somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অসমাপিকা , নবম এবং দশম পর্ব ।

১৯ শে জুন, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


অষ্টম পর্ব Click This Link
(নবম পর্ব)
চাচীর সাথে বাসায় প‌ৌছে চাচীর ফলের ব্যাগটা নিয়ে দোতলায় যেতে লীনা দেখে রাকিব বসে আছে । অসময়ে বাসায় এখন । বলে ,' কি ব্যাপার রাকিব ভাইয়া তুমি বাসায় এ সময়ে ? সব ঠিক আছে ?' 'হু' বলে তাকায় লীনার মুখের দিকে । বলে, 'তোর ক্লাস তো অনেক আগে শেষ , এতক্ষন ছিলি কোথায়?' ' আমার সাথে ছিল , দেখ্ কত দেশী ফল এনেছি ' বলেন ওর মা মিসেস রেহানা দরজা দিয়ে ঢুকতে ঢুকতে । লীনা তিনতলার সিড়ি বেয়ে উঠতে উঠতে একটু অবাক হয় রাকিব ভাইয়া কি এত কিছু লক্ষ্য করে ! ব্যাপার কি !
ঘরে ঢুকতে মেঝবোন দীনা যোগদানপত্র নিয়ে মেলে ধরে লীনার সামনে , ' লীনা আপু তোমার চাকরীটা হয়ে গেছে । ' লীনা সেটা নিয়ে মায়ের কাছে যেতে মায়ের কোন উৎসাহ দেখে না । উনি শুধু একটু হেসে নিয়ে বলেন , লেখা পড়া শেষ করবে , বড় ডিগ্রী নেবে । চাকরী পেয়েছো , এটা একটা সাফল্য , অভিজ্ঞতা হল চাকরীর চেষ্টার । '

লীনা ঘরে বিছানায় বসতেই রাকিব ভাইয়ের আচরনটা মনে পড়ল , মনটা খচখচ করতে থাকল । লীনা জানেনা ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহসপতিবার রাতে যেদিন ও দীপুদের সাথে বেঙল ফাউন্ডেশনে গিয়েছিল ইফফাত আরার গান শুনতে । সেদিন রাকিবের ঘনিষ্ট বন্ধু ইমন মাকে নিয়ে গান শুনতে গিয়ে লীনাকে দেখে সুদর্শন এক ছেলের পাশে বসে গান শুনতে , যে ছেলে গান শোনার চেয়ে লীনাকে দেখার ব্যাপারে বেশী আগ্রহী ছিল । ইমন গোয়েন্দাগিরি করে নিশ্চিত হয় ওই ছেলের সাথে মন দেয়া নেয়া চলছে লীনার , নাম দীপু । রাকিবের জন্য খারাপ হয় মন ইমনের । কতবার রাকিবকে বলেছে লিনাকে সরাসরি তার ভাল লাগার কথা জানিয়ে দিতে । লন্ডনে লেখা পড়া করা , স্বভাব চরিত্রে সাধারন পাঁচটা ছেলের চেয়ে বেটার রাকিব প্রতিবার লীনার যোগ্য হবার অজুহাত দেখিয়েছে । লীনা মেধাবী সেটা জানে ইমনও , তবে এই যোগ্য হবার বিষয়টা গ্রহন যোগ্য লাগেনি তার কখনো । এখন কি হবে ?
দুইদিন ভেবে গত রাতে রাকিবকে ফোনে দীপুর প্রসঙ্গে জানাতে সে চলে এসেছে ইমনের বাসায় । বলে , ' একটা কিছু কর ইমন , আমি লীনাকে ছাড়া কিছু ভাবতে পারি না । তুই লীনার সাথে কথা বল । '
ইমন কিছুক্ষন বিমূঢ় তাকিয়ে দেখে এই সহজ সরল বন্ধুকে । বুঝিয়ে বলে , ' আর ভুল করা যাবে না , সময়ও নষ্ট না একদম । তুই নিজে তোর ভাল লাগার কথা বলে দে লীনাকে । জানিনা আদৌ কোন ফল হবে কিনা , শেষ চেষ্টা আর কি । ' রাকিব সেভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে আজ বলবে বলে । সকালে অফিসে গিয়ে কিছুক্ষন অফিস করে বাসায় চলে এসেছে । লীনার ছুটির সময় পার হয়ে গেছে দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে । পরে এক সময় মনে হল ঠিক সেই দীপু ছেলেটার সাথে সময় কাটাচ্ছে লীনা । অত্যন্ত বিরক্তির সাথে দুপুরের খাওয়া শেষ করল । পরে আবার দুঃচিন্তা কিছু হয়েছে কিনা পথে লীনার । ফোন করতেও দ্বিধা । লীনার চাচাতো ভাই সে সেই কথাটা ভুলে গিয়ে মনে হল ফোন করলে যদি কিছু মনে করে ! এসব আকাশ- পাতাল ভাবনার মাঝখানে উপস্থিত হল লীনা আর জেরা করে বসল সে। মানুষের মন এমন সন্দেহপ্রবন !

