somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মাহদী হাসান শিহাব
লেখক। "শিহাবের নিউজলেটার"-এ আমার লেখা পাবেন — বই রিভিউ, ব্যক্তিগত উন্নয়ন, চিন্তাশীল প্রবন্ধ ও বিভিন্ন চলতি আলাপ নিয়ে। লিংক: https://mhshihab.substack.com/

মনোযোগ কেন গুরুত্বপূর্ণ?

০৩ রা এপ্রিল, ২০২৪ সকাল ৮:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



মানুষের অন্যতম দামী সম্পদ হচ্ছে এটেনশান বা মনোযোগ। এই এটেনশান দেওয়া বা নেওয়ার মাধ্যমে ক্ষমতা, সম্মান, অর্থ-বিত্ত, টাকা-পয়সা অর্জিত হয়।

এজন্য সবাই আপনার এটেনশান চায়। কারন আপনার এটেনশানই অন্যের লাভের কারন।

সারাদিন যদি আমরা নিজেদের এটেনশান খেয়াল করি তাহলে দেখা যাবে এটা আমাদের নিয়ন্ত্রণে সারাদিন প্রায় থাকেই না।

এটেনশানের এক বড় অংশ নিয়ে যায় মোবাইল ফোনের স্ক্রীন। সারা পৃথিবীতে দিনে গড় স্ক্রীন টাইম প্রায় সাড়ে ছয় ঘন্টা। খাওয়া, ঘুম ও পেশাগত কাজ বাদ দিলে আমাদের হাতে খুব অল্প সময় থাকে। এই অল্প সময় এবং খাওয়া, ঘুম ও পেশাগত কাজে বরাদ্দকৃত সময়ের মধ্যেও আমাদের এটেনশান নিয়ে নিচ্ছে ফেসবুক, ইউটিউব সহ অন্যান্য সোস্যাল মিডিয়া।

যারা আমাদের এটেনশান নিয়ে থাকে তারা আমাদের এটেনশানকে টাকায় কনভার্ট করে নিচ্ছে। আমাদের এই দামী সম্পদ এটেনশান আমাদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেই।


.

ইউটিউবে ভিডিও দেখতে গেলে প্রচুর এড আসে। সাথে আরও আসে স্পন্সর্ড ভিডিও। ইউটিউবে ঢুকলে মনে হয় টেলিভিশন অন করে এড দেখতে বসলাম।

অথচ আপনি যদি ইউটিউব প্রিমিয়াম টাকা দিয়ে কিনে ব্যবহার করেন তাহলে ফ্রেশ ভিডিও দেখতে পাবেন। কোন এডের ঝামেলা নেই, নেই কোন স্পন্সর্ড ভিডিও। আপনি আপনার পছন্দমত ভিডিও দেখতে পাবেন।

ইউটিউব আপনার এটেনশান তার এডের দিকে নিতে চায়। এর দ্বারা তারা অর্থ উপার্জন করে।

এডের দিকে তারা আপনার এটেনশান নিবে না এই শর্তে যে আপনাকে টাকা দিয়ে ইউটিউব প্রিমিয়াম নিতে হবে।

আমাদের এটেনশান নিয়ে কীভাবে অন্যরা মনিটাইজ করে নিচ্ছে এটা তার বড় একটা উদাহরণ।

.

Slow down and draw things out.

When people look slowly, they make discoveries.

এটেনশান অনেক দামী বলেই সবাই সেটা কৌশলে নিয়ে নিতে চায়। তো আমাদের করণীয় কী?

করণীয় হচ্ছে এটা আগে অনুধাবন করা যে সবাই আমাদের এটেনশান নিতে চায়। অর্থাৎ আমার এটেনশান আমার নিয়ন্ত্রণে প্রায় থাকেই না। এমতাবস্থায় এটেনশান প্রথমত নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে হবে। এবং সেটা আমাদের সিলেক্টিভ জায়গাগুলোতে প্রয়োগ করতে হবে।

আপনি যেখানেই এটেনশান দিবেন সেটাই আপনার কাছে ধরা দিবে। ভালো দিকে এটেনশান দিলে ভালো জিনিস ধরা দিবে আর মন্দ দিকে দিলে মন্দটা ধরা দিবে।

আপনি কোথায় কোথায় এটেনশান দিচ্ছেন এটার সমষ্টিই হলো আপনার জীবন।

আপনার জীবন যদি বোরিং হয়, যদি মনে হয় জীবন দিন দিন অর্থহীন হয়ে পড়ছে, জীবন নিয়ে যদি আপনি হতাশা বোধ করেন এবং এগুলো থেকে যদি মুক্তি চান তাহলে আপনার এটেনশানের দিক পরিবর্তন করতে হবে।

অর্থাৎ যে বিষয়গুলোতে আপনার মনোযোগ সারাদিন আচ্ছন্ন থাকে মনোযোগ প্রয়োগের ক্ষেত্রে সে বিষয়গুলোর পরিবর্তন করতে হবে। অন্যদিকে বা অন্য ভালো কিছুতে মনোযোগ দিতে হবে।

মনোযোগের কেন্দ্র পরিবর্তিত হলে জীবনেও পরিবর্তন আসবে।


.

