somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

দেশভাগের পর-

২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সময় তখন ১৯৫০ সাল।
ওমর আলীর জ্বর এসেছে। জ্বর নিয়েই তিনি পত্রিকা পড়ছেন। দীর্ঘদিনের অভ্যাস। টারজান গিয়েছে বাজার করতে। এর আগেও টারজান বেশ কয়েকবার বাজার করেছে। বাজার করতে তার ভালোই লাগে। ওমর আলী বলেছেন, তার জ্বর ভালো হলে পুষ্প আর তাকে নিয়ে বেড়াতে যাবেন ধানমন্ডিতে। সেখানে নাকি অনেক গাছপালা আছে। আছে বড় বড় পুকুর। বিশাল বিশাল ধানক্ষেত। আসেপাশে কোনো বাড়িঘর নেই। স্কুলের ছেলেমেয়েরা ধানমন্ডিতে পিকনিক করতে যায়। সন্ধ্যার পর সেখানে যাওয়া নিষেধ। শেয়াল বের হয়। আর বানর তো আছেই। বানর গুলোর সাহস বেশি। এরা যা পায় ছিনিয়ে নেয়।

দৈনিক আজাদ পত্রিকাটা হঠাত বন্ধ হয়ে গেল।
ওমর আলী নিয়মিত এই পত্রিকাটা পড়তেন। 'সাধু সাবধান' শিরোনামে সম্পাদকীয়টা পড়ে তিনি বেশ মজা পেয়েছেন। দুঃখজনক ব্যাপার হলো 'সাধু সাবধান'' নামে কলামটি লেখার কারনেই পত্রিকাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। আজাদ মূলত মুসলিম লীগ ভাবধারার পত্রিকা। আজাদ বন্ধ হয়ে যাবার পর ভাসানীর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় সাপ্তাহিক ‘ইত্তেফাক’। ওমর আলী বুঝতে পারেন, এটি কট্টর মুসলিম লীগবিরোধী পত্রিকা এবং পূর্ব বাংলার সবচেয়ে জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী পত্রিকা হবে।

ওমর আলী ঠিক করেছেন, আজ সারা দিন শুয়ে শুয়ে বই পড়বেন।
হাতের কাছে তার চারটি বই আছে। যে কোনো একটি বই তিন আজ পড়বেন। বুকের কাছে বই নিয়ে তিনি ভাবছেন- দেশভাগ হলো ধর্মের ভিত্তিতে। একভাগে পড়লো মুসলিমরা ও অন্যভাগে পড়লো হিন্দু ধর্ম অনুসারীরা। মুসলিম রাজ্যে আবার দুটো ভাগ পশ্চিম আর পূর্ব। পশ্চিম আর পূর্বের প্রজাদের মাঝে সাংস্কৃতি -ঐতিয্যে ও জীবনযাত্রায় আবার ব্যাপক তফাত। দেশভাগ মানুষকে ছিন্নমূল ও যাযাবর করে দিয়েছে। একাধিকবার ঠাঁই বদল করতে হয়েছে মানুষকে।
আদিবাসী ও সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছে, ভবিষ্যতেও হবে। চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো, হাজং, কোচ, ডালু, হদি, বানাই প্রভৃতি আদিবাসীদের কয়েক দফা প্রাণরক্ষার জন্য জন্মভূমি ছাড়তে হচ্ছে। ওমর আলী জানেন এক সময় এই দেশভাগ নিয়ে জাদুঘর, সাহিত্য ও চলচ্চিত্র তৈরি করা নতুন প্রজন্মের জন্য। কিছু হৃদয়বান মানুষ অবশ্যই দেশ ভাগের দুঃখ কষ্ট ভবিষ্যত পৃথিবীর জন্য লিখে রাখবেন। তিনি নিজেও কিছু লিখবেন কিনা মনস্থির করতে পারছেন না।

