দেশের শীর্ষ পত্রিকাগুলোর অন্যতম, প্রথম আলো'র কর্মীবৃন্দ পাঠককুল, অর্থাৎ, আমাদেরকে খুশি করতে না পারার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে 'sorry' লিখে ফটোকার্ড ছেড়েছেন। তেমন বেশ কয়েকটি ফটোকার্ড আমার চোখে পড়েছে।
আমি নিজে পেশাগতভাবে সাংবাদিক না হলেও দেশের বেশিরভাগ সাংবাদিকই কমবেশি আমার নাম শুনেছেন। কারন, সেই ১৯৭৭ সাল থেকে আমি পত্রপত্রিকায় লেখালেখি করছি। উল্লেখ্য, আমি প্রথম ছোটগল্প লিখি চট্টগ্রামের 'দৈনিক আজাদী' পত্রিকার 'আগামীদের আসর'-এ। আমার সদস্য নম্বর ছিল ৪১০৭।
যাক, এ পোস্টের মূল উদ্দেশ্য হলো, একজন প্রবীণ লেখকের জায়গা থেকে একালের সাংবাদিকবৃন্দকে কিছু প্রশ্ন করা -
আপনাদের কেন মনে হলো যে সাংবাদিকতা চর্চা করে পাঠককে, বা মহল বিশেষকে আপনাদের খুশি করতে হবে? সাংবাদিকদের দায়িত্ব কি মানুষকে খুশি করা?
বিনয়ের সাথে বলি, সাংবাদিক হিসাবে আপনাদের দায়িত্ব কাউকে খুশি বা অখুশি করা নয়। তা হওয়া উচিতও না। একজন সাংবাদিকের কিছু মৌলিক বিষয় বা দায়িত্ব আপনাদের সদয় অবগতির জন্য নিচে পেশ করলাম। সুযোগ পেলে পড়বেন।
সত্য প্রকাশ - তথ্য যাচাই করে সত্য ও নির্ভুল সংবাদ পরিবেশন করা।
নিরপেক্ষতা বজায় রাখা - ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, রাজনৈতিক মতাদর্শ কিংবা দলীয় আনুগত্য যেন সংবাদ পরিবেশনে প্রভাব না ফেলে।
ক্ষমতার জবাবদিহি নিশ্চিত করা - সরকার, রাজনৈতিক দল, প্রশাসন ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনামূলক পর্যালোচনা করা।
অনিয়ম ও দুর্নীতি উন্মোচন - অন্যায়, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা করা।
জনস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া - সাংবাদিকের নিজের, বিশেষ ব্যক্তির, দল বা সরকারের স্বার্থের চেয়ে জনগণের স্বার্থকে বড় করে দেখা।
বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনা করা - নির্মোহভাবে সরকারের ভালো কাজের প্রশংসা করা এবং ভুল, ব্যর্থতা ও অনিয়মের গঠনমূলক সমালোচনা করা।
ভুল তথ্য ও অপপ্রচার প্রতিরোধ - গুজব, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা থেকে জনগণকে সুরক্ষিত রাখা।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো, সাংবাদিকের আনুগত্য কোনো ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল কিংবা সরকারের প্রতি নয়; তাঁর আনুগত্য হওয়া উচিত সত্য, ন্যায়বিচার ও জনস্বার্থের প্রতি। অতীতে এর অন্যথা না করে থাকলে জনসাধারণের কাছে ক্ষমা চাওয়ার বিশেষ কারন দেখিনা।
আবারো বলি, সাংবাদিকের কাজ সরকারকে খুশি করা নয়; আবার, অকারণে সরকারের বিরোধিতা করাও নয়। বরং সরকারের কর্মকাণ্ডকে সত্য ও তথ্যের নিরিখে মূল্যায়ন করাই প্রকৃত সাংবাদিকতা। এ প্রক্রিয়া সরকারকে সঠিক পথে পরিচালিত হতে সাহায্য করে।
দায়িত্বশীলতার সাথে আপনারা আপনাদের উপর অর্পিত সাংবাদিকতার গুরুদায়িত্ব পালন করলে আমি নিশ্চিত, এভাবে 'sorry' লিখে কারো কাছে ক্ষমা চাইতে হবেনা কোনোদিনও।
- এম এল গনি, এডমন্টন, আলবার্টা, কানাডা থেকে।
https://www.facebook.com/moh.l.gani/

সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




