সন্ধের সময় এলো সে। প্রথমে চিনতে পারলাম না। তারপর বুঝলাম। গালভর্তি দাড়ি। গায়ে চাদর জড়ানো কোনোমতো। মাথায় মাফলার।
_ কি রে মোস্তফা?
সে ঘরে আসতে চায়। দরজা আগলে দাঁড়ালাম। ওর হাতটান স্বভাব। অন্যদিকে রুনিকে অনেক কৈফিয়ত দিতে হবে।
_ বড়ভাই, আপনার কাছেই এলাম।
_ কেন?
_ মায়ের হাত-পা পড়ে গেছে। একটু...
_ আমি নিজেই দু বছর বেকার, কী করে সাহায্য করি! মুশকিল সমস্যা।
কিছুক্ষণ না কি অনেকসময়। অন্ধকার হয়ে আসছে। একসময় মোস্তফা ঘুরে দাঁড়াল।
_ বড়ভাই যাই তা হলে!
_ আচ্ছা যা।
মোস্তফা গলি শেষে রাস্তায় পা রেখে ঘুরে দাঁড়াল। মনে মনে এতটুকু হয়ে গেলাম। আমার পকেটে ঋণের তিন হাজার টাকা খুব ভারী মনে হতে লাগল। এখান থেকে অন্তত পাঁচ শ টাকা দিতে পারতাম। কিন্তু এ তো ঋণের টাকা। অনেক চেষ্টায় জোগাড় করেছি। কেমন করে দিই। রাত নেমে আসতে আসতে মনজুড়ে ক্লেদ জমা হতে থাকে। মোস্তফার মা আমাদের কত বছর রান্না করে খাইয়েছে। সেই স্নেহময় সেবার ঋণ কোনোদিন পরিশোধ করা যায় না। অন্ধকার বাড়তে থাকে।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জানুয়ারি, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




