somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"যেই লাউ সেই কধু"

০১ লা এপ্রিল, ২০১৭ রাত ৮:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ফার্মগেট,যাকে বলে রাজধানীর রীতিমত ভয়ংকর ঘনবসতি পূর্ণ এলাকা।এলাকাটা যেন হঠাৎ করেই একটা থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।ফুটপাত গুলোতে টং দোকানগুলো উচ্ছেদ এবং লেগুনা চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।নেই কোন গ্যাঞ্জাম,যায়ঝামেলা।আছে মানুষের বাস,লেগুনা না পাওয়ার হয়রানি।‘সমাজের বৈষম্য নিরসনের মাধ্যমে সবার মর্যাদা ও মঙ্গল সাধন’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) ১৩৬তম সম্মেলন উদ্বোধন করার ফলে খড়ায় ডুবেছে এসব লেগুনা পার্কিং,টং দোকান গুলো।
বলা হচ্ছে নিরাপত্তা জনিত কারণে উচ্ছেদ করা হয়েছে টং দোকানগুলো, বন্ধ করে দেয়া হয়েছে লেগুনা ।সেগুলো অবস্থান করছে আপাতত ইন্দ্রিরা পার্কে।
প্রতিপাদ্য বিষয়টি যখন "সমাজের বৈষম্য নিরসনের মাধ্যমে সবার মর্যাদা ও মঙ্গল সাধন" তখন টং দোকান এবং লেগুনা বন্ধ করে দেয়ায় প্রতিপাদ্য বিষয়টিকে একটু আলাদা ভাবে চক্ষুসম্মুখে আনার চেষ্টার অভিপ্রায় আরকি? তা ছাড়া কিচ্ছু না।
সমাজের বৈষম্য নিরসনের মাধ্যমে সবার মর্যাদা ও মঙ্গল সাধনটা কি আদৌ সম্ভব কিনা প্রশ্নটা কিন্তু থেকেই যাচ্ছে।টং দোকান এবং লেগুনা চালক এদের উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে এগুলো করে খেয়ে দেয়ে বেঁচে থাকা।হয়তো একদিন দুইদিন চলতে পারবে তারা। তারপর তাদের অবস্থা সূচনীয়ই বটে।কই রাখা হচ্ছে বৈষম্য নিরসনের মাধ্যমে সবার মর্যাদা কই রাখা হচ্ছে তাদের মঙ্গল সাধন।
অন্যদিক দিয়ে চিন্তা করলে দেখা যায়, মানুষ অভ্যাসের দাস।যেভাবে চালানো হয় সে ভাবেই চলবে তাদের।যদি টং দোকান এবং লেগুনা চালকরা উপার্জনের পন্থা হিসেবে এগুলো বেছে না নিতো তাহলে অবশ্যই তাদের অন্য কোন পন্থায় উপার্জন করতে হতো।সেভাবেই তারা গড়ে উঠতো। দিব্যি তাদের ভালোভাবেই সংসার চলে যেত।
ফুটপাতের দখল নিয়ে চলে অনেক রাজনীতি চলে।বড় বড় দাউর নেতা ফেতারা টং দোকান এবং লেগুনা চালকদের উপরে চান্দা আরোপ করে নাকি তাদের ছেলেমেয়েদের বিদেশে লেখাপড়া করায়,দালালরা দালানের উপর দালান তুলে ।
আমার প্রায় নিয়মিতই লেগুনাই যাওয়া আসা হয়...ফার্মগট টু ধানমন্ডি ১৫।তাদের ভাড়া বেশি নিয়ে কিংবা উপুর্যপুরিসরে ঝুইল্লা যাওয়া ব্যক্তিকে নিয়ে যখন প্রশ্ন করা হয়।বাক্যস্ফীত উত্তরে তারা বলে "মামা কি করুম কন... আইতে যাইতে যে চান্দা দেই,হারাদিন কামায় করে থাকে আর কয় টাকা।পরিবারে ম্যালুক আছে,পয়পুলাহান আছে...হ্যাগো নিয়া চলমু কেম্নে আফনেই কন"।লেগুনা চালকরা ভাইঙ্গাচুইরা যে গতিতে লেগুনা চালায় ,সেই গতি "গাড়ি রেস" খেলায় ব্যবহার করা হয় কিনা সন্দেহ আছে।
আর টং দকনগুলোতে সারাদিনই দেখি উপচে পরা ভিড়।খাবার গুলো ঠিকমতো ডেকে রাখা হয় না।খোলাখাবার মানহীনতা চূড়ান্ত, চোখেপড়ার মতো।গাড়ির দূলাবালি, খাবার গুলোতে অচিরেই ঠাঁই করে নেয় ।এই খাবার গুলো অত্যন্ত নিম্নমানের।তবুও মানুষ মুখ পুড়ে খাচ্ছে।এর পার্শপ্রতিক্রয়া অত্যন্ত ভয়াভহ তা কিন্তু আন্দাজ করাই যায়।
বাইচ্ছা লন বিশ...দেইখা লন বিশ... এক দাম বিশ... এসব হকারের দোকানগুলোও উচ্ছেদের কবলে।তাদের বলা হয় প্রকাশ্য ছিনকারী।নিম্নমানের কাপড় কিংবা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র উচ্চমানের দাম নেয় ক্রেতাদের কাছ থেকে।ছিটারি বাটপারির আখড়া বলা চলে।
ফুটপাতের টং দোকান, হকার এবং অনিয়ন্ত্রিত বেমান লেগুনা পার্কিং বন্ধ করে দেয়ায় সাবলিল হয়েছে মানুষের চলাচল আর পরিবেশটাও ভালো দেখাচ্ছে।একটা শান্তি শান্তি পরিবেশ বিরাজ করছে।

