পড়ার অভ্যাসটা ছেলেবেলা থেকেই । প্রতিবছর বেশ উৎসাহ নিয়ে পরিবারের সবাই যেতাম বইমেলায় । কিশোর বয়সে জাফর ইকবাল, জুল ভার্ন, একটু পরিণত হতেই শীর্ষেন্দু, সমরেশ, আর বয়সের নিষেধাজ্ঞা কেটে যেতেই রুদ্র, গোস্বামী আর বুদ্ধদেব বসুতে প্রবেশ । আর যখন সুনীলে ডুবলাম, তখন পড়ার সাথে সাথে অল্প-বিস্তর লিখতেও শুরু করলাম । কেমন লিখতাম জানিনা-তবে অভ্যাসটা টিকে গেলো । গ্র্যাজুয়েশনের পর পড়ার সাথে সমানুপাতে ভরতে থাকলো আমার স্টাডির ছোট্ট টেবিলের ডানদিকে সযত্নে সংরক্ষিত সাহিত্য-স্ক্র্যাপবুকের পাতাগুলো । সাহিত্যের বেশ ভালোই সমঝদার বলে মনে হত নিজেকে । সব ঠিকই ছিলো-তবে ২০১৬ এর আগস্টের আগে পর্যন্ত । সাহিত্য-প্রতিভা নামক ফুলটি যবে আমার মধ্যে কেবল ধীরে ধীরে বিকশিত হতে শুরু করছিলো, তখনই হঠাৎ এক গজদন্তী হাসি ঝড় হয়ে এসে সব ভেঙ্গেচুরে খানখান করে দিলো । প্রতিটি পদ্য, প্রতিটি উপন্যাস একজন লেখকের ব্রেইনচাইল্ড । যে মস্তিষ্ক থেকে আমার সেই পদ্যশিশু জন্ম নিবে, যে হৃদয় থেকে নিংড়ে নিংড়ে রস বের করে সাধারণ কথামালায় প্রাণ সঞ্চারিত হয়ে তৈরি হবে একটি উপন্যাস; সেই হৃদয়ে, সেই মস্তিষ্কে সারাক্ষণের জন্য জেঁকে বসলো এক মায়া ভরা মুখশ্রী । সেই হাসি, সেই মুখ আমি যে এক মুহূর্তের জন্যও ভুলতে পারিনা । আমার পৃথিবী, আমার সাহিত্য ভাবনা তখন থেকে শুধু সেই মায়াবতীকে ঘিরে আবর্তিত হতে লাগলো । আর ২১/০২/২০১৭ থেকে ধীরে ধীরে বুঝতে শিখলাম সাহিত্য যে আসলে কী-তা এতোদিন আমি বুঝিনি তিলমাত্রও । যাকে এতোদিন পদ্য ভেবেছি, তা আসলে পদ্য নয়; যেটিকে উপন্যাস ভাবতাম, উপন্যাস নয় আদতে সেটিও । বরং সেই মায়াবতীর প্রতি নিবেদিত আমার প্রতিটি চাহনি একেকটি কবিতা, তার সাথে বলা আমার কথামালা একেকটি গান, যাতে সুরারোপিত হয় আমাকে দেয়া তার দুষ্টু-মিষ্টি গজদন্তী হাসিতে । তার সাথে ব্যয়িত মহাকালের এই ক্ষুদ্র সময়টুকু একটি মহাকাব্য । যে মহাকাব্যের কেবল চতুর্থ অধ্যায় শেষ হলো, এ অনন্ত, অনিঃশেষ মহাকাব্যের উৎসর্গ পাতায় শুধু একটি নামই লেখা-“কোয়েল পাখি”। আর নিঃসন্দেহে বুঝতে পারি এটিই হতে যাচ্ছে আমার শ্রেষ্ঠতম সৃষ্টি । কারণ, সাহিত্য কী-তা এখন আমি জানি !

সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মার্চ, ২০২১ রাত ৯:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


