somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মাছ পানি বাংলাদেশ ময়মনসিংহে সফলতা

২৬ শে অক্টোবর, ২০১৪ বিকাল ৪:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাছ পানি বাংলাদেশ ময়মনসিংহে সফলতা । মাছ ভাতের বাঙ্গালীর বাংলাদেশে মাছ আমদানী এটা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয় ।আমরা যদি আমাদের পানি সম্পদকে যথাযথভাবে মাছ উৎপাদনে কাজে লাগাতে পারি তাহলে আমার বিশ্বাস বাংলাদেশে মাছ আমদানীর দুর্নাম এবং পর নির্ভরতা বিলীন করা সম্ভব । সমগ্র বিশ্বের অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করে তেল সম্পদ । কিন্তু তেল সম্পদের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠে । পানি সম্পদ নি:সন্দেহে স্থায়ী এবং শ্রেষ্ঠ সম্পদ । কৃষি , মৎস্য , ব্যবসা বাণিজ্য , ফলজ বনজ বৃক্ষ ,শালবন, মেনগ্রোভ বন ,চলাচল ব্যবস্থা সবক্ষেত্রে পানি সম্পদের প্রধান্য সুষ্পষ্ট । পৃথিবীর ৭৫ ভাগ অঞ্চল পানি আবৃত । পৃথিবীর কোটি কোটি শ্রমজীবী ও পেশাজীবী মানুষের জীবন জীবিকা পানিকে ঘিরেই আবর্তিত । বাংলাদেশে রয়েছে যথেস্ট পানি সম্পদ । কিন্তু এই সম্পদকে আমরা এখনও সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারছি না । সম্প্রতি একটি খবরে আমার মাথা গুলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে । খবরে প্রকাশ, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে মাছ আমদানি বাড়লেও কমছে রফতানি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একমাত্র চিংড়ি ছাড়া অন্যান্য মাছ রফতানি কার্যক্রমে প্রণোদনা না থাকায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক রফতানিতে। এছাড়া দেশে উৎপাদন কার্যক্রমে ইতিবাচক কোনো পদক্ষেপ নেই। বাজারে বর্তমানে যেসব মাছ বিক্রি হচ্ছে, তার বড় অংশই আমদানি করা। সংশ্লিষ্ট শুল্ক বিভাগের তথ্যানুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে গত দুই অর্থবছর ২২৬ কোটি ৪৩ লাখ ৪৩ হাজার টাকার মাছ আমদানি হয়েছে। এর সিংহভাগই এসেছে ওমান, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। ২০১৩-১৪ অর্থবছর চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে মাছ আমদানি হয়েছে ৪ কোটি ১০ লাখ কেজি। এর আগের অর্থবছর আমদানি হয় ৩ কোটি ৪১ লাখ ৪৯ হাজার কেজি। এ হিসাবে গত অর্থবছর মাছ আমদানি বেড়েছে ৬৮ লাখ ৫৩ হাজার ৬৪৮ কেজি।শুল্ক বিভাগের রফতানি শাখার তথ্যানুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ২০১৩-১৪ অর্থবছর ৫৮ লাখ ৫৯ হাজার কেজি হিমায়িত মাছ রফতানি হয়েছে। অথচ এর আগের অর্থবছর রফতানি হয় ২ কোটি ২৪ লাখ ৪৩ হাজার কেজি। সে হিসাবে রফতানি কমে ১ কোটি ৬৫ লাখ ৮৪ হাজার কেজি।সংশ্লিষ্টরা জানান, চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় মাছ আমদানি বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি আসছে স্যাড ফিশ। এর পরই রয়েছে চকোরি ফিশ ও সার্ডিন। আমদানি করা মাছের মধ্যে রয়েছে ম্যাকারেলটুনা, আইড়, রূপচাঁদা, বোয়াল, চিতল, ক্যাট ফিশ ও কার্পজাতীয় মাছ। বিদেশী মাছের ওপর নির্ভরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে দেশে মাছ চাষের প্রতি আগ্রহ আগের মতো নেই। এছাড়া বাংলাদেশে মাছ চাষের খরচ অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশি। তাই বাড়ছে আমদানি। একটি উদাহরণই যথেষ্ট । যেমন,বাংলাদেশের মানুষের কাছে পাংগাস মাছ ছিল রাজসিক খাবার । প্রাকৃতিক প্রজননের ক্ষেত্রগুলো ধ্বংসের কারণে সুস্বাদু মাছটি সংকটে ধরা ছোঁয়ার বাইরে চলে যায়। ১৯৯৩ সালে চাদপুর নদী গবেষণা কেন্দ্রের তৎকালীন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা খলিলুর রহমান কৃত্রিম প্রজনেনের মাধ্যমে থাই পাংগাসের পোনা উৎপাদনে সক্ষম হন ।সেই যে যাত্রা শুরু হলো , তার ফলশ্রুতিতে থাই পাংগাস এখন গরীবের মাছ । ময়মনসিংহে ১৯৯৪ সালে বানিজ্যিক ভাবে পাংগাস চাষ শুরু হয় ।তৎপরবর্তীতে মজুদ ব্যবস্থাপনায় পানি যোগ ও পরিবর্তন , খাদ্য ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধি ও বাজার ব্যবস্থার উন্নতি ঘটে । বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে পাংগাস মাছ চাষ হচ্ছে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে বর্তমানে এই মাছ রফতানির মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে । আমাদের দেশে রয়েছে যথেষ্ট পানি সম্পদ । পাংগাসের মত বিলুপ্ত ৫৪ প্রজাতির মাছ প্রজননের মাধ্যমে পানি সম্পদকে কাজে লাগালে মাছের বংশ রক্ষা , আর্থ সামাজিক উন্নয়ন, আত্ন-কর্মসংস্থান ,দারিদ্র বিমোচন প্রাণীজ আমিষের চাহিদাপূরণ, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং আমদানী নির্ভরতা কমানো সম্ভব ।প্রয়োজন সরকারী বেসরকারীভাবে মাছ চাষে জনগনকে উদ্বুদ্ধ করা এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের উচিত জনগণের সাথে সংযোগ স্থাপন করা ।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে অক্টোবর, ২০১৪ বিকাল ৪:১৬
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রচন্ড রোদে

