সবশেষে সাংসদ মমতাজ গান দিয়েই তাঁর বাজেট বক্তৃতা শেষ করেন -‘হায়রে বাঙালি, ওরে বাঙালি, তোরা বুঝবি রে একদিন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তোদের মাঝে থাকবে না যেদিন। শেখ হাসিনার জন্য আছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, তা না হলে ওসব কথা বলাই যেত না।‘’............
তার অপুর্ব সুরেলা গান সাময়িকভাবে হলেও গৃহপালিত বিরোধীদল সমৃদ্ধ নিস্প্রান সংসদকে বিনোদন দিয়ে উজ্জীবিত করতে সক্ষম হয় । আমরা সারা জাতীর পক্ষ থেকে নিস্প্রান সংসদকে সাময়িক সময়ের জন্য তিনি যে তাঁর সুরে মোহাবিষ্ট করতে পেরেছেন এজন্য জানাই অনেক অনেক শুভেচ্ছা।
কারণ আমরা মনে করি মমতাজ আর যাই হোক ৫ জানুয়রির ভোটার বিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদ চলাকালিন সময়ে যে কোটি কোটি টাকার অপচয় হচ্ছে তার গানের সুরের ঝংকারের মধ্যে দিয়ে সংসদের স্পীকার, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীবর্গ, সংসদ সদস্য ও সংসদের সকল কর্মকর্তা –কর্মচারীদের বিনোদন প্রদানের মাধ্যমে কিছু অর্থ ব্যয়ের সঠিক ব্যবহারের সুযোগ করে দিলেন।
তাছাড়া এটা অত্যন্ত আনন্দের বিষয় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ নিশ্চিতভাবে সারা বিশ্বে একমাত্র পার্লামেন্ট যেখানে ‘কাজ না করতে করতে সাংসদরা ক্লান্ত শ্রান্ত পড়েন’ তখন অধিবেশন কক্ষেই প্রধানমন্ত্রী ও জাতির পিতার বন্দনাগীতি গেয়ে কন্ঠশিল্পী ও সাংসদ মমতাজ সকলকে সতেজ করে তোলেন। আমরা কতো বড় সৌভাগ্যবান জাতি আমাদের জাতীয় সংসদে সম্রাট আকবরের রাজদরবারে যেরকম ‘তানসেনে’র মতো বিখ্যাত শিল্পী মাঝে মাঝে সম্রাটের প্রশংসালব্দ সংগীত পরিবেশনা করে সকলকে বিমোহিত করতেন, মমতাজের প্রশংসা সংগীতও ঠিক তেমনি সংসদের সবাইকে বিনোদন প্রদান করতে সক্ষম হয়েছে।আমরা শুনে খুব প্রীত হয়েছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মমতাজের গান শুনে খুশীতে হেসেছেন ও আর অন্য সাংসদেরা সদল বলে মুগ্ধ হয়ে টেবিল চাপড়ে সাংসদ মমতাজকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। যায়।নিশ্চিতভাবে এটা আমাদের মহান সংসদীয় ইতিহাসের একটা বিশাল রেকর্ড।
উল্লেখ্য, নবম জাতীয় সংসদেও রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর এবং বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে গান গেয়েছিলেন মমতাজ বেগম। সেই হিসেবে মমতাজকে রাজদরবারের রাজশিল্পী হিসেবে ঘোষনা করা যায়।
তবে বাংলাদেশের বিভিন্ন রেকর্ড সংরক্ষন করতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলো মনে করেন , জাতীয় সংসদের স্পীকারের অবিলম্বে গীনিস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের কতৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা উচিৎ কারণ এটা নিশ্চিত ভাবে একটা রেকর্ড, তা হচ্ছে পৃথিবীর একমাত্র আইনসভা যেখানে আগেকার রাজ দরবারের রীতি মোতাবেক সংগীত পরিবেশনা করার সুযোগ আছে, এটা নিঃসন্দেহে এবং অবশ্যই বিশ্বরেকর্ড।
তাই মাননীয় জাতীয় সংসদের স্পিকারের প্রতি আমাদের আহবান থাকবে তিনি যাতে অতিসত্বর গীনিস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কতৃপক্ষ ‘’রিপলি’স এন্টারটেইনমেন্টে’’র সাথে যোগাযোগ করে এবং তাদের প্রতিনিধিকে বাংলাদেশে আনার ব্যবস্থা করেন । প্রয়োজনবোধে জাতির বৃহত্তর রেকর্ড গড়ার স্বার্থে বিশেষ অর্থ বরাদ্দ প্রদানের জন্য অর্থমন্ত্রিকে নির্দেশনা প্রদান করতে পারেন। আমাদের সকল দেশপ্রেমিক নাগরিকদের মনে রাখতে হবে এ ধরনের একটা রেকর্ড গড়তে পারলে আমাদের জাতীয় সংসদের সুনাম সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে। তবে এক্ষেত্রে আপনাকে মাননীয় স্পীকার গানের রেওয়াজ করার সুবিধার্থে সংসদ ভবনের মধ্যে একটি আধুনিক গান রেকর্ডিং স্টুডিও প্রতিষ্ঠা করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।যাতে আমাদের সাংসদরা সার্বক্ষনিক গান বাজনার রেওয়াজ করতে পারেন। আর যেহেতু বর্তমানে আমাদের সংসদ সদস্যদের রয়েছে অফুরন্ত অবসর তাই তারা এখন তাদের মধ্যে কিশোর ও তরুন বয়সের অপ্রস্ফুটিত সৃজনশীল প্রতিভা উদ্ভাসিত করার এক সুবর্ন সুযোগ পাবেন।
