somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নদীর মোহনা
গল্প শুনতে ভালবাসি। ভাল না লাগলে দূরে কোথাও হারিয়ে যাই। নদীর মোহনা যুক্ত হয়েছে ব্লগে। এবার ইচ্ছে মত জমিয়ে আড্ডা হবে।আমাকে খুজে যাওয়ার জন্য ধন্যবাদ। ভাল থাকবেন, নিরন্তন কামনা।

একটি অসমাপ্ত কবিতা

২১ শে জুন, ২০১৭ বিকাল ৪:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সকালে মিষ্টি রোদে ঘুমটা ভেঙে মনটা কেমন ভিষন্ন হয়ে উঠে। অদৃশ্য ধোয়াটে ভাবনা গুলো দোল খেতে থাকে মনের ভিতর। চায়ের কাপটায় চুমুক দিয়ে একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাষ ফেলি। বিষন্নতা আর হতাশার এই দীর্ঘ নিঃশ্বাষ হালকা করতে পারে না বোকের ভিতর গভীর ভাবে জমে থাকা বহু দিনের অবসাদকে। আনমনা হয়ে খেতে থাকি সকালের নাস্তা। চায়ের কাপে ভিজিয়ে রাখা বিস্কিটটা হয়তো এক সময় গলে পড়ে যায় সেদিকে লক্ষ রাখা হয়নি। তারপর হয়তো পকেট থেকে লাইটার বের করে একটা সিগারেট ধরাই। নিকোটিনে তিব্র গন্ধ সাময়িক সময়ের জন্য হলেও চিকিৎসিত করে তুলে। ভিষন্নতা খুজে পাইনা তখন। একসময় হয়তো কলম ধরি তোমার জন্য একটি কবিতা লিখব বলে। কিন্তু কলমে কালি শেষ হয়ে যায়, তারপরো একটা ভাল কবিতা লিখা হয়ে উঠে না তোমার জন্য।

গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকি একটি কবিতা লিখব বলে। চিন্তা করি, উত্তাল সাগর কেমন করে ঢেউ তুলে সমুদ্রকে তার ভালবাসায় আচ্ছাদিত করে রেখে চলছে। তোমাকে ঢেউ ভেবে লিখে ফেলি একটা কবিতা। কিন্তু তা আর ভাল কবিতা হয়ে উঠে না। আমার ঢেউ গুলি সাগরের ঢেউয়ের মত গর্জন করতে পারে না। কেমন নির্জিব হয়ে যায় প্রশান্ত তীর গুলো। ছিড়ে ফেলি সেটা। পৃষ্টার পর পৃষ্টা ছিড়ে ফেলা কবিতা ডাষ্টবিনের ঝুড়ি ভরে যায়, ডজন ডজন কলমের কালি শেষ হয়ে যায়, তবুও একটা ভাল কবিতা লিখা হয়ে উঠে না তোমার জন্য।
আমি তো ঘাসফুল নিয়ে অনেক ভেবেছি। ধবধবে ফোটে থাকা হাসনা-হেনাকে নিয়ে কত ভেবেছি। সুগন্ধি গোলাপ ফুলের দিকে তাকিয়ে কত দিন ঠায় দাঁড়িয়ে রয়েছি। ভ্রমর গুলোকে দেখেছি কিভাবে ভালবাসা দিয়ে মধু আহরন করতে। কোয়াশা ভেজা শীতের সকালে খালি পায়ে কত হেটেছি শুধু একটা কবিতা লিখব বলে। ঝুম বৃষ্টিতে ছাদে রেলিং ধরে কত দিন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভিজেছি। কত রোমাঞ্চকর কল্পনা করেছি তোমাকে নিয়ে। একা একা কত পুর্নিমার রাত্র কাটিয়ে দিয়েছি চাদের দিকে তাকিয়ে। চাদের দিকে তাকিয়ে হয়তো অনেক মহা কবি ভালবাসার অনেক কবিতা লিখে গেছে। কিন্তু আমি দু'টি লাইনও লিখতে পারছি না তোমার জন্য।

