্যে কেনা নতুন পোষাক পরে ইলিশ খেতে পারবেনা।
তাদের এই দিনটিতেও প্রখর রোদে পুড়ে রিকশা চালাতে হবে, রাস্তায় ফুল কিংবা ঠান্ডা পানি বিক্রি করতে হবে। তালপাখা আর বাঁশী বিক্রি করতে থাকা কিশোর ছেলেটি অপার বিতৃষ্ণা নিয়ে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখবে একদিনের বাঙালীদের বর্ষবরণ উৎসব।
টোকাই শিশুটি রাস্তা থেকে কুড়িয়ে তুলে চেটে খাবে কোনো আইসক্রিমের ফেলে দেয়া মোড়কটি। বৃদ্ধ রিকশা চালকটির ঘামে ভেজা মুখে হাসি ফুটানোর জন্য কেউ তাঁর হাতে তুলে দেবেনা এক বোতল বরফ শীতল পানি। তাদের জন্য ২০১৫ যা, ১৪২২ও তাই...
স্বাগতম ১৪২২..
নতুন বছরের নতুন সূর্যোদয়ের সাথে হোক নতুন বোধের উদয়।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই এপ্রিল, ২০১৫ বিকাল ৫:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