এক কাপ কড়া কফি খেয়ে নিল রাকিব । নিজের রুমে ঢুকে ফ্রেশ হয়ে নিল । যতই ভাবছে লীনার কাছে গিয়ে আজ সব বলে দেবে মনের কথা ততই সব ভুলে যাচ্ছে । আশ্চর্য ! সৎ নীতিবান রাকিব পারত:পক্ষে কারো পরোয়া করে না , সঠিক মন্তব্য করতে দ্বিধা করে না , কারো সাথে কথা বলতে তার এমন গলা শুকিয়ে আসে না । কি ব্যাপার তার এই বিশেষ চাচাতো বোনের সাথে কথা বলতে তার এমন লাগছে কেন ? তা'ছাড়া দীপুর বিষয়টা জানবার পর তাকে যে লীনা হ্যা বলতে পারবে না সে কথাও ওর জানা ।
তবু বের হয়ে এল রুম থেকে , তিনতলায় গিয়ে লীনাকে ডেকে নেবে ছাদে । সন্ধ্যা হয়ে গেলে ওরা যাবে না ছাদে । তাড়াতাড়ি উঠে আসে তিনতলায় , ভেজানো দরজা ঠেলে বসার ঘরে ঢুকতে গিয়ে শোনে লীনার মেঝ বোন দীনার কন্ঠস্বর ' তুই আপু চাকরীটা নিয়ে নে , আমার আর দুই বছর বুয়েটে ; তারপর আমিও একটা কাজ খুঁজে নেব । তখন আমরা অন্য কোথাও চলে যাব । যেখানে বড় চাচার উদ্ধত আচরন সহ্য করতে হবে না ।' লীনার কথা কানে আসে রাকিবের , ' আম্মারা পছন্দ করে না বড়দের নিয়ে কিছু বলা , কিন্তু আমারো ইচ্ছে করে এমন কোথাও চলে যেতে যেখানে বড়চাচার ছায়া পর্যন্ত পড়বে না । অহংকারী , উদ্ধত , অর্থলিপ্সু জঘন্য । ইনি নাকি চাচা ।'
রাকিবের মাথা ভনভন করে ঘুরতে থাকে , সে ফ্যানের সুইচ অন করতে এগিয়ে যেতে লীনার মায়ের চোখ পড়ে । উনি ডেকে বলেন , ' বসো রাকিব , আমাদের সাথে চা খাবে । '
রাকিব বসেছিল চা খেতে , খেয়েও ছিল । তারপর দুটো পায়ে ভর করে ঘর পর্যন্ত এসেছে । তারপর সব বিভ্রান্তিকর , সব অবিন্যস্ত লাগতে লাগল । এমনকি তার জন্ম , তার পরিচয় ।

