
আমাদের মনমানসিকতায় ধরাকে সরা জ্ঞানে যেন অব্যস্থ।চট করেই রেগে যাওয়া,হুট করেই ক্যাচাল করায় ন্যাস্ত।একটু সময় নিয়ে,একটু ভেবে যদি যেকোন কাজ করি তাহলে কাজটা টেকশই ফলপ্রুস হওয়াটাই স্বাভাবিক ।আমাদের মাঝে অস্বাভাবিক কিছু করার তাড়না বেশী।যেটা বুঝিয়ে বললে সহজেই মিটে যায়,সেটা না বুঝিয়ে জটিল করার প্রকিয়ায় ব্যস্ত হয়ে উঠি।
আমাদের উপভোগ,উপলব্ধি করার মনমানসিকতা নিন্তাত্যই তলানীতে।পৃথিবীতে সবকিছুতেই উপভোগের একটা জায়গা থাকে,সেই জায়গাটা দিন দিন সংকুঞ্চিত হচ্ছে।দিনকেদিন একঘেয়েমি,একতরফা ভাবে নিজে যা বুঝি সেই বুঝাটাকেই বড় মনে করি।এর বিপরীতে ভালো তথ্য আছে,ভালো উপকরণ আছে ভালো সমাধান যে আছে,সেটা মানতে নারাজ।
আমাদের মাঝে কোন এক বিচিত্র কারণে অবাক হওয়া ব্যাপারটার বিলুপ্তি হচ্ছে।আমরা চারপাশে অবাক হয়ে যাওয়ার অসংখ্য উপঢৌক্ষণ আছে কিন্তু উপভোগ,উপলব্ধিতে ঘুণে ধরেছে।
এই ধরা যাক গণপরিহনে আমাদের নিয়মিত যাতায়াত।আমদের জ্যামে বসে থাকা নিত্যনৈমিত্তের ব্যাপার।ছোট দেশ,ছোট মাথা সাথে অধিক জনসংখ্যার ঘনত্ব,অধিক দূর্নীতিগ্রস্তে বিধস্ত। আমাদের জ্যামে বসে থাকতেই হবে এটাই নিয়ম হয়ে দাড়িয়েছে।জ্যাম কিন্তু একদিকে ধৈর্যশীল হতে শিখায়।তারচেয়ে বড়কথা জ্যামকে কিভাবে মানিয়ে নেয়া যায় উপভোগ,উপলব্ধির মাধ্যমে।জ্যামে থাকলে আমরা জানালা দিয়ে ট্রাফিক দেখতে পারি মানুষের রাস্তাপারাপার দেখতে পারি।একটু উপভোগের কৌশলে ।মনমানসিকতা পরিবর্তন,পরিচর্যার মাধ্যমে।
ন্যায্য,ন্যায়কে...অন্যায্য,অন্যায় করলে অগ্রহণযোগ্যই বটে, তাই বলে বাসের হেল্পারকে কষে থাপ্পর দেয়া,চড়াও হয়ে কথা কাটাকাটি করে সারাদিন খিটখিটে মেজাজে থাকার কোন মানেই হয় না।
আমরা অল্পতে সন্তুষ্ট নয় ।আমাদের খাই খাই স্বাভাব।আমার যতটুকু আছে এতেই যে আমি অন্যদের চেয়ে ভালো আছি,সুখে আছি।সেদিকে দৃষ্টিভঙ্গি,কর্ণপাত দেয়ার সময় আমাদের নেই।আমরা উপরে উঠতে ব্যস্ত, নিচের দিকে ফিরে তাকানোর এতো সময় আমাদের নেই।আমারা কেনোজানি নিরর্থক আশায় মশগুল হয়ে আকাশ ছুতে চায়।সীমাহীন আকাশের সীমানা মাপতে চায়।যা নিন্তাত্যই নিরর্থক চাহিদা।
আমরা উপভোগ উপলব্ধির জায়গা সংকুঞ্চিত না করে এর ডালপালা ছড়িয়ে দিয়ে,যে,যে জায়গাতেই যতটুকু করে থেমে গেছি ততটুকু সাফল্য বলে জ্ঞাপন করে আত্নতৃপ্তির স্বাদ নিতে শিখি।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মে, ২০১৭ ভোর ৪:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



