somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার পহেলা বৈশাখ উদযাপন (প্রতি বছরের ন্যায়)

১৪ ই এপ্রিল, ২০১৮ রাত ১১:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শুক্রবার ভীড় বেশি থাকে বলে প্রতি সপ্তায় শনিবার বাজার করি। তবে এইবার পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে শুক্রবারেই বাজার-সদাই সেরে ফেলি। কেউ আবার ভাববেন না বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে যাবার জন্য আগেভাগে বাজার করেছি। পহেলা বৈশাখে দোকানপাট বন্ধ থাকতে পারে এই আশংকা ছিল। নাস্তা খেয়ে বিছানায় শুয়ে ফেসবুক চালাচ্ছি। ছাত্রজীবন শেষ হবার পর বন্ধুবান্ধবদের সাথে যোগাযোগ কমছেই। এখন একেবারে ক্লোজ বন্ধু আছি আমরা মাত্র চারজন। ফেবুতে ঢুকেই দেখি সবাই আছে। অকর্মার ধাড়ীরা আমার স্টাইলেই পহেলা বৈশাখ পালন করছে। গ্রুপ চ্যাটে নববর্ষে কি কি করা যায় প্লান করছি। এক নিরামিষ বন্ধু প্রশ্ন তুললো সারাদিন যদি প্লানই করি তাহলে প্লান কাজে লাগাবো কখন? কেন, সামনের বছর কাজে লাগাবো!
বাসায় গরুর বিরিয়ানি রান্না হচ্ছে। সুগন্ধে চোখ বন্ধ হয়ে আসছে। এমন সময় বউ বেরসিকের মতো ডাক দিল, "আজকে বুয়া আসবে না। তোমার কোন কাপড় থাকলে ধুয়ে ফেল।" ঘর মোছা আর কাপড় ধোয়ার জন্য একজন ছুটা বুয়া রাখা হয়েছে। ভালো খানাপিনা হলে বউ তাকে ছুটিতে পাঠিয়ে দেয় যেন বদ নজর দিতে না পারে। শার্ট ধুতে ধুতে বউয়ের অভিযোগ শুনছি, সারাটা জীবন তার রান্নাঘরেই কাটল। মানুষ বউকে নিয়ে কত জায়গায় ঘুরতে যায় আর তার কপালে জুটল আমার মতো একটা নিরস লোক!
বিকালে ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত বউ যখন বিছানায় একটু পিঠ লাগিয়েছে ভাবলাম এখনই সুযোগ। জিজ্ঞেস করলাম বাইরে যাবে নাকি। বউ বলল, এমন গরমে কেউ বাইরে যায়। ঠিক আছে আমিই যাচ্ছি। কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে দ্রুত বাসা থেকে কেটে পড়লাম। আমার তিন বন্ধুও বেরিয়ে পড়েছে। সবাই মিলে হাতিরঝিল চলে আসলাম।
হাতিরঝিলে প্রাপ্তবয়স্কদের টপিক নিয়ে আলোচনা করছি, সুন্দরী মেয়ে দেখছি, ঠিক যেন ভার্সিটির দিনগুলিতে ফিরে গেছি। কিন্তু সুখ বেশি ক্ষণস্থায়ী স্থায়ী হল না। কিছুক্ষণের মধ্যেই আকাশ ভেঙে পড়ল। আমাদের বউদের অভিশাপেই এই দুর্গতি তা আর বুঝতে বাকি রইল না।
এমন পরিস্থিতিতে খালি হাতে বাসায় যাওয়াটা ঠিক হবে না। দই আর মিষ্টি নিয়ে বাসায় ফিরলাম। বউকে বললাম, 'আজকে সব দোকানপাট বন্ধ ছিল। অনেক দূর থেকে তার জন্য দই মিষ্টি কিনে এনেছি।" বউ বলল, "একটা ছাতা নিয়ে যেতে পারলে না? কেমন বেখেয়াল মানুষ তুমি?" জামাইদের ছোটখাটো অপরাধ ক্ষমা করতে বাঙালি বউদের জুড়ি নেই।
দুপুরে গরমে বেশি খেতে পারিনি। রাতে বকেয়া সুদে-আসলে আদায় করলাম। ভরপেট খাওয়ার পর টের পেলাম পহেলা বৈশাখটা ছুটির দিনেই পড়েছে।
যা শালা, একটা দিন ছুটি নষ্ট হয়ে গেল।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই এপ্রিল, ২০১৮ রাত ১২:০৭
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা: (দ্বিতীয় পর্ব)

লিখেছেন মৃত্যুঞ্জয়, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ২:০০

কোথায় হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম?

দ্বিতীয় পর্ব: মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার বিভাজন এবং অসম প্রতিযোগিতা

একটি শিশুর শিক্ষাজীবন শুরু হয় প্রাথমিক স্তর থেকে। কিন্তু মাধ্যমিক পর্যায়ে পৌঁছানোর পর থেকেই শুরু... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেবদাস, কালজয়ী উপন্যাস এবং চিত্রনাট্যের পটভূমি

লিখেছেন মেহবুবা, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:২৮


প্রথম ১৯২৮ সনে নির্বাক "দেবদাস" মুক্তি পায় ফনী বর্মা এবং তারকবালা অভিনীত ছিল সেটি। এরপর প্রমথেশ বড়ুয়া এবং যমুনা বড়ুয়া অভিনীত সবাক দেবদাস মুক্তি পায় ১৯৩৫ সনে। তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:৪৩




যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে
শান্ত গৌরবে, সেই আত্মারা কোথায় বেঁচে রয়।
দয়ার প্রতিটি বীজ সর্ন্তপণে বপন করা হয়,
সপ্তাকাশে উজ্জ্বল ফসল তবে অবধারিত রয়।

সাত আকাশের চরাচরে , ছায়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কেমনের দিনে

লিখেছেন শাওন আহমাদ, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৫



মাঝেমধ্যেই মনের ক্যানভাসটা কেমন যেন বিবর্ণ হয়ে যায়। পৃথিবীর সমস্ত রং হারিয়ে যায় অচেনা পথের বাঁকে। কোনো সংকেত ছাড়াই একরাশ এলোমেলো বিষণ্ণতা এসে জেঁকে বসে মনের কার্নিশে। চারপাশের চেনা জগৎটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

"দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন"- হলো একটি সনাতন নীতি...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



"দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন"- হলো একটি সনাতন নীতি, যার অর্থ খারাপ বা অন্যায়কারীকে শাস্তি দেওয়া এবং ভালো বা সৎ মানুষকে রক্ষা করা। এটি মূলত সমাজে শান্তি ও ন্যায়বিচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×