somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জিয়া ও খালেদাকে নিয়ে বিষোদগার করা চুপ্পু হঠাৎ কেন তারেকের প্রশংসায় গদগদ, তারেকে মুগ্ধ!

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


২৩ ফেব্রুয়ারি দৈনিক কালের কণ্ঠে “চমকানো তথ্য দিলেন রাষ্ট্রপতি” পরে ২৪ ফেব্র্রুয়ারি “রাষ্ট্রপতির আরো বিস্ফোরক তথ্য” শিরোনামে সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়। এখানেও তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জিয়া পরিবারের ভূয়সী প্রশংসা করেন। প্রশংসা করতে গিয়ে তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তাঁকে অপসারণের নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিএনপি ও তাদের জোট সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় তাঁর পাশে ছিল।

তিনি আরও বলেন, “ওই কঠিন সময়েও বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব আমার পাশে ছিলেন। তাঁরা তখনো সংবিধানের ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখার বিষয়টি আমার কাছে স্পষ্ট ভাষায় ব্যক্ত করেছেন। বিশেষ করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ঘিরে আমার মনের মধ্যে অনেক কৌতূহল জমা ছিল।”

তারেক রহমানের ব্যাপারে মুগ্ধতা প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমার তো খুব অল্প সময় তাঁকে দেখা। টুকটাক কিছু কথা হয়েছে। দেখলাম যে রাষ্ট্রনায়কোচিত গুণাবলি উনার মধ্যে আছে। এটা নির্দ্বিধায় বলা যায়। একটা কথা আছে, মর্নিং শোজ দ্য ডে। এই কয় দিনের যে কার্যক্রম, তাতে আশাবাদী হওয়া যায়, বিশেষ করে উনার শরীরে মুক্তিযোদ্ধার রক্ত বইছে। তাই দেশের ভালো করবেন তিনি, এই বিশ্বাস রাখি। তাঁর বাবা ছিলেন রাষ্ট্রপতি, মা ছিলেন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী। আমি বিশ্বাস করি না যে আমরা কোনো নতুন দুর্যোগে পড়ব। তিনি যেন আলোকবর্তিকা হাতে নিয়ে সামনে এগিয়ে যান, এটাই আমার কামনা।”

চুপ্পু নামা।
এই চুপ্পুই ২০২৪ সালের ১৮ মে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির জাতীয় সম্মেলনে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, “বঙ্গবন্ধু সরকার একাত্তরের গণহত্যাকারী মানবতাবিরোধী অপরাধী ও যুদ্ধ অপরাধীদের বিচার শুরু করেছিলেন কিন্তু ৭৫ এর পর অবৈধ সামরিক সরকার এই বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিয়েছিল। একসময় জিয়া জিয়ার হাত ধরে এরশাদ, জিয়াউর রহমানের হাত ধরে তার বেগম, বেগম জিয়া এদের সময় মহান মুক্তি যুদ্ধের চেতনা তছনছ হয়েছে এবং সংবিধানকে একটি সাম্প্রদায়িক সংবিধানে তারা পরিণত করেছিল।” এ বক্তব্যে মাধ্যমে তিনি বিএনপি নেতৃত্বের শাসনকালকে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী হিসেবে তুলে ধরেন।

এই চুপ্পুই ২০১১ সালের ১৪ মার্চ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত দুদকের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করে দুদক। অন্যদিকে ২০১৫ সালের ফ্রেবুয়ারিতে বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার সংশ্লিষ্ট তিনটি দুর্নীতির মামলা থেকে শেখ হাসিনাকে অব্যাহতি দিয়েছেন।

এই চুপ্পুই তারেকের শাশুড়ি সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুর বিরুদ্ধে সম্পদের হিসাব না দেওয়ার মামলার অনুমোদন দেয় যদিও মামলা স্থগিতে আবেদন করেন তারেকের শাশুড়ি।