বের হয়ে রাস্তায় হাটাহাটি করল অনেকক্ষন । রাতে ঘরে ফিরে মাকে জানিয়ে দিল খাবে না সে রাতে । ড্রয়ার খুলে তিনটা রিলাক্সেন ট্যাবলেট পেয়ে খেয়ে নিল । আরো বেশী খেতে পারতো যোগাড় করে । মনে হল মা কষ্ট পাবে , লীনা কষ্ট পাবে । ঘুরে ফিরে লীনার কথাই মনে পড়ল ।
ইমনকে একটা ফোন দিল । ধরা গলায় বলল , ' রাগ করিস না ইমন , আমি পারি নি আজো বলতে লীনাকে আমার ভাল লাগার কথা । আমি মানে সানোয়ার সাহেবের ছেলে । আমি অল্প কটা মানে মাত্র তিনটে রিলাক্সেন খেয়েছি , একটু ঘুমুব । ঘুম থেকে উঠে আর সানোয়ার সাহেবের ছেলে থাকবো না । শুধু মিসেস রেহানার ছেলে হয়ে যাব । তারপর অকপটে আমার ভাল লাগার কথা করজোড়ে জানিয়ে দেব লীনাকে । তুই কোন চিন্তা করিস না । ঘুমা ইমন । লীনা ঘুমাও ।'
ইমন কিছুক্ষন রিসিভার ধরে থাকে কানের কাছে । রাকিবের এই ভালবাসার যন্ত্রনার আঁচ তার মনেও লাগে , সুখটা সে পারে না অনুভব করতে । পারলে ভাল হত । যন্ত্রনা এত অসহ্য লাগত না তার ।


(দশম)
লীনা বাবার সাথে ট্যাক্সি ক্যাবে বসে আছে । কলা বাগানে গিয়ে ফরিদপুর গামী বাসে উঠবে । মিতা সাথে যাবে । এই মূহুর্তে মিতার মত সুহৃদ আর কেউ নেই ওর । বাসায় থমথমে পরিবেশ । ওর মাষ্টার্সের আগে এভাবে চাকরীতে যোগ দেয়া মেনে নিতে পারছে না কেউ ।চাচী শুধু বলেছেন , " ঠিক আছে যেতে দাও তোমরা ক'দিন দেখে আসুক । ও ভুল করবার মত মেয়ে নয় । ও সিদ্ধান্ত নিতে অভ্যস্থ হোক "। মিতাকে যেদিন লীনা জানায় সব সেদিন মিতাকে দিয়ে প্রতিজ্ঞা করিয়েছে যাতে কেউ না জানে তার এই সিদ্ধান্ত বিশেষ করে দীপু । যার জন্য সে এমন করছে । মিতা সবকিছুতে রাজী হয়ে গেছে লীনার বিষন্ন অস্থির দু:সময়ে । লীনা বলেছিল ,' একদিকে আমার পরিবার । ভাই নেই তিনবোনের , সে পরিবারের বড় সন্তান । অন্যদিকে দীপু যার কাছাকাছি হতেই দুনিয়া ভুলে যাই , ওই সব হয়ে যায় । ভুলে যাই আমার দায়িত্ব , ভবিষ্যৎ কতর্ব্য । আমি বাঁচতে চাই , কেউ আমার জন্য কষ্ট না পাক তাই চাই । আমার নিজের কষ্ট হোক তবু ।'

