somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যে চিঠি কখনোও তোমার কাছে পৌছাবেনা

১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৩ রাত ১১:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কেমন আছ? ভালো আছ নিশ্চয়ই।ভালো তো থাকারই কথা। তুমি না ভালো থাকলে আর কে ভালো থাকতে পারে? তোমার আশেপাশে অনেক মানুষ- যারা তোমার জন্য পাগল হয়ে থাকে।তোমার মন যদি কোনোদিন খারাপ থাকে, তারা সবাই আসবে মন ভালো করতে। তুমি পানিতে ডুব দিলে তারাও তোমার সাথে ডুব দেবে। একদিন আমিও তাদের দলে ছিলাম।একদিন আমিও তোমার কাছে ছুটে আসতাম, তোমার মন ভালো করার জন্য।
মনে আছে একদিন কি বলেছিলাম তোমাকে। বলেছিলাম, তুমি যদি চাঁদ হও আমি সূর্য হব তোমার আলোকে আরোও উজ্জ্বল করে দেব এই শরীর থেকে।
মনে কি পরে একদিন জ্যোৎস্না রাতে আমি তুমি হাত ধরাধরি করে হাটতেছিলাম। রাস্তায় অনেকেই ছিল, আমাদের দিকে তাকিয়েছিল। কেউ হিংসার চোখে, কেউ অবাক হয়ে-গর্বে যেন বুকটা ফুলে উঠেছিল সেদিন। সেদিন তোমার কি রকম লাগছিল জানিনা, তবে আমার মনে হচ্ছিল আমি যেন পূর্ণিমার চাঁদ হাতে পেয়েছি- সেই চাঁদ যেন আকাশের ঐ চাঁদ থেকে আরোও উজ্জ্বল আরোও কমনীয়।
সেই রাতটি ছিল আমার জীবনের একটি আনন্দময় রাত। সেই রাতেই তো.......হ্যা সেই রাতেই তুমি আমাকে কথা দিয়েছিলে আমার সাথে তুমি সারাজীবন থাকবে। কোথাও তুমি যাবেনা আমাকে ছাড়া।
আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখ আজও পূর্ণিমা। সেই চাঁদটার দিকে তাকিয়ে দেখো। তোমার কী সেই প্রতিজ্ঞার কথা মনে পড়ে না?
মনে আছে কি আমার সামনেই এক ছেলে তোমাকে প্রোপোজ করে। তাকে আমি চিনতাম। এক ধনীর ছেলে সে। তবে একথা তোমাকে বলিনি। বরং তার নামে আমি দূর্নাম করেছিলাম। মনে হয়েছিল তুমি যদি তার প্রেমে পড়ে যাও। সেদিনি তোমার প্রতি একটা ঈর্ষা জন্মেছিল আমার মনে। তবে সেই সাথে তোমাকে আরোও আপন করে নিয়েছিলাম। তোমাকে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম হৃদয়ের আরোও গহীনে।
আমি কিন্তু এমন ছেলে ছিলাম না-যে এতো তারাতারি কারোও প্রেমে পরে যায়।আমি তথাকথিত প্রেমিক ছেলে হিসেবে নিজেকে কখনোও ভাবতামনা। নিজেকে আলাদা মনে হতো। বন্ধুরা সব আমার জন্য গার্লফ্রেন্ড খোজায় ব্যাস্ত ছিল। অথচ তোমাকে প্রথম দিন দেখার আমার সব আলাদা মনোভাব কোথায় যেন উড়ে চলে গেল। জানি তুমি সেদিন আমাকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে বিরক্ত হয়েছিলে।
তারপর একদিন আমার বাসায় আসলে। আমি চমকে উঠলাম ব্যাপার কি? কোনো কারনে বিচার দিতে নয়তো? তারপর বুঝলাম আমার আম্মুকে তুমি আগে থেকে চিনো। সেদিন কথা বলেছিলাম মন খুলে তোমার সাথে। এবং সেই কথা ছিল পরিচয়ের প্রথম কথা।
আরেকদিন আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম এক ব্রীজে র‍্যালিঙ্গের উপর তুমি চিৎকার করে বললে, পড়ে যাবে তো! আমি তখন বলেছিলাম আমার মন খারাপ। কিসের জন্য মন খারাপ তা আর তোমাকে বলিনি। তুমি আনেকবার জিজ্ঞেস করেছিলে তাও বলিনি
আজ আমি তোমাকে বলব। সেদিন বাজারে একা একা অলসভাবে হাটার পথে এক জ্যাতিষীকে পেলাম। আমাকে দেখে সে বলল যে আমার যদি কোনো গার্লফ্রেন্ড থাকে তার সাথে নাকি আমার সম্পর্ক আর বেশিদিন টিকবেনা। এইসব কথা আমি কোনো দিনও বিশ্বাস করিনি। তাই তার কথা শুনে হাসতে হাসতে চলে আসলাম। কিন্তু পরক্ষনেই মনে হলো যদি সত্য হয়ে যায়? আমার মনে হয়েছিল তোমাকে আমার ধরে রাখতে হবে। নাহলে আমি আর বাচতে পারবোনা।
সত্যিই তুমি চলে গেলে কিছু না বলেই কোনো কারন না দেখিয়েই, রেখে গেলে এক চরম হতাশা মধ্যে।
কই আমি আজও বেচে আছি। ভালোভাবেই বেচে আছি। শুধু তোমার কথা মনে পরলে বুকের কোনো এক জায়গায় চিনচিনে ব্যাথা করে। আমি জানিনা কিষের ব্যথা সেটা।
হয়তো আজ আমার জায়গায় অন্য কেউ। আমদের দুজনার আপন করে নেওয়া রাস্তায় অনাহূত অতিথির মতো আরোও একজন যাকে তুমি আপন করে নিয়েছো। আজ আমি আসলে বুঝি বাস্তবতাটা কি জিনিষ। তাই তোমার জন্য আর কখনোও উন্মুখ হয়ে থাকিনা। শুধু একটাই প্রশ্ন আমার, আমার কথা কি তোমার একদম মনে পড়ে না? নাকি মনে পড়ে গেলে ভুলে যেতে চাও।

