somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

‪এ ট্রিবিউট টু লেজেন্ডারি ক্যারেক্টার মিঃ ডব্লিউ জি গ্রেস‬

২০ শে জুলাই, ২০১৬ রাত ১০:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ভদ্রলোকের মুখে ইয়া বড় বড় গোঁফ-দাড়ি । আজকালকার যুগে এই লোককে দেখলে সন্দেহভাজন হিসেবে দেখা হতো কি না, কে জানে !

সে যাকগে । লোকটাকে অনেকেই হয়তো চেনেন, অনেকেই চেনেন না । ভদ্রলোকের নাম ডব্লিউ জি গ্রেস । পুরো নাম উইলিয়াম গিলবার্ট গ্রেস । ফাদার অব ক্রিকেট বলা হয় তাকে । বলা হয়ে থাকে ক্রিকেট খেলাকে উনিই জনপ্রিয় করেছিলেন । এবং উনার কারণেই নাকি ক্রিকেট শখের খেলা থেকে সিরিয়াস খেলায় রুপান্তর হয় ।


আচ্ছা এতসব তত্ত্বকথা বাদ দিই । তার চেয়ে এই লোকের কিছু মজার উক্তি শোনা যাক, কি বলেন ? জি গ্রেস ক্রিকেটের মহান এক চরিত্র ঠিকই সাথে মজার এক চরিত্রও বটে !

১... জি গ্রেসের বহুল জনপ্রিয় একটা উক্তি আছে । "যদি তুমি টসে জেতো, তাহলে ব্যাটিং নাও । যদি তোমার মনে কোন সংশয় থাকে, তাহলে একটু চিন্তা করো । এবং ব্যাটিং নাও । যদি তোমার মনে বিশাল কোন সংশয় থাকে, তাহলে তুমি তোমার টিমমেটদের সাথে আলোচনা করো । এবং তারপর ব্যাটিং নাও" ।

২... সেবার একটা ম্যাচে জি গ্রেস শুরুতেই বোল্ড আউট হয়ে গেলেন । তিনি ব্যাট দিয়ে স্ট্যাম্প ঠুকে আবার ব্যাটিংয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন । বললেন, "দর্শকরা আমার ব্যাটিং দেখতে এখানে এসেছে, তোমার বোলিং দেখতে নয়" । এরকমই আরেকটা ঘটনার কথা উল্লেখ আছে, আম্পায়ারকে নিয়ে । আম্পায়ার এলবিডব্লিউ দিলে রেগে উঠেন জি গ্রেস । বলেন, "সবাই আমার ব্যাটিং দেখতে এসেছে, তোমাকে নয়" ।

৩... সেই ম্যাচেই ৪০০ করেছিলেন গ্রেস । সবগুলো রান নিয়েছিলেন দৌড়ে । গ্রেস আসলে করেছিলেন ৩৯৯ । কিন্তু স্কোরারকে জোর করে বাধ্য করেছিলেন ৪০০ লিখতে ।

৪... আরেকবার প্রথম বলেই আউট হয়ে গেলেন । সাথে সাথে জি গ্রেস বলে উঠেন, "ট্রায়াল বল হিসেবে ভালই ছিল । এবার তবে খেলা শুরু করা যাক" ।

৫... একবার জি গ্রেসের বিপক্ষে একটাও লেগ-বিফোর দিচ্ছিলেন না, আম্পায়ার । প্রচন্ড হতাশ ও রাগন্বিত বোলার বোল্ডই করে বসলেন, গ্রেসকে । দুটি স্ট্যাম্প দু'দিকে উপড়ে ফেলেন বোলার । বলেন, "এখনো একটা স্ট্যাম্প দাঁড়িয়ে আছে । তুমি নিশ্চয় যাবে না, ডক্টর ?" মুচকি হেসে গ্রেস কি উত্তর দিয়েছিলো জানেন ? বলেছিলেন, "এতে আর আশ্চর্য্যের কি আছে !" অতঃপর আবার ব্যাটিং করতে দাঁড়িয়ে গেলেন ভদ্রলোক ।

৬... একদিন আউট হয়ে যাওয়ার পর গ্রেস আম্পায়ারের কাছে গিয়ে বলছিলেন, "আসলে বাতাস একটু জোরে হওয়ায় বেলটা পড়ে গেল" । আম্পায়ার ভদ্রলোকও ছিলেন রসিক । জবাবে বলেছিলেন "বাতাসটা আরেকটু জোরে হোক । তাহলে ডাক্তার সাহেবকে ড্রেসিংরুমে পৌছতে সাহায্য করতে পারবে" । গ্রেস একজন ডাক্তারও ছিলেন যে !

ছয়টা তো হয়েই গেল । মানে এক ওভার । এবার তাহলে শেষ করি । ওহ, একটা যদি নো বল হয় তাহলে তো সাতটি বল করতে হয় । তাই না ? তাহলে একটা নো বল-ই হোক ।

৭... ভদ্রলোক বোলিং করার সময়ও মজা করতেন । ব্যাটসম্যানকে সূর্যের দিকে দেখতে বলে, বলতেন "আকাশে কত পাখি উড়ে যাচ্ছে, দেখো" । ব্যাটসম্যান দেখতো । ফলে ব্যাটসম্যানের চোখে ধাঁধা লেগে যেতো । এবং পরের বলেই আউট হতো !

নো বল সহ ওভারটা এবার শেষ হলো, তাহলে !

