somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রংপুরের ক্ষেপ, খেয়ালের পথ । -২

১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ রাত ১০:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আগের পর্বঃ Click This Link
"আবার বিকেলে টাউন হল- এ সভায় আসবার আগে মাহিগঞ্জে রবি মৈত্রের বাড়ি যাওয়া গেল ।...মাহিগঞ্জ থেকে আসতে পথের দু'ধারে বড় বড় পাতাওয়ালা গাছ --" ( যুঁই- যূথিকা, বিভূতিভূষন বন্দ্যোপাধ্যায়) ।
এই সেই রংপুরের মাহিগঞ্জ, যেখানে কর্মসূত্রে ছিলেন রাজা রামমোহন রায় । এখানে অবস্থান কালে ১৯০৫ সালে রামমোহন রায় তার অল্প বয়সের কাকিমার সহমরনে যাবার আয়োজনের কথা শুনে বিচলিত হন যা তখন হিন্দু ধর্মের প্রথা ছিল । তার উদ্যোগে পরবর্তীতে এ প্রথা রদ করা হয় ।

( ১৯০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ক্লাব যার বর্তমান পরিবর্তিত রূপ) ।

"সভান্তে জ্যোৎস্নারাত্রে রায় বাহাদুর বসন্ত ভৌমিকের বাড়ি চা-পার্টি । খুব গোলাপ ফুটেচে বসন্তবাবুর বাগানে । তিনি আমাকে তার পড়ার ঘর দেখালেন-- বেশ সাজানো, আর অনেক বই আছে । এদেশে ঘর তৈরী করার পদ্ধতি আমার বেশ সুদৃশ্য লাগল ।" ( যুঁই- যূথিকা, বিভূতিভূষন বন্দ্যোপাধ্যায়) ।



এসব পুরোন বাড়ি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথার যথার্থতা প্রমান করে । এ বাড়ি রাধাবল্লভ নামে একজন জমিদারের ছিল ( শোনা কথা) যার নামে এলাকার নাম 'রাধাবল্লভ' । পরবর্তীতে এ বাড়ীর মালিক ছিলেন মশিউর রহমান যাদু মিঞা । বর্তমানে এ বাড়ী পড়ে আছে শ্রীহীন । রংপুরে অনেক এলাকায় একই চিত্র । যেমন --

( অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে ছিলাম এখনো কো-অপারেটিভ ব্যাংক নামে চালু ১৯১৫ সালে স্থাপিত এই ' সেন্ট্রাল কোঅপারেটিভ ব্যাংক" দেখে) ।
এবং

(শহরের ব্যস্ত এলাকায় মোড়ের কাছাকাছি এ বাড়ীর ভগ্নদশা ব্যঙ্গ করছে আমাদের , আমাদের অবহেলাপ্রবনতাকে)।

অতীত ছাড়া কি কোন পরিচয় হয় ? আমাদের মধ্যে বর্তমানের প্রতি যতটা আগ্রহ উদ্দীপনা ঠিক ততটাই ঔদাসীন্য অবহেলা অবিচার অতীতের জন্য ।
আমরা ভাঙ্গা ভাঙ্গির বেলায় সিদ্ধহস্ত । হোক নাসেটা সম্পর্ক ভাঙা, দল ভাঙা, মন ভাঙা, শপথ ভাঙা, কপাল ভাঙা, রাস্তা ভাঙা অথবা বাড়ি ভাঙা । আর তাই অনেক আগে দেখা জজ বাংলোর পাশে এডিসির কাঠের আকর্ষনীয় সুরম্য দোতলা বাংলো ভেঙে ফেলা হয়েছে । এ কাঠের বাংলোতে যাবার, ঘুরে দেখবার এবং অবস্থান করবার সুযোগ হয়েছিল ; তখন দেখেছিলাম এর অনন্য গঠনশৈলী । শোনা কথা এটা কোন বৃটিশ লাটের জন্য তৈরী করা হয়েছিল । ছবি তোলা হয় নি , তখন কি জানতাম এটার অকাল অথবা সকাল সকাল মৃত্যু !

( গুগল থেকে এ ছবিটা সংগ্রহ করে বোঝানোর বৃথা চেষ্টা যে বাড়িটা প্রায় এরকম ছিল, আসলে সে বাড়িটা ছিল আরো দৃষ্টিনন্দন) ।

সে বাড়ীটা নেই , ভেঙে ফেলা হয়েছে; সেখানে বাংলাদেশ ব্যাংক, এল জি ডি ইত্যাদি ইত্যাদি । কোনভাবেই কি পারা যেত না এটা সংরক্ষন করা ? স্বচক্ষে সেই বাড়ির হারিয়ে যাওয়া দেখে এক রাতে ঘুমুতে পারিনি ঠিকমত । স্থানীয় দু একজনকে বলে দেখেছি বিষয়টা ; মনে হোল কারো কিছু করবার ছিল না ।

মন খারাপের আরো বিষয় , যখন দেখি রংপুর চিড়িয়াখানার রাজকীয় বাঘ খুড়িয়ে হাটছে । দেখুন

( বাঘের এ করুন দশা দেখে আর অন্য খাঁচার কাছে যাবার ইচ্ছে হয়নি; আমার বরকে বললাম এখানে কিউরেটর নেই ? কিভাবে কষ্ট পাচ্ছে বাঘটা । আমার বর চুপ করে থাকল । নীরবতা অনেক সমস্যার সমাধান করে দেয় । নীরবতা অনেক ক্ষেত্রে সর্বনাশের চুড়ান্ত করে ছাড়ে ।)

জটিল কথাবার্তা বাদ দেয়া যাক্ । এমন আনন্দময় বেড়ানো থেকে কিছু আনন্দমূহুর্ত সবার জন্য ।

(এত এত পাখী হোক না সে কাক, আমার পুত্রধনের বহন করা রুটিটুকরো পেয়ে খুশীতে নাচানাচি -- ওড়াওড়ি , আমার পুত্রের উপচেপড়া খুশী !)


