'ওজে সিম্পসন' নামটা নিশ্চয়ই অনেকের কাছে চেনা চেনা লাগছে । হ্যা, ঠিকই ধরেছেন তিনি ছিলেন আমেরিকান রাগবি ফুটবলের কিংবদন্তী ।তবে সবকিছু ছাপিয়ে তিনি সারা বিশ্বে ব্যাপক প্রচারের আলোয় আসেন সাবেক স্ত্রী নিকোল ব্রাউন ও তার বয় ফ্রেন্ডকে হত্যার দায়ে ট্রায়ালের সম্মুখীণ হওয়ার কারণে।ওজে সিম্পসনের বিরুদ্ধে গঠিত ট্রায়ালকে বলা হয় ''ট্রায়াল অব ডী সেঞ্চুরি''। আমেরিকান ইতিহাসে সর্বাধিক প্রচারিত, সর্বাধিক টি আর পি পাওয়া ট্রায়াল ছিলো এটি।সত্যি বলতে পুরো আমেরিকান সমাজ বিভক্ত হয়ে পড়েছিল উক্ত ট্রায়াল চলাকালীন সময়ে। সেলিব্রেটিদের বিরুদ্ধে ট্রায়ালের সবচেয়ে স্পর্শকাতর দিক হচ্ছে জনমতের ব্যাপক চাপ। মাঝে মাঝেই বিচার কাজের সাথে জড়িতরা এই চাপ সামলাতে পারেন না।সেই পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায় ৭৭% সাদা আমেরিকান মনে করতেন ওজে দোষী ,পক্ষান্তরে ৭৮% আফ্রিকান-আমেরিকান মনে করতেন ওজে নির্দোষ।বিচারে এর প্রভাব পড়েছিলো কিনা সেই বিতর্কে যাবো না।সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া তারকা খচিত পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের স্ত্রী ''মিতু '' হত্যাকান্ডের ঘটনাপ্রবাহ দেখে ওজে সিম্পসনের বিরুদ্ধে ট্রায়ালের কথা বারবার মনে পড়ছে।
বাবুল আকতার সম্পর্কে বাংলাদেশের মিডিয়া ইতিমধ্যেই এক ধরনের মিথ তৈরি করে ফেলেছে।যদিও আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি কোনো একজন ব্যক্তির দ্বারা বাস্তবিক অর্থে রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থায় সামগ্রিক পরিবর্তন সম্ভব নয়। তারপরেও পেশাদারিত্বের সর্বোচ্চ উৎকর্ষ সাধনের জন্যে ব্যক্তিগত অবদানকে অস্বীকার করার কোনো কারণ নেই।
তবে দুশ্চিন্তার বিষয় হচ্ছে ব্যক্তিগত পর্যায়ে যখন মিডিয়া কাউকে অবিসংবাদিত হিরোইজমের মর্যাদা প্রদান করেন তখন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে এক ধরনের শিথিলভাব এসেই যেতে পারে।যা বিচারকাজ প্রভাবিত হওয়ার নিয়ামক হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।
তাই মিডিয়া ও অপরাধ তদন্তের সাথে সংশ্লিস্ট সবাইকে পুলিশ সুপার বাবুল আকতারের স্ত্রী ''মিতু'' হত্যাকান্ডকে একটি অপরাধ্মূলক ঘটনা হিসেবে নিতে হবে।যেকোনো ধরনের আদর্শগত, গোষ্ঠীগত ও হিরোইজমের ইস্যুকে অতি সন্তর্পণে পাশে সরিয়ে রাখতে হবে।
একমাত্র এভাবেই নিরপেক্ষভাবে তদন্ত কাজ পরিচালনা এবং মুল অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব।
এখানে অতি অবশ্যই ''মিতু'' হত্যাকান্ডকেই গুরুত্ব দিতে হবে ,অন্য সবকিছুই মূল্যহীন।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জুন, ২০১৬ দুপুর ১:২৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


