গাজা নিয়ে আমাদের মধ্যে বিশেষ অনুভূতির নাম হলো—এরা গাজাখোর। ব্যাপারটা এমন যেন বিশেষ কোনো শ্রেণি। না, আমি গাজা নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছি না। কিন্তু গাজা নিয়ে আমাদের দেশে যেভাবে আলোচনা, জেল-জরিমানা হয়—সেটা নিছক বাড়াবাড়ি।
গত কয়েকদিন আগের কিছু সংবাদের প্রেক্ষিতে প্রশ্ন আসে—আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই উচ্চপদস্থ সদস্যদের ঘণ্টাপ্রতি শ্রমের মূল্য কত? আমি নিশ্চিত, সেটা বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির কর্মজীবীদের সমান হবে। যদি তাই হয়ে থাকে, তবে তারা তাদের কর্মক্ষেত্রের দেয়ালের ঠিক বাইরের একটি জায়গায় এমন ঘটা করে অভিযান চালালেন কেন? চালাতেই পারেন। গাজা সেবন আওয়ামী লীগের মতোই নিষিদ্ধ। তাই সেবন করা যাবে না। কিন্তু তা ধরার জন্য দেশের সম্পদের কত অংশ ব্যবহৃত হবে, তার খতিয়ান কে নেবে বা দেবে?
এ দেশে ঘুষ, চাঁদা লিগ্যাল; শারীরিক প্রেম অসামাজিক; চুমু খাওয়া হারাম; গাজা খাওয়া বেআইনি—কিন্তু রাস্তায় হাগামুতা লিগ্যাল। জনসম্মুখে সিগারেট খাওয়াও তো দণ্ডনীয় অপরাধ, কিন্তু ধরছে কেউ?
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় আজিজ সুপার মার্কেটের এক আড্ডায় যাওয়া হতো। সেখানে প্রথিতযশা অনেকেই আসতেন। আমার আম্মা যেদিন জানতে পারলেন যে আমি আজিজে যাই—সেকি বিলাপ! আমি গাজাখোর হয়ে গেছি। ওই মার্কেটে যারা যায়, তারা সবাই গাজা খায়। আম্মাকে আমি বিশ্বাসই করাতে পারলাম না—আমি যেখানে পড়ি, যেখানে শতকরা ৪০ জনের স্ট্যান্ড আছে, সেখানে এর চেয়ে বেশি গাজা খাওয়া হয়। আমার আম্মা কোনো দিন বিশ্বাস করেন না যে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারদের অনেকে ছাত্রাবস্থায় বেহিসেবি গাজা খায়।
না, আমি খেতে পারি না, কারণ আমার শরীর নিতে পারে না। ট্রাই করেছি।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
.jpg)