সর্বক্ষণ আমাদের মনোযোগ কোথাও না কোথাও কেন্দ্রীভূত থাকে। এটা অবচেতন মনে ঘটে। মনোযোগ নিয়ন্ত্রিত হয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে। মনোযোগকে কাজে লাগানোর পদ্ধতি হলো কোথায় মনোযোগ দিতে চান সেটা সচেতনভাবে আগে থেকে ঠিক করে নেওয়া।

যে বিষয় বা লক্ষ্য অর্জন করতে চান সেটা স্থির করতে পারলে মনোযোগ সেদিকে কেন্দ্রীভূত করা সহজ হয়। আর যদি কোন লক্ষ্য স্থির না থাকে তাহলে মনোযোগ বিক্ষিপ্ত থাকে। তখন মনোযোগ যে কেউ চুরি করতে পারে। আপনি সামনে যাই দেখবেন বা শুনবেন মনোযোগ সেদিকে চলে যাবে। সেটার নিয়ন্ত্রণ তখন আর আপনার হাতে থাকবে না।

.

অর্ডিনারি জিনিস এক্সট্রা অর্ডিনারি কীভাবে হয়?

এভাবে বলা যায়, অর্ডিনারি কোন কিছু + এটেনশান = এক্সট্রা অর্ডিনারি কোন কিছু।

এটেনশানটা হচ্ছে ম্যাগনিফাইং গ্লাসের মত। কোন অর্ডিনারি জিনিসের উপর ম্যাগনিফাইং গ্লাস রাখলে তার অনেক ছোট বিন্দুসম খুটিনাটি যেমন নজরে আসে তেমন কোন বিষয়ের উপর এটেনশান দিলেও সেটার এক্সট্রা অর্ডিনারি বৈশিষ্ট্য ধরা পড়ে।

এই দামী সম্পদ মনোযোগ কে কাজে লাগাতে হলে কোথায় মনোযোগ দিতে চান সেটা আগে ঠিক করে মনোযোগের দিকটা সেদিকে ঘুরিয়ে দিলেই হবে।




মূল লেখা আমার নিউজলেটারে। আমার অন্যান্য লেখাসেখানে পাওয়া যাবে।

সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৪ সকাল ৮:৪৮
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নীল ড্রামের রহস্য

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


ঘরটি অন্ধকারাচ্ছন্ন। ক্ষণে ক্ষণে জানালার ওপাশ থেকে আসা দূরপথের সোডিয়াম বাতির একচিলতে আলো এসে পড়ছে ঘরের ভারী বাতাসের ওপর। ঘামের তীব্র গন্ধ আর উন্মুক্ত ত্বকের উত্তাপ ঘরের পরিবেশকে ভারী করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৮ বছর ১ সপ্তাহ পার !

লিখেছেন মেহবুবা, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৯


এমনি করে দিন চলে যায়। ১৮ বছর কখন পেরিয়ে গেল এখানে বুঝতে পারিনি। কত জনের কথা, কত ঘটনা মনে আসছে ! এমনি করে সূর্যাস্তের দিকে যেতে যেতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিজন দাদা, হারালে কোথায় ?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


নিত্য নতুন পোস্টের ভিড়ে
সেই চেনা মুখটি আজ আর দেখি না
কোথায় হারালে বিজন দাদা
ব্লগের উঠোনে তোমার সেই ছায়াটি আর মেলে না।

কোনো লেখা যখন সদ্য প্রসবের ব্যথায়
শব্দেরা যখন খুঁজত একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সক্রেটিস ঈশ্বরের বাণী প্রচার করতেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৫



সক্রেটিস মানুষের সাথে কথা বলতে ভালোবাসতেন। তিনি যখনই সময়ে পেতেন, মানুষের সমাগম যেখানেই হতো, সেখানেই তিনি বক্তব্য দিতেন। সেই বক্তব্যগুলো ছিলো, সক্রেটিসের ভাষায়, 'দৈব বাণী' বাঁ 'ঈশ্বরের বাণী'। এজন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১১

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লাল বদরঃ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া একটি নতুন ও রাজনৈতিক কটূক্তিবাচক শব্দ বা স্লোগান। কোটা সংস্কার আন্দোলন ও সরকার পতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×