ভূমিকম্প যদি সহনীয় মাত্রায় থাকে সেটা কিন্তু অনেক আনন্দেরই হয়। ভাবতে পা্রূন বিশাল ইট, সুরকি, পাথর দিয়ে তৈরি ভবনে আপনি শুয়ে আছেন, হঠাৎ দেখতে পাচ্ছেন আপনি দোল খাচ্ছেন। শুধু আপনিই নন , পুরো আকাশ ছোয়া ভবনটিসহ দোল খাচ্ছেন।সত্যিই কিন্তু দারুন মজার । ভয় ও উত্তেজনার মিশ্রণে পুরো সময়টি এক ভয় মিশ্রিত গভীর আনন্দ উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন আপনি। আমার অবশ্য দারুন লাগে।পুরো সময়টা আমি ভীষণভাবে উপভোগ করি।আমার মনে হচ্ছে, প্রকৃতিরই মাঝে মাঝে প্রাণীজগতকে আনন্দ প্রদান করার ইচ্ছে জাগে। প্রকৃতি যেহেতু প্রাণীজগতের তুলনায় আকারে বিশাল , তাই সে যখন আনন্দ বা অনুভুতি , হাসি , কান্না ,অনুভুতির প্রকাশ করে তার ধরনটাও হয় আমাদের মস্তিস্কের ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অনেক বড়। তাই আমরা ভয় পেয়ে যাই , আতংকিত হয়ে পড়ি।তাছাড়া মানুষ যখন আনন্দ করে, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রাণী হাতী, নীল তিমিরা যখন আনন্দ করে , উদাসীনভাবে চলাফেরা করে তখন আশেপাশের জগতের কত জীবজগতের যে প্রাণহানি ঘটে তার খবর কি তারা রাখে ।রাখে না, আর রাখার প্রয়োজনও নেই। বড়দের আনন্দ প্রকাশের ভঙ্গিটাওতো হবে বড় বড়। ঠিক তেমনি, প্রকৃতি যখন আনন্দ প্রকাশ করে, উদাসীনভাবে আড়মোড় ভাঙে তার প্রকাশটাও তো হবে নিশ্চিতভাবে অনেক ভয়াবহ, অনেক বিশাল। প্রাণীকূলের গগণবিদারী চিৎকারে যে প্রকৃতির আনন্দের পরিপূর্ণতা পাবে, এটাই তো স্বাভাবিক।বরং আমাদেরও প্রকৃতির আনন্দকে উপভোগ করতে হবে।কারণ বছরের বছর, প্রকৃতি আমাদের প্রতিনিয়ত আনন্দময় উপভোগ্য সময় কাটানোর সকল উপসর্গ যুগিয়ে যাচ্ছে , আর কালে ভদ্রে যখন তার উদাসী মন উচাটন হয়ে ওঠে, তখন সে নিজেকে রিচার্জ করার জন্য একটু আনন্দ করে, সেটা আমরা মেনে নিতে পারব না। অবশ্যই পারব।
''সৃষ্টির বিস্ময় সৃষ্টি মানবজাতি'' এত স্বার্থপর হতেই পারে না। তাই প্রকৃতির আনন্দে আমরা আনন্দিত হবো।ভূমিকম্প, ঝড়, বৃষ্টি, ঘুর্ণিঝড়, বজ্রপাত সবকিছুকে প্রকৃতির আনন্দ, বেদনার প্রকাশভঙ্গি হিসেবে মেনে নেব।তাহলে দেখব এর ভিতরেও অন্যধরনের এক আনন্দ আছে।
যা আমাদের জাগতিক প্রচলিত আনন্দের চেয়েও বেশি কিছু।(Just kidding)
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ১২:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




