somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও অপেক্ষা

১২ ই জানুয়ারি, ২০১৫ দুপুর ২:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা,
শ্রদ্ধাবোধ এইজাতীয় শব্দগুলি আমাদের
দেশের রাজনৈতিক অভিধানে নেই।
আমরা বিরোধীদলের সমর্থকদের কেবল
প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়া আর কিছু ভাবি না।
দিন শেষে আমরা যে একই দেশের
নাগরিক, একই জাতি, একই দেশের জন্য
লড়াই করেছি আর একই দেশের উন্নয়নের
জন্য ভাবি,এই অতি সাধারণ
কথাগুলো আমাদের মনে থাকেনা।
অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে যদি কোন একদল
ক্ষমতায় আসে তো পরবর্তী আরেক
দফা ক্ষমতায় থাকার জন্য নানান ছলে-
বলে,কলা-কৌশলে নিজেদের
সুবিধার্থে বিভিন্ন বে-
আইনী বিষয়কে আইনসিদ্ধ করার জন্য
বারবার আমরা সংবিধানের উপর আঁচর
ফেলেছি,সাধারণ জনগনের
আদৌ মতামত
আছে কিনা তা একেবারেই অগ্রাহ্য।
এজন্য ৭০ পরবর্তী সব নির্বাচিত
বা অনির্বাচিত সরকার একবারের
বেশি টিকে থাকতে পারেনি,জনগন
থাকতে দেয়নি।কারন ক্ষমতার
লোভ,বাড়াবাড়ি ইত্যাদির
কারনে জনমনের আস্থা হারানো।কেউ
যদি কোন বিপরীত দলের কোন জীবিত
বা মৃত ব্যক্তির প্রতি কোনরকম শ্রদ্ধাবোধ
বা সহমর্মিতা দেখিয়েছে তবে তাকে সেই
দল থেকে বহিষ্কৃত করা হয়েছে,বেইমান
খেতাব দেয়া হয়েছে।
এই কয়েকদিন আগের কথা,এক
বাচ্চা মেয়ের প্রশ্নের উত্তর
খুঁজতে যেয়ে ভারতের সব
সরকারি নথিপত্র খোঁজা হলো, প্রশ্ন ছিল
মহাত্মা গান্ধীজী ভারতের জাতির
পিতা কিনা? কোথাও
খুঁজে পাওয়া গেল না বটে কিন্তু
এনিয়ে কোন রাজনৈতিক
অপচর্চা হয়নি। ভারতে যে দলই ক্ষমতায়
আসুক না কেন,সরকারি কোন দলিল
বা স্বীকৃতি না থাকা সত্যেও
গান্ধীজী কে ভারতীয় জাতির
পিতা মানেন।কারন, মানুষ
তাকে ভালবাসত,এখনও বাসে।
তিনি দেশকে পরাধীনতার শৃঙ্খল
থেকে মুক্ত করতে চেয়েছেন,ক্ষমতায়
উপবিষ্ট হতে চাননি।স্বাধীন দেশের
ক্ষমতাও তিনি নেননি।
পক্ষান্তরে আমাদেরকে আদালতের
আশ্রয় নিতে হয়,আমাদের
বাঙালি জাতির পিতা কে?
স্বাধীনতার ঘোষক কে? এইসব প্রশ্নের
সমাধানের জন্য।কারন,সেই ক্ষমতার
লোভ।পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহমর্মিতার
অভাব ইত্যাদি। এইতো গেল দু-তিন দিন
আগে শ্রীলঙ্কায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন
হয়ে গেল,টের পেয়েছেন?
বৈধমেয়াদের দুবছর পূর্বেই
রাজা পাকসে ক্ষমতা হস্তান্তর
করলেন,কোন হানাহানির
ঘটনা শুনেছেন?
কিন্তু জাতি হিসেবে আমরা সত্যিই
বিরল। বিরোধী দলের কথা বাদই
দিলাম,স্বার্থসিদ্ধির জন্য আমরা নিজ
দলের নেতা,কর্মী, সমর্থকদের
হত্যা করতেও পিছপা হইনা।এরমধ্যে কত
মেধাবী মুখও যে হারিয়ে যায়,তার
হিসেব সংসদের
চেয়ারে বসে থাকা ঐ
লোকগুলো রাখেনা।
এরপর আবার হরতাল-অবরোধ তো আছেই।এই
টার্ম গুলো বিরোধী দল গুলোর
কাছে খুবই পপুলার, অনেকটা উতসবের মত
করে তারা এগুলো পালন করেন।আজ
যারা ক্ষমতায় তারা হরতাল
বিরোধী বিবৃতি দেন,বলেন
এগুলো অসাংবিধানিক। আবার তারাই
যখন ক্ষমতা হারান,তখন তারাও একই
রং দেখান। হরতাল তখন তাদের
প্রতিবাদের ভাষা, আনন্দ উতসবের বিষয়।
মাঝখানে জনগন হলো গিনিপিগ। আর
আমি বা আমার মত ছাত্রদের সেশনজট।
ইতিমধ্যেই প্রায় আট মাসের মত
ফেঁসেছি।রাজনীতি মুক্ত
ক্যাম্পাসে ভর্তি হয়েছিলাম
যাতে সেশনজট না হয়,ঠিকসময় বের
হয়ে ক্লান্ত পরিশ্রান্ত বাবার
কাঁধে হাত
রেখে বলতে পারি,"আব্বু,এবার আপনার
রেস্ট।" কিন্তু তা আর হলো কৈ?
এই অসুস্থ রাজনীতির এবার অবসান
হওয়া উচিৎ।
কলুষিত রাজনীতি মুক্ত একটা সকালের
অপেক্ষায়,
মাহবুব,
পি.এম.ই. ৪র্থ বর্ষ,
যবিপ্রবি।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সামু একটি ছোট নৌকা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৫