( রংপুর চিড়িয়াখানায় গাছ,গাছের কাছে শেখবার আছে, কি করে মিলে মিশে থাকতে হয় : মিলে মিশে থাকলে সৌন্দর্য বাড়ে বৈ কমে না ।)


( এ দুটো ছাগল ছানা নিয়ে মহা আনন্দে আমাদের দুই ছানা , ঢাকা নিয়ে আসবার ইচ্ছেও ছিল )।


( বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের গাড়ি - বই ভর্তি, সারা রাত সার্কিট হাউজ চত্তরে; আমার ছেলের দীর্ঘশ্বাস, ঢাকায় শুধু সপ্তাহে একদিন পায় দেখা একঘন্টার জন্য)।


( রংপুরে আমাদের এক গুনী বন্ধুর সযত্নে লালিত স্নোবল ফুল) ।


( ঘাঘট নদের পারে এক হোটেলের একরঙ সুস্বাদ চা । পরে জেনেছি এই হোটেলে দুপুরের খাবার পাওয়া যায় , আফসোস যে খাবার সময় সুযোগ পেলাম না )।


রংপুর চিড়িয়াখানায় তোলা এই ছবিটা দেখে মনে মনে ভাবি এমনই হয় সুখস্মৃতি; ঝাপসা, মোহনীয় মায়াভরা । পুরো অন্তর জুড়ে থাকে , সারাক্ষন মন ভরিয়ে রাখে ।

এ দেশটা ভারী সুন্দর ।

(ফটোগ্রাফার: মেহবুবা, শুধু গুগল থেকে নেয়া কাঠের বাড়ী ছাড়া)
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই মার্চ, ২০১২ দুপুর ২:৪৯
৪৮টি মন্তব্য ৩১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাচার হয়েছে সাড়ে ছয় লাখ কোটি টাকা।

লিখেছেন হাসান কালবৈশাখী, ১২ ই আগস্ট, ২০২২ দুপুর ১:৪৬




ডয়েচ ভেলে বাংলা ৬ আগষ্ট ২০২২ এ একটা চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট প্রকাশ করেছে।
বাংলাদেশ থেকে গত ১০ বছরে দেশের বাইরে পাচার হয়েছে সাড়ে ছয় লাখ কোটি টাকা। মিথ্যাই বলা যায়।
কারন ডয়েচ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরীমনির প্রতি নারী ও মিডিয়া বিদ্বেষমূলক আচরণ ও দেশের জনগন।

লিখেছেন মোহাম্মদ গোফরান, ১২ ই আগস্ট, ২০২২ বিকাল ৫:২৮


ছবিঃ বলে নিসি হুয়াট্স আপ এ।

পোস্টে মাল্টি, ছাইয়া, নারী বিদ্বেষী, গালিবাজ ও ব্যক্তি আক্রমণ কারী নিষিদ্ধ।

কি অপরাধ পরিমণি আর রাজের? কেন এই নেতিবাচক মন্তব্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিছু হয়, কিছু হয়না

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই আগস্ট, ২০২২ রাত ১০:৩৭

জীবনের সঞ্চয় আমার বেশী কিছু নেই,
কিছু কিছু ছোট ছোট সফলতা ছাড়া,
যা সবারই কিছু কিছু থাকে।
তবে বেশ বুঝি,
বিকেলে ভোরের ফুল ফোটার নয়!
রাতের কুসুমও তো বেশ সৌরভ ছড়ায়,
কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সময়সাময়িক ভাবনাচিন্তা অথবা কিছু জিজ্ঞাসা!

লিখেছেন ককচক, ১২ ই আগস্ট, ২০২২ রাত ১১:১৯



আমি একজন সাধারণ মানুষ। আমার পেট চলে কাজকর্মের বিনিময়ে। কর্ম ব্যস্ততার কারণে অনেকের মতো আমারও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি সম্পর্কে নিয়মিত জানবার বা খোজখবর রাখবার সময় হয়ে ওঠে না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ওয়ান ওয়ে জার্নি

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১২ ই আগস্ট, ২০২২ রাত ১১:৫৩



একটি ট্রেন ঘন্টায় এতো কিলোমিটার বেগে চলে এতো মিটার প্লাটফর্ম যদি এতো সেকেন্ডে অতিক্রম করে। তাহলে ট্রেনটির দৈর্ঘ্য কতো? আমাদের ছাত্রজীবনে এই ধরনের ভয়াবহ অংক ছিলো। শিক্ষকতা পেশা ছাড়া আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×