somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জনসংখ্যানীতি ২০১২, এক সন্তানকে গুরুত্ব দেওয়ার অবস্থান থেকে সরে আসছে সরকার

০৭ ই অক্টোবর, ২০১২ সকাল ১১:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের কৌশল হিসেবে এক সন্তানকে গুরুত্ব দেওয়ার অবস্থান থেকে সরে এসেছে সরকার। মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাওয়া জনসংখ্যানীতিতে এ সম্পর্কে কোনো কথা নেই। খসড়া নীতিতে এক সন্তানের দম্পতিকে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নীতিতে জনসংখ্যাকে উন্নয়নের বিষয় হিসেবে দেখা হয়েছে। জনসংখ্যা কমানোর জন্য সরকার কোনো কিছু চাপিয়ে দিতে চায় না। এক সন্তানকে গুরুত্ব দেওয়ার মধ্যে চাপিয়ে দেওয়ার প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত ছিল।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিসভা ‘বাংলাদেশ জনসংখ্যানীতি ২০১২’ অনুমোদন করে। এটাই এখন বাংলাদেশের জনসংখ্যানীতি হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে এবং তা বাস্তবায়ন করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক এ-সংক্রান্ত বিলটি তুলবেন।
আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে জনসংখ্যানীতি যুগোপযোগী করার কথা বলা হয়েছিল। বর্তমান সরকার ২০০৯ সালের ২৮ জানুয়ারি পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে সভাপতি করে ২০০৪ সালের জনসংখ্যানীতি যুগোপযোগী করতে ১৭ সদস্যের কমিটি করে। এরপর সাত সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি একটি খসড়া তৈরি করে। জনসংখ্যানীতি বাস্তবায়নের কৌশল হিসেবে খসড়ায় বলা ছিল, ‘পরিকল্পিত পরিবার গ্রহণের জন্য এক সন্তানের দম্পতিকে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার প্রদানের ব্যবস্থা করা।’ সূত্র বলছে, চাকরি, পদোন্নতি, বৃত্তি এ রকম আরও অনেক ক্ষেত্রে সুযোগ দিলে মানুষ এক সন্তানের প্রতি বেশি আগ্রহী হবে এই বিবেচনা থেকেই বিষয়টি রাখা হয়েছিল।
খসড়া চূড়ান্ত হওয়ার কোন পর্যায়ে এসে এক সন্তানের বিষয়টি বাদ পড়েছে, তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা) রীনা পারভীন বলেন, ২০০৯ সালের পর থেকে খসড়ায় অনেক পরিবর্তন হয়েছে। কোন পর্যায়ে এটা বাদ গেছে, তা এখন বলা মুশকিল।
বিশেষজ্ঞ কমিটির সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক এ কে এম নূর-উন-নবী প্রথম আলোকে বলেন, ‘জনসংখ্যানীতিতে ওই লাইনটি থাকা উচিত ছিল।’
কেন বাদ পড়ল: খসড়া তৈরির কাজ যখন চলছিল, তখন সরকার জাতীয় জনসংখ্যা পরিষদ পুনর্গঠন করে। এটাই এ বিষয়ে দেশের সর্বোচ্চ পরিষদ। প্রধানমন্ত্রী এই পরিষদের সভাপতি। ২০১০ সালের ২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত পুনর্গঠিত জাতীয় জনসংখ্যা পরিষদের প্রথম সভায় জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং সম্পদের উত্তরাধিকারের আইনের বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখার কথা বলা হয়। সভার কার্যবিবরণীতে তা লেখা আছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এক সন্তানের নীতি থেকে সরে আসার মূল কারণ সম্পদের উত্তরাধিকার আইন। একমাত্র সন্তান কন্যা হলে সম্পত্তি অন্যের অধিকারে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করেন অনেকে।
এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ কমিটির সদস্য ও এনজেন্ডারহেলথের দেশীয় প্রতিনিধি আবু জামিল ফয়সাল প্রথম আলোকে বলেন, নীতিতে মানুষকে তথ্য দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সন্তানের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে মানুষ। সরকার কোনো কিছু চাপিয়ে দিতে চায় না। এই বিবেচনা থেকেই এক সন্তানের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি বাদ পড়েছে।
খসড়া নীতি অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে দিয়ে মানুষের মতামত চাওয়া হয়। পাশাপাশি বরিশাল, খুলনা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেট বিভাগে নীতির ওপর কর্মশালা হয়। এসবের ভিত্তিতে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর যাচাইবাছাই করার পর চূড়ান্ত খসড়া মন্ত্রণালয়ে পাঠায়।
উল্লেখযোগ্য দিক: মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হওয়া জনসংখ্যানীতিতে সাতটি অধ্যায়। ভূমিকার পর দ্বিতীয় অধ্যায়ে জনসংখ্যানীতি যুগোপযোগী করার যৌক্তিকতা বর্ণনা করা হয়েছে। পরের অধ্যায়টি একেবারে নতুন, খসড়াতে এটা ছিল না। এটি রূপকল্প। এখানে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের জনসংখ্যাকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সুস্থ, সুখী ও সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ গড়ে তোলা।’
জনসংখ্যানীতির উদ্দেশে বলা হয়েছে, পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতির ব্যবহারের হার ৭২ শতাংশে উন্নীত করে মোট প্রজননহার (টোটাল ফার্টিরিটি রেট-টিএফআর) ২ দশমিক ১-এ কমিয়ে আনা এবং ২০১৫ সালের মধ্যে নিট প্রজননহার ১ (এনএনআর=১) অর্জন করা। নীতিতে বলা হচ্ছে, নির্দিষ্ট সময়ে এই অর্জন সম্ভব হলে ২০৫০ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ২২ কোটিতে দাঁড়াবে এবং ২০৭০ সালে ২৩-২৫ কোটিতে গিয়ে স্থির হবে।
পঞ্চম অধ্যায়ে জনসংখ্যানীতি বাস্তবায়নের জন্য ৭০টির বেশি কৌশলের বর্ণনা করা হয়েছে। এই অংশ থেকে এক সন্তানের দম্পতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে কৌশল হিসেবে ‘দুটি সন্তানের বেশি নয়, একটি হলে ভালো হয়’—এ স্লোগান জনপ্রিয় ও প্রতিষ্ঠিত করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। ষষ্ঠ অধ্যায়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বেসরকারি ও ব্যক্তি খাতের ভূমিকা এবং শেষ অধ্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর বর্ণনা আছে।
ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য এবং একাধিক আন্তর্জাতিক দলিল ও নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করার কথা জনসংখ্যানীতিতে বলা হয়েছে।
২৫ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব: নীতিতে জনসংখ্যা কার্যক্রমে ২৫টি মন্ত্রণালয়ের ভূমিকার কথা বলা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বিশেষজ্ঞ বলেন, এতগুলো মন্ত্রণালয় নীতি বাস্তবায়নে কীভাবে ভূমিকা রাখবে, তার সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। নীতিতে কাজের সমন্বয় ও সম্পদ বরাদ্দেরও একটা দিকনির্দেশনা থাকা দরকার ছিল। (কপি করা...)
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই অক্টোবর, ২০১২ সকাল ১১:৫১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যে শহরে বৃষ্টি নেই