বাজারের পথ টারজানের চেনা।
তবু সে যতবার বাজারে যায় ভিন্ন পথ দিয়ে যায়। নতুন একটা রাস্তা তার চেনা হয়ে যায়। যেন এই রাস্তাটা আগে ছিল না, এটা তার আবিস্কার। এখানে একটা পতাকা উড়িয়ে দেওয়া যাক। তবে আজ সব রাস্তা কেমন খালি খালি। শুধু মাত্র বাজারে কিছু লোকজন দেখা যায়। ওমর আলী তাকে বলেছেন- এই শহরে অনেক লোক বাস করে, প্রায় সাড়ে তিন লাখ। গ্রাম থেকে অনেক ছেলে শুধু মাত্র লেখাপড়া করার জন্য ঢাকা কলেজে পড়তে আসে। তারা হোস্টেলে থাকে। টারজানের খুব ইচ্ছা ঢাকা কলেজে পড়ার। ওমর আলী বলেছেন, খুব মন দিয়ে লেখাপড়া করলে শুধু ঢাকা কলেজ না, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও পড়ার সুযোগ পাওয়া যাবে। এই জন্য টারজান খুব মন দিয়ে পড়ছে। যদিও ক্লাশে সে সবচেয়ে বুদ্ধিমান ছাত্র। স্কুলের শিক্ষকরা তাকে খুব ভালোবাসেন।

পুষ্প টারজানের বুদ্ধি পরীক্ষা করার জন্য একটা ধাঁধা জিজ্ঞেস করেছিল-
''অতি ক্ষুদ্র জিনিসটা, বহন করে মানুষটা।'' এটার উত্তর কি হবে? কিন্তু গত দিন ধরে ভেবেও ধাঁধার উত্তরটা খুঁজে বের করতে পারেনি। কি এমন জিনিস যা একটা মানুষকে বহন করতে পারে? অতীত দিনের সৃতি? নাকি উকুন? বাজার শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে পুষ্পের সাথে টারজানের দেখা হয়। পুষ্প স্কুল থেকে ফিরছে। পুষ্প'ই প্রথমে দেখে টারজানকে। প্রশ্ন করলো পুষ্প- কি মাছ কিনলে আজ?
ট্যাংরা মাছ।
ট্যাংরা মাছ কি তোমার প্রিয় মাছ?
না, আমার প্রিয় মাছ চিংড়ি। কিন্তু আজ বাজারে চিংড়ি মাছ উঠেনি। তবে, ওমর চাচা গতকাল বলেছিলেন, ট্যাংরা মাছ খেতে ইচ্ছে করছে। চাচীও বললেন, ট্যাংরা মাছের কথা।
পুষ্প বলল- এই মাছ কিভাবে রান্না করে জানো?
টারজান বলল, জানি না। আমি শুধু খেতে জানি।
পুষ্প বলল- এই মাছ আমি না খেলেও রান্নার নিয়ম জানি। প্রথমে মাছ কেটে পরিষ্কার করে ধুয়ে পানি ঝরাতে হবে। চুলায় ফ্রাইপ্যানে তেল দিতে হয়। তেল গরম হলে পেঁয়াজবাটা, রসুনবাটা, হলুদগুঁড়া, মরিচগুঁড়া, লবণ ও সামান্য পানি দিয়ে ভালো করে কষে নিতে হয়। কষানো হলে তাতে মাছ ও আলু কুচি দিতে হয়। একটু নেড়ে এক কাপ পানি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। মাছ ও আলু সেদ্ধ হলে ধনেপাতা ও কাঁচা মরিচ দিতে হবে। তারপর গরম ভাতের সঙ্গে গপ-গপ করে খেতে হয়। টারজান অবাক হয়ে পুষ্পের দিকে তাকিয়ে আছে!

সরলা বিবির কাপড়ের ব্যবসা ইদানিং মন্দা যাচ্ছে।
আসামে তার কাসার থালা বাসন আরও অনেক নিত্য ব্যবহার্য জিনিস ভালোই চলছিল। সেখান থেকে চলে আসতে তারা বাধ্য হলেন। বাকিটা জীবন এখানেই থাকতে হবে। আর কি কখনও আসাম যেতে পারবেন? গতমাসে কলতাবাজার এলাকায় তিন কাঠা জমি কিনেছেন। ওমর আলী সংসারী মানুষ না। যা করার তাকেই করতে হবে। এ ব্যাপারটা তিনি ওমর আলীকে বিয়ে করার তিন মাস পর বুঝতে পারেন। কিন্তু তিনি ওমর আলীকে খুব ভালোবাসেন। সেদিন কোথা থেকে যেন টারজান নামের একটা ছেলেকে ধরে এনেছে। ছেলেটাকে দিন-রাত পড়াচ্ছেন। নিজের মেয়ে পুষ্প যে পাড়া বেড়ানি হয়েছে সেদিকে খেয়াল নেই। বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের পেঁয়াজ কেটে দেয়। কুয়া থেকে পানি তুলে দেয়। উঠান ঝাড়ু দিয়ে দেয়। ছোট বাচ্চাদের গোছল করিয়ে দেয়, খাইয়ে দেয়। ঘুম পাড়িয়ে দেয়। সরলা বিবির আফসোস মেয়েটা তার মতো হয়নি। তার বাবার স্বভাব পেয়েছে।