বাস স্টপে পৌছে দেখে মিতা দাড়িয়ে আছে । স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলে লীনা । যাহোক শেষ পর্যন্ত ও যেতে পারছে । বাবা যেতে চেয়েছিলেন সাথে মিতা বলেছে সে যাবে , লীনাও বাবাকে ঝামেলা দিতে চায় নি । এতটুকু পথ পদ্মা পার হলেই ফরিদপুর ।
হঠাৎ চোখে পড়ে রাস্তার পাশে দীপু দাড়িয়ে আছে , দীপুই তো । কি ব্যাপার ? চোখে চোখ পড়তে হাসে দীপু । লীনার বাবা লীনার জন্য নাপা ট্যাবলেট আনবেন বলে পা বাড়াতে মিতা লীনার কাছে হাত জোড় করে । বলে , ' তুই বারন করেছিলি তখন কথাও দিয়েছিলাম তোকে যে দীপুকে বলবো না । অনেক ভেবে মনে হল এ অন্যায় আমার করা ঠিক হবে না । নিজের কাছে অপরাধী হয়ে থাকবো সারা জীবন । তোর ক্যারিয়ার , তোর ভবিষ্যৎ এত ঠুনকো হতে পারে না । তাই সব খুলে বলেছি দীপুকে । ও যাবে তোর সাথে ফরিদপুর । আমাকে যেতে বারন করেছে । বাকীটা ওর ব্যাপার ।'
বাস ছাড়বার সময় হয়ে আসতে দীপু এগিয়ে আসে । লীনা বাবার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় । মিতা বলে , ' ভাল হল খালু , দীপু তার নিজের কাজে যাচ্ছে ফরিদপুর । খুব কাজের ছেলে । লীনার কাজে আসবে । আমাকে আর যেতে হবে না বোধ হয় ।'
লীনাও সম্মতিসূচক মাথা নাড়ে ।
বাস ছেড়ে দেয় । লীনার কেন মনে হয় চলন্ত বাস থেকে লাফ দেয়া ছাড়া আর কোন শান্তি পূর্ণ সমাধান তার নেই । কেন মিতা এমন করল ? কেন দীপু ওকে মুক্তি দেয় না ।
দীপু বলে , ' তুমি জানাও নি , ভাগ্যিস মিতা বলেছে । তোমার ওই অফিসে কোন পোষ্ট খালি আছে কিনা দেখি গিয়ে । তা' না হলে তোমার কোয়ার্টারে দারোয়ান টারোয়ান হয়ে থাকবো । '
লীনা দূরে তাকিয়ে থাকে । ও গাছ লতা পাতা এত ভালবাসে কিন্তু আজ কিছু ভাল লাগছে না । ওর এই ২২ বছর বয়সের জীবনে ও অনেক বড় হয়ে গিয়েছে । দীপু রাজনীতি করে ,এক নিষ্ঠ কর্মী । দীপুর বাবা রিটায়ার্ড করে ফেলছেন কিছুদিনের মধ্যে । সংসারে তার দায়িত্ব বাড়ছে । দীপু কথায় কথায় বলেছে সে উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে চায় , সে আমেরিকা যাবার কাগজ পত্র রেডী করে রেখেছে । লীনার সব কিছু সে রেডী করে রাখতে চায় । অথচ লীনা ? তার পুত্রহীন বাবা মায়ের প্রথম সন্তান , এ দেশের প্রেক্ষাপটে করুনা ছাড়া আর কি পেতে পারে তার পরিবার । রুমানা আপুদের মত উচ্চবিত্তের হলে তবু এ ইস্যু সামনে আসতো না । লীনা দীপুকে ভালবাসে , সে কথা তার মন বারবার তাকে বলে । সে পালিয়ে যেতে চায় দীপুর সান্নিধ্য থেকে । আপাতত: আর কোন পন্থা জানা নেই তার ।
চুপ করে থাকতে দেখে দীপু বলে , ' তুমি চাকরী করবে সে ভাল কথা । আমি শুধু চিনে আসি তোমার অফিস । '

লীনা বাষ্পরুদ্ধ কন্ঠে বলে , ' দীপু তুমি কি আমাকে বুঝতে চাইবে না ? আমি কি করবো ? আমার কিছু ভাল লাগছে না । আমি আর পারছি না । '
বাসের ভিতর কোন সিনক্রিয়েট যেন না হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হয় । দীপু ডাল ভাজার প‌্যাকেট ছিড়ে লীনার হাতে দেয় । বলে ,' বাস থামলে তোমাকে চা খাওয়াবো ।'

বিভূতিভূষনের একটা বই বের করে দেয় লীনার হাতে । বলে 'প্রকৃতি উপভোগে দারুন সঙ্গ । একটু হাসো ।' হেসে দেয় লীনা । হাসে দীপুও ।

বাস ফেরীতে উঠলে লীনাকে নিয়ে ওপরে উঠে আসে দীপু । লীনা নদী দেখে কেমন উৎফুল্ল হয়ে যায় । দীপু এ রেশ ভাঙ্গতে চায় না । তাই আবার বাস পথে চলতে দীপু বলে , ' লীনা তুমি এভাবে চাকরীতে জয়েন করতে পারো না । আমার জন্য তোমার এমন ক্ষতি আমি সজ্ঞানে হতে দিতে পারি না । আমাকে কি করতে হবে বল । কি দোষ করেছি আমি ? '
' সব দোষ আমার '। স্বগোক্তি করে লীনা ।