হাসিনার প্রতি সীমাছাড়া তোষামোদী নামা।
১৬ এপ্রিল ২০২৩ এ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর প্রথম বই এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ এর হস্তান্তুর অনুষ্ঠানে এক বক্তব্যে তিনি বলেন, বিচার বিভাগে কর্মরত অবস্থায় এক অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন তিনি রাজনীতি করতেন কি না। জবাবে তিনি বলেন, “জ্বী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমি ছাত্রলীগ করতাম।” তিনি আরও দাবি করেন, পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রতি “দয়ার সাগর হাত বাড়িয়ে দেন।”

একই বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, গত তিন মাস ধরে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সালাম নিতেন না। পরে তিনি বুঝতে পারেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর নাম বিবেচনায় থাকায় প্রধানমন্ত্রী বিব্রতবোধ করছিলেন। ওই বক্তব্যে তিনি বলেন, “গত তিন মাস ধরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সালাম করতে গেলে উনি আমার সালাম নিতেন না। তা আমি দেখতাম যে উনার চরণের ধুলো আমি পাই না। আমার মিশ্র প্রতিক্রিয়া হচ্ছিল যে উনি কেন আমার সালাম নেন না। "না থাক থাক" বলে…”

তিনি আরো বলেন, “কিন্তু সেই সময়ে যে উনার মনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি হিসেবে আমার নাম গ্রথিত হয়ে গেছে এবং সেজন্যই যে উনি আমার সালাম নেওয়াটা বিব্রতকর মনে করতেন, এটা তো পরে বুঝলাম। আগে তো বুঝতাম উনি আমার ওপর বিরক্ত।”

জিয়া ও খালেদাকে নিয়ে বিষোদগার করা সেই চুপ্পুই আজ তারেকের প্রশংসায় গদগদ, তারেকে মুগ্ধ! এখন তিনি কোন ফন্দি আঁটছেন?
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:১৪
৫টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হযরত আলী (রা.) ও হযরত মুয়াবিয়ার (রা.) যুদ্ধে আল্লাহ হযরত মুয়াবিয়ার (রা.) পক্ষে ছিলেন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:০৬



সূরাঃ ৫ মায়িদা, ৬৭ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৭। হে রাসূল! তোমার রবের নিকট থেকে তোমার প্রতি যা নাযিল হয়েছে তা’ প্রচার কর। যদি না কর তবে তো তুমি তাঁর রেসালাত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভুলে যেও

লিখেছেন জিনাত নাজিয়া, ১৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:০১

" ভুলে যেও "

একটু একটু করে চলে যাচ্ছি গভীর অতলে,
ধীরে সুস্থে হাটি হাটি পা পা করে এগিয়ে যাচ্ছি
অনন্তকালের ঘরে।
যেখানে থাকতে হবে একাকি
নি:স্বীম আঁধারে।

ভালো থেক ফুল,পাখি, লতাপাতা,
ভালো থেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ আকাশ বলতে কিছু নেই

লিখেছেন সালমান মাহফুজ, ১৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪২

অনেক হয়েছে । আর না ।
সেই পরশু রাত থেকে । এক-দুই-পাঁচ-দশবার নয় । তিরাশিবার ! হ্যাঁ, তিরাশিবার ঈশিতার নাম্বারে ডায়াল করেও কোনো রেসপন্স পায় নি অলক ।
ওপাশ থেকে একটা নারীকণ্ঠ... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতিভুক বৈশাখী মেলা আর হালখাতা....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪১

স্মৃতিভুক বৈশাখী মেলা আর হালখাতা....

সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বাঙালীর পহেলা বৈশাখ উদযাপন করার রীতিও বদলে গিয়েছে। অনেক ঐতিহ্য কালের গর্বে বিলীন হয়ে যাচ্ছে, আবার যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন রীতি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ নাবিকের মনের নোঙর

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:২২

ছুটি শেষে যে নাবিক গৃহত্যাগ করে
ফিরে চলে পোতাশ্রয়ে নোঙর করা
তার জাহাজ পানে, জিজ্ঞেস করোনা
তাকে কখনো তার গন্তব্যের কথা।

তার মনে গেঁথে থাকে ফেলে আসা
প্রিয়জনের কান্নাভেজা মুখ আর চোখ,
বাংলার শ্যামল প্রান্তরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×