সেদিন ওমর আলী বলছিলেন- বাংলা ভাষায় নাকি আর কথা বলা যাবে না।
উর্দুতে কথা বলতে হবে। পাকিস্তানের হর্তা-কর্তা নাকি তাই'ই চায়। বিষয়টা সরলা বিবির মোটেও ভালো লাগেনি। জোর করে কোনো কিছু চাপিয়ে দেওয়াটা তার একেবারেই অপছন্দ। এর আগে জোর জবস্তি দেশ ভাগ করা হলো। এখন বলছে উর্দু হবে আসল ভাষা। দেশ ভাগ করা হয়েছে, তিনি চুপ করে ছিলেন। কিন্তু কেউ যদি তার মুখের ভাষা কেড়ে নেয়- তাহলে তিনি চুপ করে বসে থাকবেন না। তার যা আছে তিনি তাই নিয়ে প্রতিবাদ করবেন।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৮
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাদ্রাসা শিক্ষা একটা কর্মবিমুখ শিক্ষা

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৫

এদেশের মাদ্রাসা শিক্ষারে আপনি একটা স্ক্যাম হিসেবে ধরতে পারেন। মাদ্রাসার বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে যে মাদ্রাসাগুলো আছে সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য সব মাদ্রাসাই এই স্ক্যামের ভেতরে। এটা একটা ভিক্ষার সাইকেল, দারিদ্র্য'র দুষ্টু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝর্ণা জল

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:২১


আমি ব্যস্তবতা দেখি
পানকৌড়ির সাঁতার-
কল্পনায় শুধু স্বপ্ন আঁকি,
মধ্যবিকাল ঢেউ তোলা সাগর
হতাশা ডিঙিয়ে যায়- নিরিবিলি
রাত দুপুরের বাসর।

উড়ে ধোয়া, নিঃশ্বাসে সাদা বক,
খেলা করে যে, প্রণয়ের চক-
নীল মেঘ ভীর জমায়, বর্ষা কাঁদাময়,
ভোরের ক্লান্তি দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিশীথের মুঠোয় - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪



আমি সূর্যোদয়ের অপেক্ষায়,
হিমশীতল সকালের ভেতর নত চোখে চেয়ে আছি।
হিমার্ত জানালায় জমে ওঠে নিঃশ্বাসের মেঘ—
আঙুল বুলিয়ে মুছে দিই;,
যদিও জানি, আজ সেখানে তোমার পদচিহ্ন নেই।

শরতের বৃক্ষেরা পত্রমোচনের ভাষা জানে;
আমি কেবল তোমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিম করা কি হারাম?

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬




জিম করা কি হারাম?

হ্যাঁ, জিম করা হারাম!

যদি জিমে গিয়ে নিজের পেশিবহুল বাহুডোরে কোনো ললনাকে জড়িয়ে ধরেন!

কিন্তু তারপরেও কথা থাকে।

এখানে জড়িয়ে ধরাটা হারাম। জিম করাটা নয়!

অর্থাৎ, জিমে গিয়ে শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কো রুবিও ভারতে কী করছেন?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২


আওয়ামী দোসর নবনীতা আপার মতে, মার্কো রুবিও ভারতে গেছেন শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ব্যবস্থা করতে। ডিসেম্বর মাসে যাতে শেখ হাসিনা ট্রাভেল পাস নিয়ে দেশে ফিরতে পারেন, সেই আলোচনা করতেই নাকি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×