somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মাহদী হাসান শিহাব
লেখক। "শিহাবের নিউজলেটার"-এ আমার লেখা পাবেন — বই রিভিউ, ব্যক্তিগত উন্নয়ন, চিন্তাশীল প্রবন্ধ ও বিভিন্ন চলতি আলাপ নিয়ে। লিংক: https://mhshihab.substack.com/

চার্লি মাঙ্গারের ইনভার্সন: উল্টো দিক থেকে চিন্তা কেন করবেন

০২ রা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সফল হওয়ার চেয়ে ব্যর্থতার কারণগুলো এড়িয়ে চলা সহজ। আর অনেক সময় বড় সফলতার প্রথম শর্তই হলো বড় ব্যর্থতাগুলো এড়িয়ে চলা। আবার বলা যায়, ব্যর্থ না হওয়াই সফলতা।

চার্লি মাঙ্গার এই উল্টা করে চিন্তার কথা বলেছিলেন।

তিনি বলছিলেন,

All I want to know is where I’m going to die so I’ll never go there.

“আমি শুধু জানতে চাই কোথায় আমার মৃত্যু হবে, যাতে আমি কখনো সেখানে না যাই।”

এর মানে তিনি আসলেই মৃত্যুর জায়গা খুঁজতেছেন, বিষয়টা এমন না।


তিনি বলতে চাচ্ছেন,

জীবনে যে কাজগুলো আমাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে, সেগুলো জানতে চাই। যাতে ঐ কাজ না করার দ্বারা আমি আমার ধ্বংস ঠেকাতে পারি।

তার মতে, সফল হওয়ার নতুন কৌশল খোঁজার চেয়ে ব্যর্থতার কারণগুলো এড়িয়ে চলাই বেশি কার্যকর।

এটাকে তিনি বলেছেন Inversion Thinking অর্থাৎ উল্টা দিক দিয়ে চিন্তা করা।

.

মাঙ্গারের মতে, কোনো সমস্যার সমাধান করার সময় সরাসরি সমাধানের পথ না খুঁজে সেটিকে উল্টে দেওয়া বা রিভার্স করা অনেক বেশি ফলপ্রসূ হয়।

তার মতে, আমাদের চিন্তা করার ক্ষেত্রে কিছু স্বাভাবিক পক্ষপাত ও বিবর্তনীয় সীমাবদ্ধতা আছে, যা আমাদের যুক্তিসঙ্গতভাবে চিন্তা করতে ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে বাধা দেয়। ইনভার্সন সেই সীমাবদ্ধতা কাটানোর একটা উপায়।

ইনভার্সন হলো—আপনি যা অর্জন করতে চান তা নিয়ে ভাবার বদলে আপনি যা এড়াতে চান তা নিয়ে আগে ভাবেন।


যেমন:

সাধারণত আমরা প্রশ্ন করি: “আমি কী করলে সফল হব?”

Inversion পদ্ধতিতে প্রশ্ন হবে: “আমি কী করলে নিশ্চিতভাবে ব্যর্থ হব?”

তারপর সেই কাজগুলো এড়িয়ে চলতে হবে।


আবার যদি বলা হয়, “কী করলে জীবন সুন্দর হবে?”

এভাবে প্রশ্ন না করে উল্টা করে বলা যায়, “কী করলে নিশ্চিতভাবে দুর্ভাগা ও অসুখী হব?”


এর উত্তরগুলো চিন্তা করি:

সবসময় অন্যের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করলে

কখনো নতুন কিছু শেখার চেষ্টা না করলে

পারিবারিক সম্পর্ক নষ্ট করলে

শরীরের যত্ন না নিয়ে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুললে

সবসময় অভিযোগ করতে থাকলে অর্থাৎ ভিক্টিম কার্ড প্লে করলে

সারাদিন ফেসবুক স্ক্রল করলে

যে অর্জন আছে সেগুলোর ব্যাপারে কৃতজ্ঞতাবোধ না থাকলে


ধরেন এই কাজগুলো করলে অসুখী হওয়া যাবে। এমতাবস্থায় এই কাজগুলো এড়িয়ে চললেই সুন্দর জীবনের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। সুন্দর জীবন প্রাপ্তির জন্য আলাদা কোন ম্যাজিক সূত্র বের না করতে পারলেও সমস্যা নাই।

মানুষ সাধারণত সফল হওয়ার সব পথ জানে না, কিন্তু কোন কাজগুলো নিশ্চিত ক্ষতির দিকে নিয়ে যায়, সেগুলো তুলনামূলকভাবে সহজে শনাক্ত করা যায়। তাই সেগুলো এড়িয়ে চললে সঠিক পথে থাকার সম্ভাবনাও অনেক বেড়ে যায়।

.