লিখেছেন রিয়াজ দ্বীন নূর, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:৩০



শহরটা নিচে। অনেক নিচে। রিকশার টুংটাং, বাসের হর্ন, কারো হাসির শব্দ, কারো ঝগড়ার শব্দ — সব মিলিয়ে একটা জীবন্ত শহর। কিন্তু রিয়াজের কাছে এই সব শব্দ এখন অনেক দূরের।... ...বাকিটুকু পড়ুন

Dual Currency Card Needed for Meta Monetization. Urgent National Interest.

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:৪৬

ছবি

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে আছি প্রায় চল্লিশ মিনিট। এক জায়গায় এতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে সাধারণত দুই ধরনের সন্দেহ হয়- এক, লোকটা কিছু করতে এসেছে। দুই, লোকটার করার কিছু নেই। আমি কোনোটাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

’দেশ বিক্রির অভিযোগ, কাঠগড়ায় ইউনূস–জামাত–বিএনপি–এনসিপি”

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:১৩

’দেশ বিক্রির অভিযোগ, কাঠগড়ায় ইউনূস–জামাত–বিএনপি–এনসিপি”
==========================================
চুক্তি মানেই তো স্বার্থের ভারসাম্য। কিন্তু সেই ভারসাম্য যখন দেশের স্বার্থকে উপেক্ষা করে, তখন সেটি আর চুক্তি থাকে না প্রশ্নবিদ্ধ সমঝোতায় পরিণত হয়। ইউনূসের শেষ সময়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুপ্তদের সকল অপকর্মের তদন্ত হোক....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:৪৮


সময় যত যাচ্ছে, ততই বেরিয়ে আসছে অস্বস্তিকর সত্য!
সময় গড়িয়ে যাচ্ছে- আর অতীতের অনেক ঘটনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ, সাক্ষ্য ও তথ্য সামনে আসছে-
যেখানে দেখা যাচ্ছে, আওয়ামী... ...বাকিটুকু পড়ুন

হযরত ইব্রাহীমের (আ.) কুরাইশ আহলে বাইতের মধ্যে হযরত আলীর (রা.) মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্বের সময় সবচেয়ে কম

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৫৯



সূরাঃ ২ বাকারা, ১২৪ নং আয়াতের অনুবাদ-
১২৪। আর যখন তোমার প্রতিপালক ইব্রাহীমকে কয়েকটি বাক্য (কালিমাত) দ্বারা পরীক্ষা করেছিলেন, পরে সে তা পূর্ণ করেছিল; তিনি বললেন নিশ্চয়ই আমি তোমাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×