একটা ছোট নৌকা, পাল তুলে, পাড়ি দিচ্ছে -
অন্তহীন তারার রাস্তা পেরিয়ে।
পেরোচ্ছে গ্রহ, ধূমকেতু, ছুটন্ত আগুনের টুকরো,
দূরে কোথাও ধাক্কা লাগে, তারপর শব্দটা মিলিয়ে যায়।
ধীরে, খুব ধীরে এগোয় নৌকা;
তবু এগোয়।

নৌকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোর্টাল – ২ গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৭


তখন বেশ ঠান্ডা পড়ে গেছে। সেপ্টেম্বরের রাত।
বরফ পড়া শুরু হয়নি। মন্ট্রিয়লের রাস্তা জনাকীর্ণ। বাড়ি থেকে বের হলে কো-দ্যেনিশ রাস্তার শেষ প্রান্তে একটা লাইব্রেরি আছে। তার পরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে ১০ টি বছর পার করলাম

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:০২



ব্লগে ১০ বছর পার করে দিলাম। কত সময় কেটে গেছে এখানে, কত পরিচিত মুখ রয়ে গেছে এখানে। তবুও ভালোবাসার বন্ধন যেন শেষ না হয়।

যে কবিতাটা দিয়ে ব্লগিং শুরু করেছিলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহকে জানতে হলে পাকিস্তান আন্দোলনের ইতিহাস জানতে হবে। পর্ব-১

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৩



পাকিস্তান সৃষ্টির বছরখানেক আগে ১৯৪৬ সালে বোম্বে শহরের দুই নামকরা পার্সি ডাক্তার বুঝতে পেরেছিলেন যে ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং আইনজীবী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর আয়ু আর বেশিদিন নেই। ডা.... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ ডিসেম্বর ১০-১৬: বিশ্ব বাংলাদেশকে নিয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ছিল

লিখেছেন কলাবাগান১, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:১১


লিখা টির ইতিহাস ভিত্তিক ইনফো এআই থেকে সংগৃহীত

আমরা সবাই জানি যে ১৯৭১ সনের ১৬ই ডিসেম্বর বিকেলে পাকিস্হান হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পন করে মিত্রবাহিনীর কাছে। কিন্তু আমরা অনেকেই হয়তো জানি না,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×