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০০

প্রচন্ড রোদে
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

রূপসী এদিক ওদিক কী খুঁজো
মনের মতো কাঙ্ক্ষিত পুরুষ
এভাবে সোনালি কতোদিন বিনষ্ট করবে
আমায় একটু ভেবে দেখো।
শূন্য হৃদয় নিয়ে কেঁদে মরি
কেউ নেই পাশে, গেছে সবাই ছাড়ি।
দরিদ্র বলে জুড়েনি তাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

জেফরি আর্চারের জগৎ বিখ্যাত উপন্যাস ‘A Prisoner of Birth’ এবং অন্যান্য প্রসঙ্গে....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৩৭


ছবিতে আমি, মারুফ জামান এবং লেঃ কর্নেল রাজীব।
জেলে থাকতে জেফরি আর্চারের (Jeffrey Archer) লেখা ‘A Prisoner of Birth’ বইটির পড়ার জন্য বলেছিলেন ক্যাপ্টেন (চাকুরিচ্যুত) খন্দকার রাজীব... বইটি সম্পর্কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কো রুবিও ভারতে কী করছেন?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২


আওয়ামী দোসর নবনীতা আপার মতে, মার্কো রুবিও ভারতে গেছেন শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ব্যবস্থা করতে। ডিসেম্বর মাসে যাতে শেখ হাসিনা ট্রাভেল পাস নিয়ে দেশে ফিরতে পারেন, সেই আলোচনা করতেই নাকি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সুন্দর সর্বনাশ

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:২১



সবকিছুই পাওয়া যায় এখন বিপণনের কল্যাণে,
বিপনি বিতানে বিতানে;
চাইলে কিনে নিতে পারো লালনীলহলুদ মনও!

মন চাইলে পোষ মানাতে পারো বনের অবাধ্য পশুও;
শুধু পোষ মানাতে যেও না মানুষ;... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগের পর-

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৮



সময় তখন ১৯৫০ সাল।
ওমর আলীর জ্বর এসেছে। জ্বর নিয়েই তিনি পত্রিকা পড়ছেন। দীর্ঘদিনের অভ্যাস। টারজান গিয়েছে বাজার করতে। এর আগেও টারজান বেশ কয়েকবার বাজার করেছে। বাজার করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×