somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

" স্কুলের পরীক্ষার দিনগুলো"

০৮ ই মে, ২০১৫ রাত ১১:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কিছু স্মৃতি সময়ের আবর্তে ফ্যাকাসে হয়ে যায় আর কিছু স্মৃতি রয়ে যায় জীবন খাতায় অমলিন। চোখ বন্ধ করলেই ফিরে যাওয়া যায় সেই সব দিন গুলোতে । হোক না সেটা এক যুগ , দুই যুগ কিনবা এরো বেশী সময়কালের ।
গত কয়েকদিন আগে আমার এক আমেরিকা প্রবাসী প্রানের বন্ধুর সাথে কথা হচ্ছিলো। কথার শুরুতেই বন্ধু বলে উঠলো- দোস্ত তোদের নিয়ে স্বপ্ন দেখেছি।
আমি-এক্টু অবাক, আসলেই অবাক হয়েছিলাম এই ভেবে যে আমেরিকার মানুষ গুলোও স্বপ্ন দেখার সময় পায় কিনা এই ভাবে !! এর উপর যদি সে হয় পি এইচ ডি গবেষণায় নিয়োজিত। আমি সাথে সাথে সেই দিন জিজ্ঞেস করেছিলাম -কি স্বপ্ন রে ? ও বলছিলো - আমাদের স্কুলের পরীক্ষার কথা । পরীক্ষা দিচ্ছিলাম এই রকম । এর বেশী আর বলতে পারে নাই।
আমি সেই দিন বন্ধু সুফির কথা শুনে মনের অজান্তেই ফিরে গিয়েছিলাম প্রায় ২০ বছর আগের পরীক্ষার দিনগুলোতে ।
স্কুলের পরীক্ষার কথা মনে পরলেই প্রথমেই মনে পড়ে যায় আরবী পরীক্ষার দিন গুলোর কথা। "ফেল এ মাঝি" কিনবা " বাকারাতুন" রচনার কথা অথবা পিতার নিকট টাকা চাহিয়া পুত্রের পত্র লেখা। অনেক কস্ট করে শিখেছিলাম। প্রিয় মোজাম্মেল হক স্যার এর কথা এখানে খুব মনে পড়ে । স্যার এ ক্লাস নিতেন আর না পারলে পশ্চিম দিকে দাড় করিয়ে আজান দেওয়াতেন । আমরা আজান দেয়ার জন্য দাঁড়িয়ে থাকতাম আর স্যার আমাদের পুটুতে জোরে জোরে বেত চালাতেন। স্যার এর হাতে মার খায়নি এমন কেউ ছিলেন না। স্যার এখন আর আমাদের মাঝে নেই , আমার আব্বার অনেক কাছের একজন সহকর্মী ছিলেন । আমি স্যার এ রুহের মাগফেরাত কামনা করি ।
স্কুলের পরীক্ষার গুলো ছিলো অনেক কম্পিটেশনের। একটা পরিক্ষায় কম পেলে প্লেস নরবড়ে হয়ে যেত। তাই সব সময় চেস্টা করতাম ভালো পরীক্ষা দেয়ার। আমার বন্ধু সার্কেল সবাই তেমনি পরীক্ষা দিতাম।
--তারেক ছিলো অসাধারন ছাত্র,সিমপ্লি টেলেন্ট । অলোয়েস ক্লাসে ফার্স্ট থাকতো । আর সুফি, হি ইস এ সুপার টেলেন্ট । আই রেকেন হি ইস রিয়েলি জিনিয়াস। দু জনের মাঝে এক অদ্ভুত এক স্নায়ু যুদ্ধ চলতো পজিশন নিয়ে । শোভন এর কথা বললে , বলতে হয়, প্রচুর খাটা খাটনী করতে পারতো ছেলেটা। আল্লাহ তারে ভালই মুখস্ত করার ক্ষমতা দিয়েছে এবং দিয়েছিলো সারা রাত জেগে পড়ে ,সকালে পরীক্ষা দেয়ার ক্ষমতা। ক্লাসে আরেক জন ছিলো আবদুল্লাহ সাইদ খান শুভ। আমাদের সকলের সাইদ ভাই। অনেক ভদ্র, নম্র এবং অনেক ভালো একজন ছাত্র। সব সময় নিজের প্লেস টা ধরে রাখতো। সাব্বির এর কথা কি বলবো , ও ছিলো এক ন্যাচারাল টেলেন্ট । সারাদিন ঘুরাঘুরি, আড্ডাবাজী, খেলা ধুলা সব করতো এবং পরীক্ষাও ফাটায় দিতো । অল্প পড়তো বাট খুব গুছিয়ে পরীক্ষায় এন্সার করতে পারতো । যে কিনা এক সময় ডাইরিতে কবিতাও লিখতো এবং আমার কবিতা লেখার প্রথম শুরু এই সাব্বির এর ডাইরি দেখে । যা দেখে আমিও কবিতা লেখা শুরু করি। যানিনা আজোও সাব্বির লিখে কিনা বাট আমি কিন্তু দোস্ত লেখা এখনোও চালিয়ে যাচ্ছি । রিজুর কথা না বললেই না এখন , খুব শান্ত কিন্তু মেধাবী ছাত্র। অনেক মেধা আমার এই স্কুলের বন্ধুর। ক্লাসের জনপ্রিয়তা ছিলো তুঙ্গে। দুষ্টুও ছিলো বেশ।
জনি, রাসেল কখন পড়তো কখনই বুঝি নাই কিন্তু পরীক্ষার রেজাল্ট যখন দিতো , তখন খুব ভালো মতই বুঝতাম যে এরা ঠিক ঠিক সময়েই পড়া পড়তো। আরেকজন মাইনুল আবেদিন মাসুদ যার কিনা স্কুল জীবনেই পুরো পৃথিবীর ম্যাপ মুখস্ত ছিলো, আমরা জিজ্ঞেস করতাম , চোখ বন্ধ করে- অমুক দেশের নাম , সে না দেখেই ম্যাপ থেকে বের করে দিত সেই দেশের নাম। এও চমৎকার ছেলে , ভাল ছাত্র ।
আর আমরা সবাই আদর্শ স্কুলের ছাত্র

-----------------------------------------------চলবে
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ২০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩১



এবছর দেশে আমড়ার ফলন ভালো হয়েছে।
আমড়ায় আছে প্রচুর ফাইবার যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এক কেজি আমড়া মাত্র ৫০ টাকা। এক কেজি আপেল ৩৫০ টাকা। মালটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×