অনেক অনেক অনেক আগেকার কথা,সবুজ
সুশীতল অপরূপ এক দেশ ছিল যার ছিল অবুঝ
নিরীহ এক জাতি।রত্নভাণ্ডারে ভরপুর
ছিল সেই দেশ। তার রত্নের
লোভে বারবার পৃথিবীর বিভিন্ন
জায়গা থেকে লোকজন এসেছে,রাজ্য
গড়েছে,শাসন করেছে, শোষণ করেছে।
তাদের বংশধরেরাও একই কাজ করেছে।
সময়ের সাথে সাথে অন্য কেউ
এসেছে,তারাও একইভাবে ঘটনার
পুনরাবৃত্তি ঘটিয়েছে।
এভাবে চলেছে হাজার হাজার বছর।
কালের পরিক্রমায় সেই নিরীহ
জাতি পরিণত হয়েছে এক সংকর
জাতিতে। সেই জাতির নাম বাঙালি।
এই বাঙালিয়ানা কিন্তু
বছরে কয়েকটা মাসে পরিলক্ষিত হয়,একটু
বেশিই হয়ে গেল।দু-এক দিন,যেমন
ফাল্গুনের ৮কিংবা বৈশাখের ১।
বাকি দিনগুলো তারা অতি আধুনিক।
এ জাতি আজ সংকর সংমিশ্রণে দারুণ
সমৃদ্ধি অর্জন করেছে। তারা আজকাল
পাশ্চাত্যের হ্যালোয়েনও উদযাপন
করছে।ভাবুন, কি উন্নতিই না করেছে এ
জাতি!
দারুণ অনুকরণপ্রিয় এ জাতি।আপনি বললেই
এরা দৈনন্দিন ব্যবহার্য
দ্রব্যাদি থেকে শুরু করে নিজের চরিত্র
পর্যন্ত কপি করে দিতে পারবে।
কপি শব্দটা শুনে আবার ভাববেন
না,এরা পরিক্ষায়ও কপি করে। না না,ঐ
অধ্যায় এ জাতি অনেক
পেছনে ফেলে এসেছে।এখন পরিক্ষায়
কপি করতে হয় না।
এখনতো শিক্ষানীতি সৃজনশীল। এরা এতই
সৃজনশীল যে পরিক্ষার আগের
রাতে এরা প্রশ্নপত্রই সৃজন করে ফেলে।
ভাবুন,কি উন্নতিই না করেছে এ জাতি!
এখনতো প্রত্যেক ঘরে ঘরে রত্নগর্ভা। এমন
মা খুঁজে পাওয়া কঠিন, যার সন্তানের A
+ নামক সোনার হরিণ নেই।ভাবুন তো,
কি উন্নতিই না করেছে এ জাতি!
এদের চরিত্রের অনুকরণের উদাহরণ দেই,
এরা আধুনিকতার
পেছনে ছুটতে ছুটতে কিভাবে শাড়ি পড়তে হয়,তা ভুলে গেছে।
সহজেই শর্টস,টপস পড়ে নেয়া যায় তো।
ছেলেরা জাতীয় পোশাক
লুঙ্গি পড়তে লজ্জাবোধ করে। এদের
আবার লিভটুগেদারে কিন্তু একদমই
লজ্জা নেই। ভাবুন, কি উন্নতিই
না করেছে এ জাতি!
এদের ভাষাতেও আধুনিকতার ছোঁয়া, শুধু
বাংলা বলতে এরা লজ্জিত হয়।
ইংরেজির
সাথে ভাঙ্গা ভাঙ্গা বাংলা বলাটাই
আধুনিকতা।
ভাবুন কি উন্নতিই না করেছে এ জাতি!
কি গা জ্বালা করছে? বলবেন,
না না না,believe it or
not,আমরা বাঙালি, pure বাঙালি।
আমি বলবো,এই
যে যারা দেশপ্রেমে উথলে উঠে ফেসবুকে নিজের
ছবির জায়গায়
পতাকা দিয়ে আরেকটা রেকর্ডের স্বপ্ন
দেখছেন,অন্যদেরকেও উদ্বুদ্ধ করছেন,রোজ
নিয়ম করে একবেলা দেশত্ববোধক গান
শুনছেন। তারাই, হ্যা তারাই এ মাস পার
করতে দিবেন না,তার আগে থেকেই
থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপন করার জন্য
পুরো এলাকাজুড়ে লাইটিং করবেন,প্যানেল
টানিয়ে উচ্চশব্দে অবোদ্ধ
ইংরেজি গানের
সংগে নাচবেন,এলাকা মাতাবেন।
কেউ কেউ তো,পুরোটা লেট নাইট
ক্লাবেই সারবেন with আপনাদের
বিয়ার,শ্যাম্পেইন, রেড ওয়াইন আর
মাতাল বন্ধু বান্ধবিদের নিয়ে।
কবিগুরু ঠিকই বলেছিলেন,
" সাতকোটি (বর্তমানে ১৬কোটির
বেশি) মানুষেরে,
হে মুগ্ধ জননী,
রেখেছ বাঙালী করে,
মানুষ কর নি।"
আর আরো বড় একটা সত্যি হলো এই
জাতি এখন দুভাগে ভাগ
হয়ে গেছে,একটা হলো ভারতীয়
বাঙালি, আর
একটা হলো পাকিস্তানি বাঙালি।
বাংলাদেশি বাঙালি এখন
বিলুপ্তপ্রায়।
তাই আসুন,রেকর্ডের উদ্দেশ্যে নয়,এ
দেশটাকে সত্যি সত্যিই
ভালোবাসি,হৃদয়ে ধারণ করি আমাদের
জাতীয় পতাকা।
বিজয়ের শুভেচ্ছা সমেত,
মাহবুবুর রহমান
যবিপ্রবি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




