somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভাত শালিকের ভালোবাসায়......

০৮ ই আগস্ট, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ছোট বেলায় পাখি পালনের প্রতি আলাদা একটা শখ ছিল। স্কুল ছুটি হলে নতুবা বন্ধ থাকলে পাখির খোঁজে বের হতাম। পাখি পালন বলতে একটা পাখি খাঁজার ভিতর বন্দি রেখে নিজের আয়ত্ত্বে আনার ব্যর্থ চেষ্টা জীবনে কম করিনি।

গ্রামের যেকারো বাড়িতে পোষা পাখি দেখলে খুব আপসোস হত । মনে মনে ভাবতাম আমারও যদি একটা পোষা পাখি থাকত,কথা বলতে পারত। সাধারণত গ্রামের বেশির ভাগ পাখিপ্রেমী মানুষের ভাত শালিক পাখির প্রতি বেশি টান থাকত। আমরা গ্রামে যেই পাখিটাকে শালিক বা শাড়ো পাখি বলি। আমি বেশ কয়েকটা ভাত শালিকের বাচ্চা বিভিন্নভাবে সংগ্রহ করেছিলাম।

ভাত শালিক পাখি সংগ্রহ করা খুব যে কঠিন ছিল তা নয়। গাছের ফোকোরে নতুবা কারো কলস টাঙ্গানো গাছে সাধারণত ভাত শালিক পাখিরা বাসা বাঁধে। বছরের একটা সময় ভাত শালিক পাখিরা বাচ্চা দিত। সেই বাচ্চা যেভাবেই হোক জোগার করতাম। মঝে মধ্যে কিছু টাকা দিয়ে ভাত শালিকের বাচ্চা কিনেও নিতাম। কিন্তু দুভার্গ কারণে আমি অনেক চেষ্টার পরেও পাখি গুলোকে পোষ মানাতে পারিনি।

এটা আমার ছোট বেলায় সবচেয়ে দুঃখের একটা বিষয় ছিল। ভাত শালিকের বাচ্চা যখন নিয়ে আসতাম তখন স্কুল শেষে কাচের একটা বোতলে ফড়িং শিকার করতাম। ভাত শালিকের অন্যতম প্রিয় খাবার হলো ঘাস ফড়িং। সাধারণত ভাত শালিক সর্বভূক প্রাণি হলেও তাদের পছন্দের খাবার ছিল ঘাস ফড়িং কেঁচো,ফল,শষ্যদানা,বীজ,ছোট সরীসৃপ এবং মানুষের ফেলে দেওয়া খাবারের উচ্ছিষ্ট তাদের প্রধান খাবার ছিল।

ভাত শালিকের আরেকটা পছন্দের খাবার হলো খেজুরের রস। খেজুর রসের কলসে বসে তারা রস খেতে খুব পছন্দ করে। আমি স্কুল শেষে ফড়িং ধরার কাজ শেষ করে বাচ্চা গুলোকে নিজের মত করে খাওয়াতাম। রাতের বেলায় সন্তানের মত যত্ন করে খড় কিংবা ঘাসের শুকনো পাতা বিছিয়ে রাখতাম যাতে বাচ্চা গুলো কষ্ট না পায়।

ভাত শালিকের নামের পিছনে তাদের চলাচল ও আচার ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে নাম রাখা হয়েছে অ্যাক্রিডোথিরিস যার অর্থ হলো পঙ্গপাল বা শিকারী। আমি প্রতিবারই ব্যর্থ হতাম এই বাচ্চা গুলোকে বড় করতে।

একটু বড় হতেই খাঁচা থেকে বের করে দিতাম আর তারা সেই সুযোগের ফলে দুই একদিনে নিজেদের ঠিকানায় পাড়ি জমাতো। আমি কষ্ট পেতাম। আবার চেষ্টা করতাম,আবার ব্যর্থ হতাম। এভাবে আমি কম করে হলেও দশটা বাচ্চাকে বড় করার চেষ্টা করেছি কিন্তু পারিনি!!