বাসের জানালা দিয়ে দূরে তাকিয়ে আপন মনে বলে , ' জগতে এমন পুরুষ নেই যে প্রেমের জন্য নিজেকে বদলাতে পারে । একটি মেয়েকে ভালবেসে তার জন্য মানুষ হাসিমুখে প্রাণ দিতে পারে কিন্তু নতুন মানুষ , ভিন্ন মানুষ হতে পারে না । পুরুষটির মধ্যে যা আছে তাকেই মেয়েটি বিকশিত করতে পারে , পরিনত করতে পারে , নতুন কিছুই সৃষ্টি করতে পারে না ।'
দীপু বলে , ' এ কি কথা ? কেন বলছো এমন করে ? '
' আমি বলিনি , বলেছেন তোমাদের স্বগোত্রীয় একজন পুরুষ মানিক বন্দোপাধ্যায় ' জানায় লীনা ।

দীপু বলে , ' তুমি আজ অফিস ঘুরে দেখো , কথা বল । জয়েন করো না প্লীজ । তুমি যদি আজ কথা না শোন আর কোনদিন আমার সাথে তোমার কথা হবে না । '
ওর কন্ঠস্বরে একটা কিছু ছিল যা লীনাকে পর্যদস্ত করে । দীপুর দিকে তাকাতে পারে না চোখ তুলে । পথ ফুরিয়ে যায় , দ্রুত পৌছে যায় অ্যাকশন এইডের ফরিদপুর অফিসে । উপশহরে পড়েছে অফিস । কেমন গাছ পালা দিয়ে ঘেরা , অন্ধকার অন্ধকার তবু শান্তি শান্তি । লীনা অফিসে এসে বসতেই সবাই সাগ্রহে তাকে স্বাগত জানায় । লীনা জানায় সে আজ জয়েন করছে না , দেখতে এসেছে ।
দুপুরে ওদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে আগে থেকে । ওরা চা খেয়ে বেরিয়ে পড়ে অফিস এলাকা ঘুরে দেখতে । সাথে অফিসের পিওন । একটা ১০/১১ বছরের মেয়েও সঙ্গী হয় ওদের । পিওনের মেয়ে । নাম তার বিনু । লীনা পিওনকে বলে দেয় সাথে বিনু থাকলে হবে । হাটতে হাটতে ওরা চলে আসে ঘাট বাঁধানো বড় পুকুরটার পাড়ে । ঢোল কলমী ফুল ছিড়ে চুলে গুঁজে নেয় লীনা । লম্বা ঘাস , চিকন লতা , বুনো কত ফুল , ছোট ছোট ফল , সবুজের কত রকম ফের ! দেখতে দেখতে লীনা ঘাসফড়িং হয়ে যায় । ছোট ছোট শামুক খোলস ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে । বিনুকে বলে কুড়িয়ে দিতে ঢাকায় নিয়ে মালা গাঁথবে । দীপু পুকুর পাড়ের কদম গাছে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে থাকে । লীনা নেমে আসে পুকুরের সিড়ি বেয়ে । দুই পা পানিতে ডুবিয়ে । পানির মধ্যে চেয়ে দেখে তার মুখ অন্যরকম এক পেইন্টিং যেন । পেছনে অনেক গাছ পালা জড়ো হয়ে দাড়িয়েছে , দূর আকাশটাও যেন নেমে এসেছে কাছাকাছি । উৎফুল্ল লীনা ডাকে দীপুকে ।
সিড়ি বেয়ে নামে দীপু দেখে । দেখে আবার চলে যায় উপরে নীরব । কিশোরীর চপলতায় পেয়ে বসা এই মেয়েকে সে চিনতে পারছে না । লীনাকে জানত এতদিন শান্ত শিষ্ট পড়ুয়া এক মেয়ে হিসেবে । ইস্ আজ না এলে কি মিস না হয়ে যেত । গোলাপী তাঁত শাড়ি পরা চুলে বেগুনী ফুল গোঁজা অপসরী এই মেয়ে কোথায় ছিল এতদিন !
মন্ত্রমুগ্ধের মত তাকিয়ে কেটে যায় কিছু ক্ষন ।
দীপু ওপর থেকে ডেকে বলে , ' এস উঠে , যেতে হবে না আমাদের ।
লীনাঃ আরো একটু থাকি না ।
দীপুঃ ভাগ্য ভাল আমাদের আজ জয়েন করনি , করলে আজই ছাড়পত্র ধরিয়ে দিত তোমার হাতে ।
লীনাঃ খুব খারাপ হচ্ছে ? তোমার খারাপ লাগছে আমার ছেলেমানুষীতে ?
দীপুঃ উঁহু
লীনাঃ তাহলে ?
দীপু দূরে শূণ্যে তাকিয়ে বলে ' ইচ্ছে করছে বিয়ে করে ফেলি '
লীনা চমকে ঘাড় ঘুরে তাকায় দীপুর দিকে । বলে , ' মানে ?'
দীপুঃ আজ এখুনি আমার বিয়ে করতে ইচ্ছে করছে । মনে হচ্ছে এই মেয়েটিকে ছেড়ে আর এক মূহুর্ত আমি থাকতে পারবো না ।