মাননীয় স্পীকার বিরোধীদল বিহীন সংসদ হওয়ায় সাংসদদের কোনো কাজ কর্ম না থাকায় (সিনিয়রদের শুধু মাত্র ঘুমানো ও অপেক্ষাকৃত কমবয়স্কদের রসাত্মক আলাপ জমানো) আমরা বর্তমানে গীনিস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নানা ভাবে রেকর্ড গড়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের নাম বিশ্বের দরবারে স্বর্নাক্ষরে লেখানোর এক সুবর্ন সুযোগ পেয়েছি। কোনোক্রমেই আমাদের এই সুযোগ হারানো ঠিক হবে না। যেসকল ক্ষেত্রে বর্তমান সংসদ রেকর্ড গড়তে পারে মাননীয় স্পিকারের জ্ঞাতার্থে তাঁর একটি তালিকাসহ কিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরছি-
১। ‘’বুকটা ফাইট্টা যায়’’ – খ্যাত জনপ্রিয় লোক সংগীত শিল্পী মমতাজ কতৃক জাতীয় সংসদে (প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার) একক সংগীত অধিবেশনের আয়োজন করতে পারি। যেখানে শুধুই প্রধানমন্ত্রী , তাঁর পিতা, মাতা ,ভাই- বোন, মেয়ে-ছেলে,নাতি-নাতনি,ভাগ্নে-ভাগ্নির প্রশংসা সুচক সংগীত পরিবেশনা করা হবে। এজন্য অবিলম্বে অধিবেশন কক্ষে পুর্ণাঙ্গ মিউজিক সিস্টেমের ব্যবস্থা করতে হবে এবং সারা জাতি যাতে লাইভ দেখতে পায় তার সুব্যবস্থা করতে হবে।
২। ‘নান্দাইলের ইউনুস’খ্যাত বিখ্যাত অভিনয়শিল্পীর বাস্তব জীবনের স্মৃতিচারণা কিভাবে তিনি রাষ্ট্রীয় বাহিনী ব্যবহার করে তাঁর চারজন প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক নেতাকে ক্রসফায়ারের মাধ্যমে নৃশংসভাবে মেরে ফেলেছেন। তা শুনে হয়তবা নারায়নগঞ্জের গডফাদার তার পরিকল্পনায় র্যা ব ব্যবহার করে যে সেভেন মার্ডার সংঘটিত হয়েছে সেখানে যেসব ত্রুটি বিচ্যুতি ছিলো ( যার ফলে এটা জনসম্মুক্ষে প্রকাশ হয়ে পড়েছে )সে সম্পর্কে সম্যক ধারণা পেতে পারেন ।যাতে অনেক সাংসদও ভবিষ্যতে উপকৃত হতে পারেন।
৩।সাংসদ নিজাম হাজারীর কাছে আমরা তথা সারা বিশ্ব জানতে পারবে কিভাবে একজন দন্ডপ্রাপ্ত আসামীকে পুরো সাজা না খেটে জেল থেকে বের হয়ে আসা যায় এবং পার্লামেন্টের সদস্য হওয়া যায়। কিভাবে একজন জনপ্রতিনিধিকে গাড়ীতে পুড়িয়ে মেরে ফেলার পরেও ধরা ছোয়ার বাইরে থাকা যায়।
৪।সাংসদ আফিল উদ্দিনের কাছে জানা যাবে কিভাবে ও কত তারা তারি জাল ভোট প্রদান করা যায় তার বিশেষ কর্মপদ্ধতি।যা বিশেষভাবে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের নির্বাচন করতে ইচ্ছুকদের জন্য বিরাট অভিজ্ঞতা হবে বলে আমরা মনে করি, যা তারা পরবর্তী নির্বাচনে প্রয়োগ করতে পারবেন।
৫।কিভাবে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি সরকারী বাড়ি, বাংলো, ফ্লাট বেশি বেশি দখলে রাখতে পারবেন তার জন্য বিভিন্ন টিপস।
৬।একজন মন্ত্রী কিভাবে রিকশা চালাতে হয় , প্লেবয়ের মতো মোটর সাইকেল চালনা করতে পারেন তার প্রদর্শনী ।
৭। কিভাবে বিলিয়ার্ড খেলতে হয় জাতীয় সংসদ ভবনে তার প্রশিক্ষন প্রদান। যাতে আগামী বিশ্ববিলিয়ার্ড চ্যাম্পিয়নশীপে মাননীয় স্পীকারের নেতৃত্বে অংশ নিয়ে বিজয়ী হতে পারেন।
৮। সবশেষে আমাদের হোমো এরশাদ সবার সামনে তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বর্ননা করবেন কিভাবে হাটুঁর বয়সী মেয়েদের প্রেমের জালে বন্দী করা যায় ।
মাননীয় স্পীকার আপাতত আমরা উপরে উল্লেখিত বিষয় গুলো গীনিস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কতৃপক্ষের সামনে উপস্থাপন করি। আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন রেকর্ডস বুকে আমাদের জাতীয় সংসদের সৃজনশীল কাজ অবশ্যই জায়গা পাবে। যা সারা বিশ্বে আমদের জাতীয় সংসদের বিশ্ব রেকর্ড গড়ার সুনাম ছড়িয়ে পড়বে এবং পরবর্তীতে অনেক দেশের পার্লামেন্ট( অন্তত পাকিস্তানতো করবেই) তা ভাঙ্গার প্রতিযোগিতায় অংশ নিবেন। তাই মাননীয় স্পীকার আপনি অবিলম্বে আমাদের জাতীয় সংসদের বিশ্ব রেকর্ড গড়ার কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করুন ।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জুন, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