আবার বলা হচ্ছে.. . এটা ৬দিনের মামলা মাত্র।৬দিনের পর মামলা খালাস ।তারপর আবার "যেই লাউ সেই কধু"!!!!!

মুদ্দাকথা দাড়াচ্ছে...
১।মানুষের হাটাচলার জন্য ফুটপাত তৈরী করে সেই ফুটপাত দখল করে মানুষের চলাচলে ব্যাঘাত!!!.
২।অনেক সময় দূঘর্টনার কারণও এই ফুটপাত দখল।
৩।অনেকের রুজিরোজগার এই ফুটপাতকে অবলম্বন করে। দালালরা দখল করে তাদের বসার সুযোগ করে দিচ্ছে।তা না হলে তো তারা বিকল্প পন্থা অবলম্বন করে উপার্জন করতেই হতো।

প্রতিপাদ্য বিষয়টি মাথায় রেখে...প্রতিকী স্বরূপ না রেখে প্রতিফলিত করাটাই বাঞ্চনীয় বটে।।।।।

সর্বশেষ এডিট : ০২ রা এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১২:২১
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

শরিয়াতন্ত্রের নিষ্ঠুরতা, ধর্মীয় উগ্রবাদ ও নৈতিক দেউলিয়াপনা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৭


পৃথিবীজুড়ে মুসলমানদের প্রতি ঘৃণা বাড়ছে। এই বিদ্বেষ শুধু ইসরায়েল বা তার পৃষ্ঠপোষক ডানপন্থী দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কানাডার মতো তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী এবং ফিলিস্তিনের প্রতি জোরালো রাজনৈতিক সমর্থন থাকা আয়ারল্যান্ডের মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দিল্লির রাজপথে তরুণদের ‘জেনজি ২.০’ অভ্যুত্থান এবং বাংলাদেশের জুলাই-পরবর্তী রূপান্তরের নির্মম বাস্তবতা

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৩৮

ভারতের রাজধানী দিল্লির বুকে যা ঘটে গেল, তা সাম্প্রতিক ইতিহাসে সত্যিই অভূতপূর্ব। ভারতের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা ও এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে ‘তেলাপোকা’ বা ককরোচ জনতা পার্টির... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিমানবন্দরে নির্ঘুম রাত (সাময়িক পোষ্ট)

লিখেছেন কাছের-মানুষ, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৭

আমার এখানে বাজছে রাত প্রায় দুটা! এখনো জেগে আছি। জেগে থাকার শানে নুযুল হলো, আমি অনেকটা ফাইসা গেছি! হায়দার সাহেবের গানের মতো, "আমি ফাইসা গেছি, আমি ফাইসা গেছি মাইনকা চিপায়!"... ...বাকিটুকু পড়ুন

×