
২৩ ফেব্রুয়ারি দৈনিক কালের কণ্ঠে “চমকানো তথ্য দিলেন রাষ্ট্রপতি” পরে ২৪ ফেব্র্রুয়ারি “রাষ্ট্রপতির আরো বিস্ফোরক তথ্য” শিরোনামে সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়। এখানেও তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জিয়া পরিবারের ভূয়সী প্রশংসা করেন। প্রশংসা করতে গিয়ে তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তাঁকে অপসারণের নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিএনপি ও তাদের জোট সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় তাঁর পাশে ছিল।
তিনি আরও বলেন, “ওই কঠিন সময়েও বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব আমার পাশে ছিলেন। তাঁরা তখনো সংবিধানের ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখার বিষয়টি আমার কাছে স্পষ্ট ভাষায় ব্যক্ত করেছেন। বিশেষ করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ঘিরে আমার মনের মধ্যে অনেক কৌতূহল জমা ছিল।”
তারেক রহমানের ব্যাপারে মুগ্ধতা প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমার তো খুব অল্প সময় তাঁকে দেখা। টুকটাক কিছু কথা হয়েছে। দেখলাম যে রাষ্ট্রনায়কোচিত গুণাবলি উনার মধ্যে আছে। এটা নির্দ্বিধায় বলা যায়। একটা কথা আছে, মর্নিং শোজ দ্য ডে। এই কয় দিনের যে কার্যক্রম, তাতে আশাবাদী হওয়া যায়, বিশেষ করে উনার শরীরে মুক্তিযোদ্ধার রক্ত বইছে। তাই দেশের ভালো করবেন তিনি, এই বিশ্বাস রাখি। তাঁর বাবা ছিলেন রাষ্ট্রপতি, মা ছিলেন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী। আমি বিশ্বাস করি না যে আমরা কোনো নতুন দুর্যোগে পড়ব। তিনি যেন আলোকবর্তিকা হাতে নিয়ে সামনে এগিয়ে যান, এটাই আমার কামনা।”
চুপ্পু নামা।
এই চুপ্পুই ২০২৪ সালের ১৮ মে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির জাতীয় সম্মেলনে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, “বঙ্গবন্ধু সরকার একাত্তরের গণহত্যাকারী মানবতাবিরোধী অপরাধী ও যুদ্ধ অপরাধীদের বিচার শুরু করেছিলেন কিন্তু ৭৫ এর পর অবৈধ সামরিক সরকার এই বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিয়েছিল। একসময় জিয়া জিয়ার হাত ধরে এরশাদ, জিয়াউর রহমানের হাত ধরে তার বেগম, বেগম জিয়া এদের সময় মহান মুক্তি যুদ্ধের চেতনা তছনছ হয়েছে এবং সংবিধানকে একটি সাম্প্রদায়িক সংবিধানে তারা পরিণত করেছিল।” এ বক্তব্যে মাধ্যমে তিনি বিএনপি নেতৃত্বের শাসনকালকে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী হিসেবে তুলে ধরেন।
এই চুপ্পুই ২০১১ সালের ১৪ মার্চ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত দুদকের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করে দুদক। অন্যদিকে ২০১৫ সালের ফ্রেবুয়ারিতে বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার সংশ্লিষ্ট তিনটি দুর্নীতির মামলা থেকে শেখ হাসিনাকে অব্যাহতি দিয়েছেন।
এই চুপ্পুই তারেকের শাশুড়ি সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুর বিরুদ্ধে সম্পদের হিসাব না দেওয়ার মামলার অনুমোদন দেয় যদিও মামলা স্থগিতে আবেদন করেন তারেকের শাশুড়ি।
হাসিনার প্রতি সীমাছাড়া তোষামোদী নামা।
১৬ এপ্রিল ২০২৩ এ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর প্রথম বই এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ এর হস্তান্তুর অনুষ্ঠানে এক বক্তব্যে তিনি বলেন, বিচার বিভাগে কর্মরত অবস্থায় এক অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন তিনি রাজনীতি করতেন কি না। জবাবে তিনি বলেন, “জ্বী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমি ছাত্রলীগ করতাম।” তিনি আরও দাবি করেন, পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রতি “দয়ার সাগর হাত বাড়িয়ে দেন।”
একই বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, গত তিন মাস ধরে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সালাম নিতেন না। পরে তিনি বুঝতে পারেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর নাম বিবেচনায় থাকায় প্রধানমন্ত্রী বিব্রতবোধ করছিলেন। ওই বক্তব্যে তিনি বলেন, “গত তিন মাস ধরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সালাম করতে গেলে উনি আমার সালাম নিতেন না। তা আমি দেখতাম যে উনার চরণের ধুলো আমি পাই না। আমার মিশ্র প্রতিক্রিয়া হচ্ছিল যে উনি কেন আমার সালাম নেন না। "না থাক থাক" বলে…”
তিনি আরো বলেন, “কিন্তু সেই সময়ে যে উনার মনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি হিসেবে আমার নাম গ্রথিত হয়ে গেছে এবং সেজন্যই যে উনি আমার সালাম নেওয়াটা বিব্রতকর মনে করতেন, এটা তো পরে বুঝলাম। আগে তো বুঝতাম উনি আমার ওপর বিরক্ত।”
জিয়া ও খালেদাকে নিয়ে বিষোদগার করা সেই চুপ্পুই আজ তারেকের প্রশংসায় গদগদ, তারেকে মুগ্ধ! এখন তিনি কোন ফন্দি আঁটছেন?
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
.jpg)

