মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জিম্মি ঘটনার সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে টিভি চ্যানেলের সমালোচনা করতে গিয়ে যে বক্তব্যে রেখেছেন তা বেসরকারী চ্যানেল্গুলোর লাইভ প্রচারের মতই অদায়িত্বশীল , শিশুসুলভ ও বালখিল্যতায় পরিপূর্ণ।তিনি হয়ত বক্তব্যে দেয়ার সময় ভুলেই যান তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী। কোনো রাজতন্ত্র শাষিত রাষ্ট্রের কোনো সম্রাজ্ঞী নন।তিনি বলেছেন, ''আমি যেভাবে চ্যানেল দিতে পারি আবার কেড়েও নিতে পারি'' এ বক্তব্যের মধ্যে ডিয়ে প্রমাণিত হয় তিনি বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রকে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পদ জ্ঞান করেন।তাঁর এ বক্তব্যের মাধ্যমে প্রমাণ হয় এই রাষ্ট্র এখন কোনো নিয়মনীতির মাধ্যমে পরিচালিত হয় না , এটা শুধুমাত্র একজন মাত্র ব্যক্তির ইচ্ছা-অনিচ্ছার উপরে নির্ভরশীল।গতকালের ঘটনার পরে দেশের প্রধান নির্বাহী হিসেবে বক্তব্যে প্রদানের ক্ষেত্রে যে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়া প্রয়োজন ছিলো তা দিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সম্পূর্ণরুপে ব্যর্থ হয়েছেন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বুঝতে হবে তিনি যখন কোনো বক্তব্যে প্রদান করেন তার প্রতিটি শব্দের আলাদা আলাদা অর্থ প্রকাশ করে। তাই বক্তব্যে দেয়ার ক্ষেত্রে তাঁর যেকোনো ধরনের আবেগের বহিঃপ্রকাশ পুরো দেশ বা জাতিকে মহাবিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিতে পারে।যেমন কিছুদিন আগে ব্লগারদের নিয়ে তিনি যে বক্তব্যে রেখেছিলেন তা ছিল চরম পর্যায়ের আবেগতাড়িত, কোনোক্রমেই রাষ্ট্রনায়কসুলভ নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সেই বক্তব্যে অব্ধধর্মবিশ্বাসী গোষ্ঠী সমূহকে বরং উৎসাহিত করেছে।তাই একথা অস্বীকার করার জো নেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজেও দেশের বর্তমান জাতীয় বিপর্যয়ের দায় এড়িয়ে যেতে পারেন না।
সুতরাং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আবেদন সামন্ততান্ত্রিক মানসিকতা পরিহার করুন, রাষ্টনায়কসুলভ ভূমিকা গ্রহণ করুন।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জুলাই, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