চার্লি মাঙ্গার এক সাক্ষাৎকারে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তার এক অভিজ্ঞতার কথা বলেন।

তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় একজন আবহাওয়াবিদ ছিলেন। তখন তার কাজ ছিল পাইলটদের নিরাপদে উড়তে সাহায্য করা।

তিনি এই সমস্যাটিকে উল্টে দিয়ে নিজেকে প্রশ্ন করলেন—

“আমি যদি অনেক পাইলটকে মেরে ফেলতে চাইতাম, তবে সবচেয়ে সহজ উপায় কী হতো?”

তিনি দেখলেন, বিমানকে এমন আবহাওয়ায় নিয়ে যাওয়া যেখানে আইসিং হয় অর্থাৎ প্লেনের ডানা বা ইঞ্জিনে বরফ জমে বিমান নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়, এবং আরেকটি কারণ প্লেনের ফুয়েল শেষ হয়ে যাওয়া।

এই দুটিই হলো পাইলটদের মারার সহজতম উপায়।

এরপর তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন যে তিনি পাইলটদের এই দুটি বিপদ থেকে শত মাইল দূরে রাখবেন। এটি তাকে একজন আরও ভালো আবহাওয়াবিদ হতে সাহায্য করেছিল।

তিনি আরেক উদাহরণে বলেন, কাউকে সাহায্য করতে চাইলে আগে বুঝতে হবে কী করলে তার সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে। ঐ কারণটা এড়িয়ে চললেই তাকে সাহায্য করা হয়।

যে কোন অবস্থায় বাস্তবতাকে সঠিকভাবে চেনার জন্য ঐ বিষয়কে উপর থেকে নিচে এবং নিচ থেকে উপরে—উভয় দিক থেকেই দেখা উচিত।

কোন ব্যাপারে সাহায্য করার আগে চিন্তা করা উচিত কীভাবে আমি এর ক্ষতি করতে পারি, যাতে সেই ভুলগুলো এড়ানো যায়।

ঐ সাক্ষাৎকারে তিনি আক্ষেপ করেন, আজ শিক্ষাব্যবস্থায় কত বড় বড় ডিগ্রি দেওয়া হচ্ছে, অথচ ইনভার্সনের মত সাধারণ কিন্তু অত্যন্ত শক্তিশালী কৌশলগুলো শিক্ষার্থীদের শেখানো হচ্ছ না। এগুলা তাদের না শেখানোটা ভুল হচ্ছে। এগুলা তাদের শিখানো উচিৎ।



নিউজলেটারে পূর্বে প্রকাশিত

সর্বশেষ এডিট : ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ফ্যামিলি কার্ডের স্বার্থে তেলের দাম বৃদ্ধি মেনে নিতে হবে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৯


দীর্ঘ সতেরো বছর পর আমরা পেয়েছি একটি নির্বাচিত সরকার । অনেকে ভালোবেসে ইহাকে জনগণের সরকার বলে থাকেন । জনগণের সরকারের উপর একটু আস্থা রাখুন । সরকারকে সময় দিন ;... ...বাকিটুকু পড়ুন

চাপ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩১



রাজধানী ঢাকা সহ দেশের নানা অঞ্চলে টমটম, অটোরিক্সা, নসিমন, করিমন চলাচল করে। বেশ মানুষজন পরিবহন সহ মালামালের বস্তাও টানাটানি করতে দেখা যায়। কিন্তু এইগুলোর দেশ হচ্ছে গ্রাম গঞ্জের বাজার আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার সমাধিতে কোনো ফলক রেখো না

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:৪৪


আমার সমাধিতে কোনো ফলক রেখো না
আমার ডক্টর উপাধিটি মুছে দিও
জ্ঞানী, কবি, দরবেশ, সাধক, সফল, ব্যর্থ
এসব কোনো শব্দই যেন
মাটির ওপর দাঁড়িয়ে আমাকে আলাদা না করে।

কারণ আমি দেখেছি
অহংকার খুব সূক্ষ্ম... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৮ বছর পর্যন্ত সবাই শিশু!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৬

১৮ বছর পর্যন্ত সবাই শিশু!

শিশুর অধিকার রক্ষা অবশ্যই সভ্য সমাজের দায়িত্ব। কিন্তু প্রশ্নটা তখনই কঠিন হয়ে ওঠে, যখন ১৭ বছর ১১ মাস ২৯ দিন বয়সী কেউ ধর্ষণ বা হত্যার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফুনফুনা ফুন

লিখেছেন রাজীব নুর, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৩৩



ছয় হাজার হাজার আগে পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিলো মাত্র দশ লাখ।
হ্যা দশ লাখ। পুরো পৃথিবীর সব জায়গায় মানুষ থাকতো না। বনজঙ্গল ছিলো। আর সমুদ্র এবং নদী। পাহাড় পর্বত।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×