দৃশ্যপট-১ঃ দুপুর ২টা বাজে, টিউশনি শেষে জি.ই.সি মোড় থেকে ৩ নাম্বার বাসে উঠলাম। বাস কিছুদুর এগোতে না এগোতেই মাঝবয়সী এক ভদ্রলোক হঠাৎ বাসে জ্ঞান হারাল। উনাকে নামিয়ে রাস্তার পাশের ফুটপাথে সেবা সুস্রশায় মানুষের হুলস্থলি; বুকে চামড়ার-টুকরার লকেট থাকায় অল্পতেই রোগ সনাক্ত হলে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করাতে কিছুক্ষণ পরই মানুষটি উঠে দাড়াল। "ভাই রোজায় মনে হয় কষ্ট হচ্ছে, তাই রোগ বাড়সে মনে হয়" - এক রোজাদারের সিমপ্যাথি। লম্বা দাড়িভর্তি মুখের মৃগীরোগী ভদ্রলোক - "ভাই রোজায় কোন রোগ বাড়ে না, আল্লাহ রোজাদারদের রোগের খেয়াল রাখেন" । আশেপাশে মুগ্ধ উপলব্ধি। আমি- "কোথায় যাবেন? " । ভদ্রলোক- "যাওয়া নিয়েই ত টেনশন, দাগনভুইয়া যাব, সকালে বটতলিতে মানিব্যাগ, মোবাইল ছিনতাই করল।মানিব্যাগে টাকা পয়সা ছিল না বেশি। শুধু যাওয়ার ভাড়া, টেনশন এ আছি কিভাবে যাই, নাম্বারটা মনে থাকলে ছেলেকে বিকাশ করতে বলতাম" । একলোক ২০০টাকা হাতে ধরিয়ে দিল, আমারও মনে হল ১০০ টাকা দেই, এভাবে প্রায় ৪০০ টাকা উঠল। ভদ্রলোক ব্যাস এতেই চলবে ইশিরায় মুখে না দিয়ে ভঙ্গীতে ধন্যবাদ দিল। একজন উনাকে সি.এন.জি ঠিক করে দিল বাস স্টেশনে যাওয়ার।
দৃশ্যপট-২ঃ রাত ৮.১৫। মুরাদপুরে বাসায় আসার পথে লোকটিকে আবার চোখে পড়ল। এবার কিছুদূর ফলো করলাম। হোটেল জামান বরাবর যেতেই আবার জ্ঞান হারাল ভদ্রলোক। কাহিনী এবার ধরতে পারলাম। ভিড়ের মাঝথেকে উৎসাহী দুই-তিন জনকে একটু পাশে ডেকে নিয়ে জি.ই.সি এর কাহিনী বললাম। আর রিপিটেশান এর জন্য ওয়েট করতে বললাম। সেবা সুস্রশার পর তাদের মাঝের একজন জিজ্ঞেস করল " ভাই কই যাবেন? " । ভদ্রলোক একই কাহিনী বর্ণনা শুরু করলে এবার সিমপ্যাথির বদলে খেল বড়সড় এক চড়। বাকি মানুষজনও বুঝল রোজার মাসে তাদের সিমপ্যাথি নিয়ে ভাল এক ইনিংসই খেলল ভদ্রমৃগীলোক। মাঝবয়সী হওয়া পাবলিক আর মাইর থেরাপি দিল না। "ওয়াক অফ শেম" এর মধ্যে দিয়ে ভদ্রলোক বিদায় নিলেন।
ভাল এক সিম্প্যাথির খেলা দেখলাম আজকে। কিছু শিক্ষাও হল। আশা করি কাজে লাগবে ভবিষ্যতে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


