
অধিক সন্ন্যাসে গাঁজন নষ্ট একটা কথা আছে এটা সবাই জানেন কিন্তু বোঝেন কিনা জানিনা।কেন বললাম ব্যাখ্যা করছি।
ক্রিকেট এখন আমাদের সবচাইতে উপভোগ্য খেলা। আমরা যেভাবে ক্রিকেট আর ক্রিকেটারদের ভালবাসি তা আর কোন জাতি করে কিনা জানি না।যখন কোন নতুন কোন প্রতিভা দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আলোর মশাল নিয়ে আর একবুক আশা নিয়ে এগিয়ে যায় আমরা তাকে সর্বোচ্চ সমর্থন দেই। যারা শুরু তেই আমাদের মুগ্ধ করে দিতে পারে বা আমাদের আশার আলো দেখায় তাদের আমরা কিভাবে ক্ষতি করছি একবার ভেবে দেখেছেন??
মনে আছে আমাদের জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়ার সোহাগ গাজীর কথা??সে কি করেছে তা হয়ত সবার মনে নাই। আরেকবার মনে করিয়ে দিচ্ছি। সোহাগ গাজী একই টেস্টে সেঞ্চুরি ও হ্যাট্রিক করেছিল যা পৃথিবীর আর কোন ক্রিকেটার করতে পারে নি। তার প্রতিভায় বিস্মিত পুরো বিশ্ব। আমরাও আনন্দিত হয়েছিলাম। কিন্তু মিডিয়া মনেহয় একটু বেশি ই আনন্দিত হয়েছিল।সোহাগ গাজীকে অতি মানব বানিয়ে দেওয়া হল। অনেক তাকে উজ্জ্বল তারা ও ভাবা শুরু করেছিল।
প্রশ্ন হল সোহাগ গাজী কোথায়?কোথায় তার দ্যুতি?
এবার আসি আরেক তারা আবুল হাসান রাজুর কাছে । আবুল হাসান রাজু অভিষেক টেস্টে ১০ নাম্বারে ব্যাট করে সেঞ্চুরি করেন যা ক্রিকেট ইতিহাসে একজন ই করতে পেরেছিলেন ১৯০২ সালে রেগি ডাফ। আবুল হাসান রাজু সে রেকর্ড ভেঙে দেন। মিডিয়া তাদের খোরাক পেয়ে গেল। শুরু হল নাচানাচি। তাকে পশ্চিম আকাশের শুকতারা বানিয়ে দেওয়া হল।তারপর কি হল -সে হারিয়ে গেল। তাকে আর জাতীয় দলে দেখা যায় নি ।
প্রত্যেকটা মানুষের ই পরিণত হতে সময় লাগে। সেই সময় টুকু সোহাগ গাজী বা আবুল হাসান কেউ ই পাননি।তাদের কে আমরা দেইনি।
যার জন্য আমার এত প্যাচাল তার কথায় আসি। মুস্তাফিজুর রহমান। বাংলার বিস্ময় বালক। যদি আমরা তাঁকে পরিণত প্রফেশনাল ক্রিকেটার হওয়ার পরিবেশ দিতে পারি নিঃসন্দেহে তিনি আমাদের অনেক দূর নিয়ে যেতে পারবেন। কিন্তু আমরা ও মিডিয়া তাকে যেভাবে হাইলাইট করছে তাতে ভাল কিছু হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। দেশের সকল মিডিয়া তে তাঁর কোন না কোন নিউজ থাকেই। উনি এই গ্রহের না, উনি এলিয়েন আরো অনেক কিছু। মুস্তাফিজ ও মানুষ। সে কতটুকু প্রেশার নিতে পারে সেটা আমরা জানি?? মুস্তাফিজ ও যদি নিজেকে মহাতারকা ভাবা শুরু করে তখন ই তো বিপদ। তিনি তাঁর নিজের সবটুকু দিতে পারবেন না।
দুইদিন পর তিনি সোহাগ গাজীর মত হারিয়ে গেলে তখন আপনারা মিডিয়ার লোকেরা নতুন কাউকে নিয়ে নাচবেন। এইটা বোঝেন না যে একটা ক্রিকেটারের ক্যারিয়ারের সাথে দেশের স্বার্থ জড়িয়ে। একটা ক্রিকেটারের ক্ষতি হওয়া মানে দেশের ক্ষতি হওয়া।
দেশে এমন অনেক ক্রিকেটার আছে যাদের প্রতিভার কথা বিসিবি বা আমরা জানি না।তারা হয়ত প্রত্যন্ত অঞ্চলের। মিডিয়া ই পারে তাদের বের করে আনতে সেটা না করে আজাইরা নাচানাচি।
মুশফিক হল দেশের সবাচাইতে ধারাবাহিক ব্যাটসম্যান। কিন্তু তাঁকে কখনো পাদপ্রদীপের আলোয় মুস্তাফিজের মত আনা হয়নি। তাই তিনি পরিণত হতে সময় পেয়েছেন। যার ফলে আর আমরা তার উপর ভরসা করতে পারি হয়ত সাময়িক ফর্ম খারাপ তাই এখন ভালকিছু করতে পারছেন না যেটা ক্রিকেটে সবার ই হয়।
আমার মনে হয় সবার ই উচিত এইভাবে ক্রিকেটার নিধনের বিপক্ষে দাঁড়ানো এবং ব্যপার টাকে সবার কাছে তুলে ধরা। ক্রিকেটার রা আমাদের দেশের সম্পদ। বিশ্ব দরবারে দেশকে তুলে ধরার কাজ তাঁরাই করে যাচ্ছেন এবং করবেন। আমাদের উচিত সর্বাত্বক সহযোগীতা করা। আবুল হাসান, মুস্তাফিজরা বিশ্ব দাপিয়ে বেড়াক। আর আমরাও যেন বুক ফুলিয়ে বলতে পারি "ওরা ১১ টি বাঘ "।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মার্চ, ২০১৬ রাত ১০:৫৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