ভাত শালিক মানুষের কথা নকল করতে পারে,টিয়া বা ময়না পাখিও পারে কিন্তু টিয়া বা ময়না পাখি পাওয়া দুষ্কর বিষয়। তাই ভাত শালিকই ছিল প্রধান আকর্ষন। অনেক বছর পর সেদিন এক সাথে কয়েক শত ভাত শালিক দেখতে পেয়ে আমি অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। ঢাকার উদ্দেশ্যে যেতে বাসের বিরতিতে বগুড়ার ফুটভিলেজে দুপুরের খাবার জন্য নামেছি। নেমেই দেখি শত শত ভাত শালিক এক জায়গায় জড়ো হয়ে মানুষের ফেলে দেওয়া উচ্ছিষ্ট খাচ্ছে।

আমি এই দৃশ্য দেখে কোনোভাবেই লোভ সামলাতে পারলাম না! ভাত খাওয়া বাদ দিয়ে ব্যাগ থেকে ক্যামেরাটা বের করে তাদের সাথেই কুড়ি মিনিট ভালোবাসায় আবদ্ধ হলাম। দু’টো চানাচুর আর ভাজা চিড়ার প্যাকেট কিনে নিয়ে পাখি গুলোকে জড়ো করলাম আমার কাছে। একটু খাবারেই তারা খুব আপন হয়ে যায়। মনে হয় ফুটপাতের কোনো অসহায় ব্যক্তির অনাহারী পেটের তীব্র জ্বালায় ডাস্টবিনের ফেলে দেওয়া খাবার যেভাবে কুড়িয়ে খায় ঠিক কঠিন সাহসের সাথেও শতশত ভাত শালিক একটু খাবারের জন্য মানুষের কাছে ছুটে আসছে।

হলুদ রাঙ্গা ঠোটের পাখি গুলোকে ছেড়ে যেতে খুব কষ্ট হচ্ছিল। এদিকে গাড়ির সুপারভাইজারের ডাক পড়েছে। যেতে হবে। ভালোবাসার এই পাখি গুলোকে ছেলে গাড়িতে উঠলাম,ওদের ভালোবাসায় আমিও যে সিক্ত হয়ে গেলাম.....

লেখক এম এ মোমেন খান
সমাজবিজ্ঞান বিভাগ,দিনাজপুর সরকারি কলেজ,দিনাজপুর।

সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই আগস্ট, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৩৫
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পূর্বপুরুষের অপরাধের দায় বর্তমান জেনারেশনকে দেওয়া অন্যায়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা জুন, ২০২৬ রাত ১০:৪৩

"দোস্ত, ওরা আমাকে এক পাকিস্তানীর সাথে বন্ধুত্ব করতে বলছে যে কিনা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে উলাটা-পাল্টা কথা বলেছে। আমি সেই বক্তব্যের প্রতিবাদ করে রুম থেকে বের হয়ে এসেছি।" রাতেরবেলা দেখা হলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ ও আত্মহত্যা (তথ্য এআই দ্বারা যাচাইকৃত)

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ০৩ রা জুন, ২০২৬ রাত ১২:১৯

গত ১ বছরে বাংলাদেশে আত্মহত্যার সংখ্যা প্রায় ১৫,০০০ জনের মতো। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ৪০–৪১ জন মানুষ আত্মহত্যা করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় সামান্য বেশি।

বাংলাদেশে আত্মহত্যার সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান (২০২৫–২০২৬):
**মোট আত্মহত্যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভবিষ্যত স্বপ্ন।

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা জুন, ২০২৬ রাত ১২:৪৭

পাঁচ বছর আগে এই গানটা লিখেছিলাম। আজ গানে 'পরিবর্তন' করলাম।
ঝগড়া করতে চাওয়া সব মানুষদের উৎসর্গ করছি। ;)



ভবিষ্যত সম্পূর্ণ একটা স্বপ্ন
যেখানে তুমি আমি বাধাহীন
আজকের দিনটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনে কিছু করা বলতে আসলে "প্রচুরস" টাকা কামানো বলে!

লিখেছেন ঋণাত্মক শূণ্য, ০৩ রা জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৫৯

স্কুলে যখন ছিলাম, তখন "প্রচুরস" শব্দটা আমরাই তৈরী করি। প্রচুর দিয়েও যখন যথেষ্ট বোঝানো যায় না, তখন "প্রচুরস" ব্যবহার করা হয়, প্রচুরের প্লুরাল আর কি।



আমার আব্বার বইয়ের দোকান ছিলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পতনের অপেক্ষায়...

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৩ রা জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৪০


(ছবিটার পুওর কোয়ালিটির জন্য দুঃখিত। নিজের তোলা এর চেয়ে ভালো কোন ছবি পেলে পরে এটা রিপ্লেস করে দিব)

আমরা এখন...
পাকাফল হয়ে হয়ে ঝুলে আছি,
ভূমিপানে নতমুখে,
পতনের অপেক্ষায়....... ...বাকিটুকু পড়ুন

×