আমাদে সম্পর্কটা তো ধোয়াটে। কত দুরত্বে আমরা দুজন দাঁড়িয়ে আছি। কখনো হয়তো আমাদে দেখা হয় না, বা হয়তো কখনো খুব কাছে আসি কিন্তু কথা হয়না আমাদের। হয়তো কখনো দূর থেকে তোমার খিলখিল হাসি শুনে যাই। এত দুরত্বে থাকলে কি একটা ভাল কবিতা লিখা যায়!
কত রাত ধরে ভাল ঘুম হচ্ছে না। বিছানার মধ্যে ছটফট করে কাটিয়ে দিচ্ছি দিন গুলো। কত কবির কবিতা পড়েছি। শুনেছি কত প্রেমিকে ভালবাসার কথা। কিন্তু কোন কিছুই আমার হাতকে শক্তিশালি করতে পারছে না। তাহলে কি আমি ব্যার্থ হয়ে যাব! নাহ, একটা কবিতা লিখতে না পারার বেদনা তো আমি সইতে পারব না।
হয়তো আজও লিখা হয়ে উঠবে না একটা কবিতা। হয়তো আর কোনদিন হবে না। শরির কেমন ঝিম ঝিম করছে। অন্ধকার আমাকে গ্রাস করে ফেলেছে। পৃথিবী আমাকে বিদায় জানাচ্ছে। সল্প সময় তাড়া দিচ্ছে আমাকে। কলমের কালি শেষ হয়ে যাচ্ছে, বাজারে কোনো কলম নেই। খাতার পৃষ্টা শেষ হয়ে যাচ্ছে, বাজারে কোনো খাতা নেই। সিগারেটের প্যাকেটটা খালি হয়ে গেছে। বিদায় বেলা লিখে গেলাম দু'টি লাইন। অসাপ্তত কবিতা। জানি কোনদিনও কেউ পড়তে আসবে না এই লাইন গুলো। তারপরো বেচে থাক আমার অসমাপ্ত কবিতাটি-
জোৎস্না মাখা কোন এক রাতে
বা কোন এক শুন্য গ্রহে
যেখানে নেই কেউ,
হাতটা যদি ধরি তোমার।
তুমি কি হেসে দিবে।
যদি বলি ভালবাসি তোমায়,
তুমি কি রাগ করবে।
তুমি কি অবাক হবে,
যদি বলি মরতে পারি তোমার জন্য।

সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জুন, ২০১৭ বিকাল ৪:৫৪
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শরীফ থেকে শরীফা ইস্যু কেন চাঙা হচ্ছে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:১৭


দেশে ট্রান্সজেন্ডার ও সমকামী ইস্যু নিয়ে জল ঘোলা হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমকামী ইস্যুতে একের পর এক বহিষ্কারের ঘটনার মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে দুই... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্প - অভাগীর সুর ব্যঞ্জনা – পর্ব ১ -

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:০৮


শহরটা রাতে কখনও পুরো ঘুমোয় না। কেউ প্রেমে জাগে, কেউ স্বপ্নে, কেউ অপরাধবোধে।আর কেউ কেউ জেগে থাকে অভাবে। তিনতলার ছোট্ট ভাড়া-বাড়িটির জানালার পাশে বসে শিরীন হারমোনিয়ামের রিডে আঙুল রাখল।

বাইরে তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

জন্মদিনে তাহাদের জন্য শুভকামনা। আমার জন্মদিনের স্মৃতি...

লিখেছেন করুণাধারা, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৫৬



একেকটা জন্মদিন পার করা মানে জীবন বইয়ের একেকটা পৃষ্ঠা পড়ে ফেলা, কয়েক বছর পরপর সেই বইয়ের একেক অধ্যায় শেষ হয়! বইটা ট্রাজেডি না কমেডি, একেবারে শেষ পর্যন্ত না পৌঁছালে তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

চুপ - একদম চুপ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭



আমরা শুধু চুপ থাকবো -
আমাদের কথা বলার মুখ নেই
আমাদের দেখার মতো চোখ নেই
আমাদের শোনার মতো কান নেই
মনে হয়, মনে হয় -
আমাদের হাত-পাও নেই।

আমাদের বিবেক নেই
আমাদের চিন্তা-চেতনাও নেই
আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০২





হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

...................................................................
মানচিত্রের আঁকাবাঁকা রেখায় তারে পাবেনা,
সে নদী তো চেনা কোনো ঠিকানায় যাবে না।
তার কোনো কূল নেই, নেই কোনো ঘাট,
সে বয়ে চলে একা, বুক জুড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×