তিনি ছিলেন একগুঁয়ে, রগচটা । একদম আউট হতে চাইতেন না । রগচটা, বদমেজাজী বলে আম্পায়াররাও সহজে আউট দিতো না । ব্যাটিং করেই যেতে চাইতেন শুধু । সেই সময়ের অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, তাকে সেই সময়ের সেরা ব্যাটসম্যান বলা হয় । অপরাজেয়, অপ্রতিরোধ্য প্রতিভা যাকে বলে আর কি !

তবে ক্রিকেটটা ভালবাসতেন মন-প্রাণ উজার করে । ভালবাসতেন বলেই হয়তো সেই যুগে দিনের পর দিন একটানা ক্রিকেট খেলে গেছেন । খেলা শেষের সময় বলছিলেন, "আই ক্যান স্টিল ব্যাট, বাট ক্যান্ট ব্যাট মাই বডি" ।
এই কথা যখন বলছেন তখন তাঁর বয়স ৫১ বছর !

৫৫৩০৯ রানের সাথে ২৮১৮ উইকেট । প্রায় ৩৮ বছরের ক্রিকেট ক্যারিয়ার । তবু যেন 'ক্লান্তি' নামক কোন শব্দ তাঁর অভিধানে ছিল না। এমনি এমনি কি আর তাকে 'দ্যা চ্যাম্পিয়ন' বলা হতো !


ইংলিশ ক্রিকেটে তাঁর অবদান বর্ণনাতীত । বলতে গেলে পুরো ক্রিকেট খেলাটাতেই তাঁর অবদান কোনভাবেই পরিমাপযোগ্য নয় । যদিও অজিদের ডন, উইন্ডিজের ওরেল, কিউইদের হ্যাডলি, পাকিস্তানিদের ইমরান, ভারতীয়দের শচীন, শ্রীলংকার রানাতুঙ্গা, প্রোটিয়াদের ক্রনিয়ের সাথেই উচ্চারিত হয় গ্রেসের নাম । সেটা দেশের ক্রিকেটে কোন একক প্লেয়ারের অবদান বিবেচনায় ।
কিন্তু গ্রেসের অবদান এজন্যই অতুলনীয় ও অপরিমেয় যে, গ্রেস না হলে এদের কারোরই ক্রিকেটের গ্রেট বা স্বদেশের ক্রিকেটের শ্রেষ্ঠ সন্তান হয়ে উঠা হয়তো হতো না ।

উইলিয়াম গিলবার্ট গ্রেস ! ক্রিকেট খেলার জন্যেই যার জন্ম । যার হাত ধরেই জন্ম ক্রিকেটের । তাই তো তিনি ফাদার অব ক্রিকেট ! দ্যা ট্রু চ্যাম্পিয়ন ।

জন্ম : ১৮ই জুলাই ১৮৪৮, ডাইনইন্ড, ব্রিস্টল, ইংল্যান্ড ।
মৃত্যু : ২৩শে অক্টোবর ১৯১৫, মট্টিংহ্যাম, কেন্ট, ইংল্যান্ড ।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জুলাই, ২০১৬ রাত ১০:১৪
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

উচ্চবংশীয় ছাগল!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:০৯



এককালে কেবল ঘড়িতেই বাজতো টিক টিক- টিক টিক;
বারবেলায় এসে দেখছি টিক টিক বলে কিছু নেই আর ঠিক ঠিক!
বরং 'টিকটক'- এ আকণ্ঠ বুদ হয়ে আছে আবালবৃদ্ধবনিতা!
মানুষের লম্ফঝম্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডাইভারসিটি ভিসা লটারি আবার চালুর নির্দেশ আদালতের

লিখেছেন শিমুল মামুন, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৬



যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ অর্থবছরের ডাইভারসিটি ইমিগ্র্যান্ট ভিসা (ডিভি লটারি) লটারির নিবন্ধন আবার চালু করতে ট্রাম্প প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন একটি ফেডারেল আদালত। আগামী ১ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন গ্রহণ শুরু করতে এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

“‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’: ঘোষণার পর রাষ্ট্র কতটা বদলায়?”

লিখেছেন raselabe, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৪

রাজনৈতিক নেতৃত্বের একটি পরিকল্পনা তখনই কার্যকর রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে রূপ নেয়, যখন তা ব্যক্তিগত ঘোষণা থেকে বেরিয়ে সুস্পষ্ট নীতি, নির্দিষ্ট দায়িত্ব, বাস্তবায়নযোগ্য কর্মপরিকল্পনা এবং পরিমাপযোগ্য জনকল্যাণের লক্ষ্যে পরিণত হয়।

এখানে নেতৃত্বের প্রথম... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোন কিছুর অস্তীত্ব বিহীন মহাশূন্যে অস্তিত্বের প্রক্রিয়া কি ছিল?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৭



কোন কিছুর অস্তীত্ব বিহীন মহাশূন্যে অস্তিত্বের প্রক্রিয়া হলো উদ্ভব। কারণ সৃষ্টি বা তৈরী কারক না থাকা। তাতে কী উদ্ভব হবে এটা অনিদৃষ্ট। কারণ এটা নিদৃষ্ট করার কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মক্কা থেকে বদর: মুসলিম ভ্রাতৃত্বের ভূরাজনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৫


মুসলিম বিশ্বে ঐক্যের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। অন্তত চুক্তিগুলোর নাম শুনলে তেমনটাই মনে হয়। মক্কা ও বদর। মুসলিম ইতিহাসের দুটি পরিচিত নাম। নাম শুনে মনে হতে পারে, বহুদিনের বিভেদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×