লীনা সামনে নিস্তরঙ্গ পুকুরের দিকে তাকিয়ে থাকে অপলক , নিস্তব্ধ দুপুর থমকে থাকে তার বুকের আলোড়ন শুনবে বলে । কাছে কোথাও গাছের ডালে পাতার ফাঁকে লুকিয়ে থাকা বউ কথা কও পাখী গেয়ে ওঠে " বউ কথা কও , বউ কথা কও । " কেমন দুষ্টু পাখী , ডাকবার আর সময় পেল না ।

নীরব দীপু , নীরব লীনা । বিনু আসে লীনার কাছে । ফ্রকের শামুক খোলস দেখিয়ে বলে , ' এই যে ম্যাডাম নেন । কি করে ছিদ্র করবেন এগুলো ? কি করে মালা গাঁথবেন ?'
লীনা আসলেই জানেনা কি করে মালা গাঁথতে হয় । শিখে নেবে । ওর খুব খুব ইচ্ছে করছে মালা গাঁথতে ।

চলবে..............
পরের অধ্যায় Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে ডিসেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:৩৬
১৩টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একাত্তরের আগের আর পরের জামাত এখনও এক

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ০২ রা মে, ২০২৬ সকাল ১১:৫৮


গোলাম পরওয়ার বলেছে একাত্তরের জামাত আর বর্তমান জামাত এক নয়। অথচ এক। স্বাধীনতার আগের জামাত আর পরের জামাত একই রকম।
একাত্তরের আগে জামাত পাকিস্তানের গো% চাটতো এখনও তাই চাটে। তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

সোনার ধানে নোনা জল

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০২ রা মে, ২০২৬ দুপুর ১:১২



হঠাৎ একটা তীক্ষ্ণ শব্দে রেদোয়ানের ঘুম ভাঙল। না, কোনো স্বপ্ন নয়; মেঘের ডাক আর টিনের চালে বৃষ্টির উন্মত্ত তান্ডব। বিছানা ছেড়ে দরজায় এসে দাঁড়াতেই এক ঝলক... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরহুম ওসমান হাদীর কারণে কবি নজরুলের জনপ্রিয়তা বেড়েছে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৯


ইনকিলাব মঞ্চের জাবের সাহেব মাইকের সামনে দাড়িয়ে যখন বললেন , শহীদ ওসমান হাদীর শাহাদাতের উসিলায় নাকি এদেশের মানুষ আজ কবি নজরুলের মাজার চিনতে পারছে, তখন মনে হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের শিক্ষা - ১

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা মে, ২০২৬ রাত ৯:২৬



সমাজ আমাদের বিভিন্ন ভাবে পরীক্ষা করে। কখনো ধন-সম্পদ দিয়ে, আবার কখনোবা কপর্দকশূন্যতা দিয়েও! সমাজের এই পরীক্ষায় কেউ জিতেন, আবার কেউবা পুরোপুরি পর্যুদস্ত হয়ে বিদায় নেন এই ধরাধাম থেকে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিষন্ন মেঘের ভেলায় ভেসে....

লিখেছেন ইন্দ্রনীলা, ০২ রা মে, ২০২৬ রাত ১০:২৯



তোমাকে শুধু একটাবার বড় দেখতে ইচ্ছা করে...
এই ইচ্ছায় আমি হয়ে যাই একটা ঘাসফড়িং
কিংবা আসন্ন শীতের লাল ঝরাপাতা,
উড়ে যাই ভেসে যাই দূর থেকে দূরে...
অজানায়...

শরতের কাঁশফুলের পেঁজা তুলো হয়ে
ফুঁড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×