বিঃদ্রঃ নিছক একটি কাল্পনিক গল্প। বাস্তবতার সাথে কোনো মিল নেই
গল্পটি অনেক আগের লেখা। এই ব্লগেই অন্য আইডি দিয়ে পোস্ট করছিলাম। কিন্তু ঐ আইডি ব্লক হয়ে গেছে। সম্ভবত আর ফেরত পাবনা। অনেকবার অভিযোগ করছি। কিন্তু কাজ হয়নি। তাই আবার এখানে দিয়ে দিলাম :/
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পতাকার যুদ্ধ অথবা গামছা ও কালিমা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৪০

একটি দেশের পতাকা শুধু কাপড় নয়। এটা একটি চুক্তি—আমরা কে, এই প্রশ্নের সম্মিলিত উত্তর। বাংলাদেশের পতাকার রং লাল-সবুজ। লাল মানে রক্ত, সবুজ মানে মাটি। এই দুটি রঙের পেছনে একটি নির্দিষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

কি করে কি করি, কি যে করি !

লিখেছেন মেহবুবা, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:০৫




আজ বেশ ক'দিন হোল আমার ব্লগবাড়িতে জ্বীন ভূতের কারসাজি চলছে! আধা পৃষ্ঠা জুড়ে কয়েকটি পোষ্ট আসছে, সব আসছে না।নিজ ব্লগবাড়িতে কত কি আয়োজন থাকে ; যেমন মন্তব্য,... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ সালের আন্দোলনরত HSC শিক্ষার্থীদের ধিক জানাই

লিখেছেন অপলক , ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:২০



দেশের কমপক্ষে ৬ টি জেলায় উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বাতিল ও স্থগিতের জন্যে আন্দোলনে নেমেছে। এরা হল লীগ সরকরারের শিক্ষা ব্যবস্থায় বেড়ে ওঠা তরুন তরুনী, যারা পড়ালেখা না... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোলাপানগুলো এত আন্দোলন বুঝে!

লিখেছেন শূন্য সারমর্ম, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৫৫




পড়াশোনার টেবিল আজকাল অন্যকাজে ব্যবহার হয়, হয়তো ঐখানে বিপ্লবের লাল রং আছে শুধু। লেনিনের রক্ত, গুয়েভারার চুরুট নিয়েও আগ্রহ নেই তাদের, আছে শুধু মহাসড়ক অবরোধ, মিলনকে থাপরাড়োর অদম্য প্রয়াস,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারত কোন ভাবেই স্বাধীনতার জন্য বাংলাদেশে সৈন্য পাঠায়নি!!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:২৬


ভারত কোন ভাবেই বাংলাদেশ স্বাধীন করার জন্য সৈন্য পাঠায়নি! সৈন্য পাঠিয়েছিল পাকিস্তানকে বিভক্ত করতে ও তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানকে লুটপাট করার উদ্দেশ্যে। প্রতিবেশি দূর্বল হলে দাদাগিরি করতে পারবে এটাই ছিল ইন্দ্রিরাগান্ধির ভিষন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×